লাল বলে ২২ গজে আগুন ঝরানো হাতই দেশের অলিম্পিকের আশা, স্বপ্ন দেখাচ্ছে তাজিন্দরের অন্য কাহিনি

লাল বলে ২২ গজে আগুন ঝরানো হাত এবার দেশের অলিম্পিকের আশা, তাজিন্দরের এক অন্য কাহিনি

এক সময় ফাস্ট বোলার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। জাতীয় দলের হয়ে ক্রিকেট খেলা ইচ্ছা বুকে নিয়ে লাল বলে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল তাজিন্দরপাল সিং তুরের। তাঁর ২২ গজের সেই লক্ষ্য পূরণ না হলেও ২২ মিটারের স্বপ্ন দেখা শুরু। নিজেরই রেকর্ড ভেঙে ভারতকে টোকিও অলিম্পক থেকে পদক এনে দিতে পারবেন কি এই শট পুটার, সেই প্রশ্নই ঘুরছে দেশের ক্রীড়া মহলে।

টোকিও অলিম্পিকে তাজিন্দর

টোকিও অলিম্পিকে তাজিন্দর

টোকিও অলিম্পিকে ভারতের অন্যতম আশা হতে চলেছেন শট পুটার তাজিন্দরপাল সিং তুর। যিনি পাতিয়ালায় হওয়া ভারতীয় গ্রাঁ পি ৪-এ ২১.৪৯ মিটার দূরত্বে লোহার বল ছুঁড়ে টোকিওর টিকিট নিশ্চিত করেছেন। অলিম্পিকে ২২ মিটারের দূরত্ব অতিক্রম করাই তাজিন্দরের লক্ষ্য। তেমনটা হলে মেগা গেমসে দেশের হয়ে তাঁর পদক নিশ্চিত বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা।

ফাস্ট বোলার হওয়ার স্বপ্ন

ফাস্ট বোলার হওয়ার স্বপ্ন

পাঞ্জাবের মোগা জেলার খোসা পান্ডো গ্রামের থেকে উঠে আসা তাজিন্দরপাল সিং তুর শৈশবে অ্যাথলিট হওয়ার স্বপ্ন থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। বরং তিনি দুর্ধর্ষ ফাস্ট বোলার হয়ে ভারতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে ভেবেছিলেন। সেই মতো নিজেই নিজের কোচ হয়ে বলের গতি বাড়ানোর চেষ্টায় জুটে গিয়েছিলেন তাজিন্দর। যে গতি নাকি ছিল ঝড়েরই মতো। ভয়ঙ্কর পেসের কারণে ক্যাম্বিস হোক বা ডিউস, তুরের বোলিং এড়িয়ে চলতেই নাকি পছন্দ করতেন তাঁর এলাকার তাবড় ব্যাটসম্যানরা। সেই তাজিন্দরের জীবন যে উল্টো দিশায় দৌড়ে টোকিও পৌঁছে যাবে, তা হয়তো অনেকেই ভাবেননি সেই সময়।

বাবার হাত ধরেই অন্য পথে হাঁটা

বাবার হাত ধরেই অন্য পথে হাঁটা

ছেলেক শারীরিক সক্ষমতা দেখে তাজিন্দরপাল সিং তুরের বাবা প্রয়াত সর্দার করম সিং তাঁকে অ্যাথলিট হওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন। সেখান থেকেই ভারতীয় শট পুটারের জীবন অন্য খাতে বইতে শুরু করে বলে জানা যায়। তিল তিল করে নিজেকে তৈরি করেন তাজিন্দর। দেশকে অলিম্পিকে প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্নে বিভোর হয়ে ওঠেন পাঞ্জাব তনয়। অনেকগুলি হার্ডেল পেরিয়ে ২০১৮ সালের এশিয়াডে সোনা জিতে ভারতকে গর্বিত করেছিলেন তাজিন্দর। ২০.৭৫ মিটার দূরত্বে তিনি লোহার বল নিক্ষেপ করেছিলেন। এখানেই থেমে না থেকে নিজের দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা চালাতে থাকেন তুর।

ছন্দপতন ও ফিরে আসা

ছন্দপতন ও ফিরে আসা

এশিয়ান গেমসে সোনা জয়ের পরেই ২৬ বছরের তাজিন্দরের জীবনে ছন্দপতন ঘটে। ক্যানসারে আক্রান্ত বাবার মৃত্যু সংবাদ পদক নিয়ে বিমানবন্দর থেকে হাসপাতালমুখী ট্যাক্সিতে বসেই পান তুর। ছেলের মেডেল ধরে দেখতে পারেননি বাবা। তবে তাজিন্দরের জয় টিভিতে দেখে আপ্লুত হয়েছিলেন সর্দার করম সিং। সেই শোকের আবহ থেকে বেরিয়ে নিজেকে অলিম্পিকের জন্য তৈরি করার কাজে নেমে পড়েছিলেন তাজিন্দর। ইতিমধ্যে চোট এবং করোনা ভাইরাসের জেরে লকডাউন তাঁর জীবন আরও কঠিন করে তোলে। অনুশীলনের অভাবে টোকিও পৌঁছনোর আশা কার্যত ছেড়েই দিয়েছিলেন তুর। কোচ মহিন্দর সিং ধিলনের অনুপ্রেরণায় তিনি ধীরে ধীরে হতাশা থেকে বেরিয়ে এসে আবার ওঠার কাজে লেগে পড়েন। সেই ২৬ বছরের অ্যাথলিটই দেশের অলিম্পিক পদক জয়ের অন্যতম আশা।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+