টোকিও অলিম্পিকের সব ইভেন্টে শুটারদের ব্যর্থতার ময়নাতদন্তে জাতীয় রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন
টোকিও অলিম্পিকের সব ইভেন্টে শুটারদের ব্যর্থতার ময়নাতদন্তে জাতীয় রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন
দ্য গ্রেটেস্ট শো অন দ্য আর্থে শুটারদের ব্যর্থতায় হতাশ গোটা দেশ। টোকিও অলিম্পিকে যাঁদের পদক জয়ের অন্যতম আশা ভাবা হয়েছিল, সেই সৌরভ চৌধুরী, মানু ভাকের, অভিষেক ভার্মাদের পারফরম্যান্স হতাশ করেছে দেশের ক্রীড়া মহলকে। হতাশ হয়েছে ন্যাশনাল রাইফেল ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া। এই ব্যর্থতার কাটাছেঁড়া শুরু করতে চলেছে তারা।

টোকিও অলিম্পিকে ভারতীয় শুটারদের ব্যর্থতা
গত পাঁচ বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাড়া জাগানো ভারতীয় শুটারদের টোকিও অলিম্পিকে দেশের পদক জয়ের অন্যতম আশা হিসেবে দেখা হয়েছিল। সে অনুযায়ী পারফরম্যান্স করতে পারেনি দল। প্রত্যাশার পাহাড়ের নিচে চাপা পড়ে গিয়েছেন অনভিজ্ঞ সৌরভ চৌধুরী, মানু ভাকেররা। ১০ মিটার এয়ার পিস্তল ও রাইফেল ইভেন্টের ব্যক্তিগত ক্যাটেগরি তো বটেই, মিক্সড বিভাগে পদক তো দূর, ফাইনালেও উঠতে পারেননি দেশের শুটাররা। স্কিট শুটিং ইভেন্টেরও যোগ্যতা অর্জন পর্বে হার হয়েছে ভারতীয় শুটারদের। এই ঘটনা হতাশ করেছে দেশকে। হতবাক হয়ে গিয়েছে ভারতের জাতীয় রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন।

১৯৯৬ সালের পর প্রথম ঘটল এমন ঘটনা
অলিম্পিকে ভারতীয় শুটারদের এমন ব্যর্থতা গত ২৫ বছরেও দেখা যায়নি। ১০ মিটার এয়ার রাইফেল এলং পিস্তলের ব্যক্তিগত ইভেন্টের ফাইনালে পৌঁছতে পারেনি ভারত, এমন ঘটনা ১৯৯৬ সালের অলিম্পিকের পর থেকে আর ঘটেনি। তাই টোকিওর ফলাফলে কিছুটা হলেও হতাশ হয়েছে জাতীয় রাইফেল ফেডারেশন। চলতি গেমসে আরও দুটি ইভেন্টে অংশ নেবেন ভারতীয় শুটাররা। তার ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন এআরএআই।

কী বললেন রনিন্দর সিং
টোকিও অলিম্পিকে ভারতীয় শুটারদের এহেন ব্যর্থতার জন্য কোনও অজুহাত দিতে চান না ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার প্রধান রনিন্দর সিং। বক্তব্য, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ সহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট থেকে পদক আনা ভারতীয় শুটাররা টোকিওয় পৌঁছে কেন ব্যর্থ হলেন, তা বুঝে ওঠাই সম্ভব হচ্ছে। এই হারের কারণ অনুসন্ধান করা হবে বলে প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন এনআরএআই সভাপতি।

শুটারদের দোষ দিতে চান না
টোকিও অলিম্পিকে এই শোচনীয় ব্যর্থতার জন্য দেশের শুটাদের কাঠগড়ায় তুলতে চান না এনআরএআই সভাপতি রনিন্দর সিং। তাঁর কথায়, মেগা ইভেন্টে অংশ নেওয়া প্রত্যেক শুটারের বয়স খুবই অল্প। এই শুটারদের মধ্যে অনেকে প্রথমবারের জন্য অলিম্পিকে খেলছেন বলেও স্মরণ করিয়েছেন রনিন্দর। আদতে মানসিক চাপের কাছেই সৌরভ চৌধুরী, মানু ভাকের, অভিষেক ভার্মারা নতিস্বীকার করেছে বলে মনে করেন এনআরএআই প্রধান। অতিমারীর আবহে শুটারদের পর্যাপ্ত সুবিধা, পরিকাঠামো এবং পরিষেবা প্রদান সত্ত্বেও টোকিওর ফল কেন এমন হল, তা খতিয়ে দেখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রনিন্দর।

কোচিং স্টাফে পরিবর্তন?
টোকিও অলিম্পিকে এখনও শুটিংয়ের দুই ইভেন্টে অংশ নেবে ভারত। তার ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে এনআরএআই। দলের কোচিং বিভাগে কোনও পরিবর্তন আনা হবে কিনা, তা পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন রনিন্দর সিং। টোকিও অলিম্পিকের আগে ভারতীয় শুটার ও কোচের মধ্যে যে মনোমালিন্য তৈরি হয়েছিল, তা এখন আর নেই বলেও জানিয়েছেন এনআরএআই প্রধান। সর্বোপরি কোচের অযোগ্যতার কারণেই যে এমন ফলাফল, তাও মানতে রাজি নন রনিন্দর সিং।












Click it and Unblock the Notifications