Tokyo Olympics : নিজেকে প্রমাণে সোনা জিততে মরিয়া লাভলিনার মুখে বাঙালি কোচের স্তুতি
Tokyo Olympics : নিজেকে প্রমাণে সোনা জিততে মরিয়া লাভলিনা, মায়ের পাশে না থাকার আক্ষেপ
টোকিও অলিম্পিক থেকে ব্রোঞ্জ নয়, সোনা জিততে মরিয়া লাভলিনা বড়গোহাঁই। বিশ্বের সামনে নিজেকে প্রমাণ করতে এই সফলতা হাসিলের জন্য তিনি বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন অলিম্পিকে অংশ নেওয়া অসমের প্রথম মহিলা বক্সার। টোকিও পৌঁছনোর আগে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। দুর্বল হয়েছে শরীর। তবু দাপট দেখিয়ে অলিম্পিকের সেমিফাইনালে পৌঁছে দেশের জন্য অন্তত একটি পদক নিশ্চিত করেছেন লাভলিনা। নিবিড় অনুশীলনে মগ্ন থাকার কারণে অসুস্থ মায়ের পাশে থাকতে না পারার আক্ষেপ রয়েছে ভারতীয় আশার। এ লড়াইয়ে কতটা সঙ্গ দিয়েছেন লাভলিনার জাতীয় কোচ আলি কামার, তাও জেনে নেওয়া যাক।

লাভলিনার দুর্দান্ত জয়
টোকিও অলিম্পিকের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে দেশে ক্রীড়াপ্রেমীদের ধাক্কা দিয়েছিলেন মেরি কম। কিংবদন্তির শূন্যতা কিছুটা হলেও পূরণ করলেন লাভলিনা বড়গোহাঁই। ৬৯ কেজি বিভাগে দাপুটে জয় পেয়েছেন অসমের বক্সার। চাইনিজ তাইপের চেন নিয়েন-চিনকে ৪-১ পয়েন্টের ব্যবধানে হারিয়েছেন লাভলিনা। তিন রাউন্ডেই দাপট অব্যাহত রেখে তিনি সেমিফাইনালে পৌঁছেছেন। ভারতের জন্য অন্তত একটা ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেছেন বড়গোহাঁই। ফাইনালে উঠতে পারলে অন্তত রূপো নিশ্চিত করবেন অসমের বক্সার।

নিজেকে প্রমাণ করতে টোকিওয়
টোকিও অলিম্পিকের কোয়ার্টার ফাইনালে চাইনিজ তাইপের যে বক্সারকে হারিয়েছেন লাভলিনা, তাঁর কাছে এর আগের চারটি ম্যাচ হেরেছিলেন ভারতীয়। তা বলে কেবল বদলার মানসিকতা নিয়ে শুক্রবার তিনি রিংয়ে নেমেছিলেন ভাবলে ভুল হবে বলে জানিয়েছেন লাভলিনা। বক্তব্য, প্রতিশোধ নয়, বরং টোকিও অলিম্পিকের লড়াই তাঁর নিজের সঙ্গে নিজের। এই প্রেক্ষাপটে বিশ্বের দরবারে তিনি নিজেকে প্রমাণ করতে চান বলে জানিয়েছেন লাভলিনা। জানিয়েছেন যে টোকিও অলিম্পিক থেকে কেবল ব্রোঞ্জ জিতে তিনি ফিরে আসতে চান না। সোনা জিতে নিজের রাজ্য এবং দেশকে গর্বিত করাই তাঁর লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন লাভলিনা।

সেমিফাইনালে কোন রণনীতি
কোনও রাখঢাক না রেখে লাভলিনা বড়গোহাঁই জানিয়েছেন যে টোকিও অলিম্পিক টোকিও অলিম্পিক থেকে সোনা জেতার জন্য গত চার বছর ধরে পরিশ্রম করছেন। তবে শুক্রবারের কোয়ার্টার ফাইনাল জেতার জন্য তিনি আগে থেকে কোনও পরিকল্পনা করেননি বলে জানিয়েছেন লাভলিনা। সেদিন রিংয়ে তাঁর সবকিছুই ঠিকঠাকভাবে এগোতে কাজ সহজ হয়ে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন অসমের বক্সার। তুরস্কের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালেও কোনও পরিকল্পনা ছাড়াই তিনি লড়াইয়ে নামবেন বলে জানিয়েছেন লাভলিনা। দেশের মানুষের প্রত্যাশার চাপ যে থাকবে, তা ভালই জানেন লাভলিনা। তা সত্ত্বেও নিজেকে শান্ত রাখতে চান অসমের বক্সার।

লাভলিনার মুখে বাঙালি কোচের স্তুতি
টোকিও অলিম্পিকের এ লড়াইয়ের প্রতিপদে বাঙালি কোচ আলি কামার কতটা সঙ্গ দিয়েছেন, তা উল্লেখ করেছেন লাভলিনা বড়গোহাঁই। জানিয়েছেন যে কঠিন সময়ে কোচের সমর্থন তিনি পেয়েছেন। অন্যদিকে ছাত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন কামার নিজেও। জানিয়েছেন যে গত বছর করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন লাভলিনা। সুস্থ হয়ে রিংয়ে ফিরে সেভাবে সফলতা পাচ্ছিলেন না। ফিটনেস কমে গিয়েছিল। সেই সময় ছাত্রীকে মানসিকভাবে চাঙা করাই সবচেয়ে কঠিন কাজ ছিল বলে জানিয়েছেন আলি কামার। এদিকে করোনা ভাইরাসের জেরে লকডাউনে লাভলিনাকে সেভাবে অনুশীলন করাতে পারছিলেন না জাতীয় কোচ। এই অবস্থার সঙ্গে লড়াই করে অসমের বক্সার যেভাবে ফিরে এসেছেন, তাতে তিনি মুগ্ধ বলে জানিয়েছেন কোচ আলি। তাঁর কথায়, সবার থেকে আলাদা খেলেছেন লাভলিনা। তাই এই জয়। একই সঙ্গে মেরি কমের বিতর্কিত হার নিয়েও উষ্মা প্রকাশ করেছেন কামার।
ছবি সৌজন্যে ফেসবুক












Click it and Unblock the Notifications