Tokyo Olympics : মাঠে ফসল ফলানো হাতই অলিম্পিকে পেল পদক, সংগ্রামের অন্য নাম লাভলিনা
Tokyo Olympics : মাঠে ফসল ফলানো হাতই অলিম্পিকে পেল পদক, সংগ্রামের অন্য নাম লাভলিনা
কিংবদন্তি মেরি কম ছিটকে গিয়েছেন আগেই। তবু তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করে একই ক্লাবে প্রবেশ ঘটল লাভলিনা বড়গোহাঁইয়ের। টোকিও গেমসের সেমিফাইনাল হেরেও দেশের জন্য ব্রোঞ্জ পদক জিততে সক্ষম হয়েছেন অসমের মহিলা বক্সার। যাঁর সাফল্যে মুগ্ধ হয়েছে গোটা দেশ। গোলাঘাট থেকে টোকিওর উঁচু-নিচু সফর মনের জোরে কীভাবে জয় করলেন ভারতীয় আইডল। কতটা লড়াই করে আজ এই উচ্চতায় পৌঁছলেন অলিম্পিকে অংশ নেওয়া অসমের প্রথম মহিলা বক্সার, তা দেখে নেওয়া যাক।

রথীদের তালিকায় নাম লেখালেন লাভলিনা
ভারতের তৃতীয় বক্সার হিসেবে অলিম্পিক থেকে পদক জিতলেন লাভলিনা বড়গোহাঁই। তাও আবার ব্রোঞ্জ জিতে এক বৃত্ত সম্পূর্ণ করলেন অসমের বক্সার। তাঁর আগে কিংবদন্তি মেরি কম এবং বিজেন্দ্র সিং দ্য গ্রেটেস্ট স্পোর্টিং ইভেন্ট অফ দ্য আর্থে পদক জিতেছিলেন। ২০০৮ সালের অলিম্পিকের সেমিফাইনালে হেরে গিয়েছিলেন বিজেন্দ্র। ২০১২ সালের সেমিফাইনালে হেরে গিয়েছিলেন মেরি কম। দুই তারকাই ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন। সেই তালিকায় নাম লেখালেন লাভলিনা।

কোথা থেকে শুরু
১৯৯৭ সালের ২ অক্টোবর অসমের গোলাঘাট জেলার বারোমুথিয়া গ্রামে জন্মেছিলেন লাভলিনা। তাঁর বাবা তিকেন বড়গোহাঁই একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কৃষক। যা উপার্জন করতেন, তাতে সংসার কোনওমতে চললেও মেয়ের বক্সিংয়ের খরচ সামাল দিতে তিনি নাজেহাল হতেন। তবু লাভলিনাকে উৎসাহ জুগিয়ে গিয়েছেন তিকেন। পাশে ছিলেন মা মামনি বড়গোহাঁই। লাভলিনার অন্য দুই বোন বক্সার হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও তাঁরা এতটা উচ্চতায় উঠতে পারেননি। বড়গোহাঁইয়ের স্কুলে বারপাথার হাইস্কুলে প্রতিভা অন্বেষণে এসেছিল স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া। লাভলিনাকে নির্বাচন করেছিলেন বিখ্যাত কোচ পাদুম বোরো। সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল এক নিরলস যাত্রা, কঠোর অনুশীলন। সর্বস্ব দিয়ে মেয়ের প্রতিভাকে বিকশিত করার কাজে জুটে গিয়েছিলেন বাবা তিকেন। অলিম্পিকের আগে অসুস্থ হয়েছিলেন লাভলিনার মা, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন বক্সার নিজে। তবু কোনও কিছুই লাভলিনার ইচ্ছাশক্তিকে অবদমিত করতে পারেনি।

লকডাউনে কৃষিকাজ
২০২০ সালে করোনা ভাইরাসের প্রথম ঢেউ আঁছড়ে পড়ার পর দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা হলে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছিল দেশের ক্রীড়াক্ষেত্র। ইভেন্ট তো দূর, ক্রীড়াবিদদের বাড়ির বাইরে বেরিয়ে অনুশীলনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। টোকিও অলিম্পিকের আগে যা লাভলিনা বড়গোহাঁইদের কাছে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলা চলে। পাশাপাশি নতুন শত্রু হয়ে জীবন ও স্বপ্নের মাঝে ব্যবধান তৈরি করেছিল অর্থাভাব। দুঃসময়ে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বক্সিং গ্লাভশ তুলে কৃষিকাজে নেমে পড়েছিলেন লাভলিনা। সেই ছবি ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়া। যদিও টোকিও গেমস থেকে ব্রোঞ্জ জয় করা বক্সার যে এ কাজ কেবল অর্থের জন্য করেন, তেমনটা নয়। ভালোবেসে এর আগেও লাভলিনা একাধিকবার চাষের জমিতে নেমে ফসল বুনেছেন বলে জানান তাঁর বাবা তিকেন।

এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ ও ফিরে আসা
২০১৮ সালের কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন লাভলিনা বড়গোঁহাই। সেবার ব্যর্থ হয়েছিলেন মহিলা বক্সার। যদিও ২০১৭ সালের এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে লাভলিনা ব্রোঞ্জ জিততে সক্ষম হয়েছিলেন। প্রতিযোগিতার ২০২১ সালের সংস্করণেও ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন ভারতীয় বক্সার। যদিও ওই ফলাফলে তাঁকে হতাশই করেছিল। ওই ইভেন্টের আগে লাভলিনাকে ফাঁকা গ্যাস সিলিন্ডার তুলে কঠোর অনুশীলন করতে দেখা গিয়েছিল। সে তুলনায় এশিয়ান চ্য়াম্পিয়নশিপের ফলাফল আশানুরূপ হয়নি বলে স্বীকার করেছিলেন অসমের বক্সার। তাঁর ২০১৮ ও ২০১৯ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ওয়েল্টারওয়েটে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন লাভলিনা। বক্সিংয়ে দুর্দান্ত অবদান রাখার জন্য ভারতীয় বক্সারকে অর্জুন পুরস্কারে ভূষিত করেছিল ভারত সরকার। অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ জয় বড় সাফল্য হলেও, এখান থেকে এগিয়ে আগামী দিনে মেগা গেমস থেকে সোনা জেতাই তাঁর মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন বড়গোহাঁই।












Click it and Unblock the Notifications