Tokyo Paralympics : কিংবদন্তি বিন্দ্রাকে আদর্শ করা থেকে গর্বের সোনা, অবনীর উত্থানের কাহিনি এক নজরে

টোকিও প্যারালিম্পিকে সোনাজয়ী শুটার অবনী লেখারার জীবন ও সাফল্য সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

টোকিও প্যারালিম্পিক থেকে প্রথম সোনা জয়ের স্বাদ পেয়েছে ভারত। মহিলাদের ব্যক্তিগত শুটিং ইভেন্টে বিশ্ব রেকর্ড ছুঁয়ে ইতিহাস রচনা করেছেন অবনী লেখারা। সোমবার মহিলাদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেল স্ট্যান্ডিং এসএইচ ওয়ান ইভেন্টে ২৪৯.৬ স্কোর করে দেশের প্রথম মহিলা অ্যাথলিট হিসেবে অনন্য নজির গড়েছেন ১৯ বছরের প্যারা শুটার। যার লক্ষ্যপূরণের যাত্রা শুরু হয়েছিল ছয় বছর আগে। কার অনুপ্রেরণায় কীভাবে নিজেকে তিল তিল করে গড়ে তুললেন অবনী, তা জেনে নেওয়া যাক।

অভিনব বিন্দ্রাই আদর্শ

অভিনব বিন্দ্রাই আদর্শ

২০০৮ সালের বেজিং অলিম্পিকে শুটিং ইভেন্টে সোনা জিতে ইতিহাস রচনা করেছিলেন অভিনব বিন্দ্রা। দেশের প্রথম অ্যাথলিট হিসেবে ব্যক্তিগত ইভেন্টে প্রথম হয়ে তিনি পরবর্তী প্রজন্মের সামনে দৃষ্টান্ত খাড়া করেছিলেন। সেই সময় ছয় বছরের অবনী বুঝতে পারেননি বিন্দ্রার ওই পদকের গুরুত্ব। পরে দেশের কিংবদন্তি শুটারের জীবনী নিয়ে একটি বই প্যারা অ্যাথলিটের হাতে এসে পড়ে। সেখান থেকেই অবনীর জীবন অন্যখাতে বইতে শুরু করে জানা যায়। বিন্দ্রাকে আদর্শ মেনে বড় হয়ে ওঠা প্যারা শুটারের জীবনের উত্থান ভারী চমকপ্রদ।

অবনীর জীবনযুদ্ধ

অবনীর জীবনযুদ্ধ

রাজস্থানের জয়পুরের বাসিন্দা অবনী লেখারার জন্ম ২০০১ সালের ৮ নভেম্বর। জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন না এই তরুণী। ২০১২ সালের এক দুর্ঘটনায় তাঁর নিম্নাঙ্গ অসাড় হয়ে গিয়েছিল। মাত্র ১১ বছর বয়সে চলার শক্তি হারিয়ে হুইল চেয়ারের আশ্রয় নিতে হয়েছিল অবনীকে। শুরুর দিকে কষ্ট হত। বাকিদের এগিয়ে যাওয়া দেখে মন ভেঙে যেত অবনীর। পাশে দাঁড়িয়েছিল পরিবার। হুইল চেয়ারে বসেও যে বিশ্বজয় করা যায়, তা বাবার কাছ থেকে শিখেছিলেন রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের ছাত্রী। সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল অবনীর জীবন সংগ্রাম। অতি বন্ধুর পথ ধরে একটা একটা করে হার্ডল তিনি পেরিয়েছেন সন্তর্পণে। পাহাড়প্রমাণ চ্যালেঞ্জকে মনের জোরে উড়িয়ে নিরলস পরিশ্রম ও একাগ্রতায় ভর করে টোকিও প্যারালিম্পিকে সোনা জিতে ইতিহাস গড়েছেন ১৯ বছরের অবনী লেখারা।

বাবার অনুপ্রেরণায় ক্রীড়ায়

বাবার অনুপ্রেরণায় ক্রীড়ায়

স্কুলে পড়াকালীন বাবার পরামর্শেই প্যারা অ্যাথলেটিক্সের সঙ্গে পরিচয় ঘটেছিল অবনী লেখারার। একই সঙ্গে শুটিং ও তিরন্দাজির তালিম নিতে শুরু করেছিলেন জয়পুরের তরুণী। অচিরেই দুটি ক্রীড়াতে তিনি দক্ষ হয়ে ওঠেন। তবে শুটিংয়ের জন্য অমোঘ টান অবনীকে তিরন্দাজির থেকে বিচ্ছিন্ন করেছিল। ২০১৫ সাল থেকে কেবল শুটিংয়ের অনুশীলনই করে গিয়েছেন টোকিও প্যারালিম্পিকে সোনাজয়ী ভারতীয়। অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকের অধীনে জয়পুরের জগৎপুরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে নিজেকে তৈরি করেন অবনী। অবশেষে স্বপ্নপূরণ হয়েছে তাঁর।

করোনা ভাইরাসের প্রভাব

করোনা ভাইরাসের প্রভাব

করোনা ভাইরাসের জেরে এক বছরের জন্য পিছিয়ে যায় টোকিও প্যারালিম্পিক। সেই সময় মানসিক স্থিতি ধরে রাখা যে মুশকিল ছিল, তা স্বীকার করেছেন অবনী লেখারা। অতিমারীর সময়ে অনুশীলনের ঘাটতিতেও উদ্বেগ বেড়েছিল ভারতীয় প্যারা শুটারের। তবে সে সবের মধ্যে নিজের ফোকাস দুর্দান্তভাবে ধরে রেখেছিলেন অবনী। টোকিও প্যারালিম্পিকের জন্য তিনি গত পাঁচ বছরে তিল তিল করে নিজেকে গড়েছেন। বাবা ও মায়ের সমর্থন ছাড়া এই উচ্চতায় পৌঁছনো যে তাঁর পক্ষে সম্ভব হতো না, সে কথাও স্বীকার করেছেন অবনী। পরিশেষে জানিয়েছেন যে পরিশ্রমের কোনও বিকল্প হয় না। নিজের প্রতি আস্থা রেখে প্রতিযোগিতায় ১০০ শতাংশ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও জানিয়েছেন প্যারালিম্পিকে সোনাজয়ী দেশের প্রথম মহিলা শুটার।

ছবি সৌজন্যে এএনআই টুইটার

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+