‘ক্ষমতাশালীদের জন্য দেশের আইন আলাদা’, বিস্ফোরক বজরং পুনিয়া
৩৩ দিন পেরিয়ে গিয়েছে যন্তর মন্তরে কুস্তিগীরদের আন্দোলন। কিন্তু এখনও কোনও সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসেনি। ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংয়ের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবিতে আরও বৃহত্তর পরিসরে প্রতিবাদের রূপরেখা তৈরি করেছেন আন্দোলনকারী কুস্তিগীররা। এই পরিস্থিতিতে সরকারের আচরণে রীতিমতো হতাশ বজরং পুনিয়া।
একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে অলিম্পিকে পদকজয়ী কুস্তিগীর বলেন, 'আমরা ভেবেছিলাম পদকজয়ীদের কথা শোনা হবে, কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমরা জানি আমাদের বিরুদ্ধে কী চলছে, কিন্ত আমরা ভীত নই।'

এই পরিস্থিতিতে বজরং পুনিয়া বলেন, 'আমরা কখনই ভাবিনি আন্দোলন এত দীর্ঘ সময় ধরে হবে। আমরা ভেবেছিলাম আমরা আন্তজার্তিক ক্রীড়াবিদ সরকার আমাদের কথা শুনবে। এই আন্দোলনের ফলে আমাদের কেরিয়ার শেষের পথে। কিন্তু আমরা কুস্তিগীর, শেষ পর্যন্ত লড়াই করব।'

একইসঙ্গে বজরং পুুনিয়া উল্লেখ করেছেন, 'আমার এখন মনে হচ্ছে আমাদের দেশে দুটি আইন আছে। একটি সাধারণ মানুষের জন্য। অন্যটি সিংদের(ব্রিজ ভূষণ)মতো ক্ষমতাশালী মানুষদের জন্য।'
এই আন্দোলনের ফলে তাঁদের কেরিয়ারে যে বড় রকমের প্রভাব পড়বে তাও মানছেন বজরং পুনিয়া। তাঁর কথায়, 'আমরা জানি আমাদের কেরিয়ার শেষ হতে চলেছে। এমনকি অবসরের পর কোচিং বা ক্রীড়া প্রশাসনে আসার সুযোগও কমে যাচ্ছে। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্য মামলাও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আমরা ভীত নই। যতক্ষণ না অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যথাযত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে ততদিন আমাদের দ্বিতীয় কোনও ভাবনা নেই।'

বজরং জানিয়েছেন, তাঁদের এই আন্দোলন যে শুধুমাত্র কুস্তিগীরদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তাঁরা গোটা দেশের মহিলাদের জন্য লড়াই করছেন।ইতিমধ্যেই সংসদ ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছেন মহিলা কুস্তিগীররা। ২৮ মে নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোদন করবেন নরেন্দ্র মোদী। থাকবেন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও। ফলে ইতিমধ্যেই দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে গোটা এলাকায় লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে পদকের জন্য নয় ন্যায় বিচারের দাবিতেই এখন লড়াই বজরং-সাক্ষীদের। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হলেও হাল ছাড়তে নারাজ তাঁরা।












Click it and Unblock the Notifications