চোট নয়! টোকিও অলিম্পিকে দলগত ফাইনাল থেকে সরার কারণ জানালেন সিমোন বাইলস
তবে কি অবসাদ গ্রাস করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তারকা, কিংবদন্তি জিমন্যাস্ট সিমোন বাইলসকে? টোকিও অলিম্পিকে জিমন্যাস্টিক্সের দলগত ফাইনাল থেকে আচমকা সরে দাঁড়ানো এবং তারপর এর কারণ যেটা বাইলস জানাচ্ছেন তাতেই বড় হয়ে সামনে আসছে।

বাইলসের আচমকা সিদ্ধান্ত
এদিন আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিক্সের অল অ্যারাউন্ডের দলগত ফাইনালে আচমকাই সরে দাঁড়ান বাইলস। ভল্টে তিনি হতাশাজনক স্কোর করেন। মার্কিন সতীর্থরা তো বটেই, রাশিয়ানদের স্কোরও ছিল অনেকটাই বেশি। এর কিছু সময় পরেই ফ্লোর ছাড়েন বাইলস। পরে পায়ে ব্যান্ডেজ জড়িয়ে ফিরে সতীর্থদের সঙ্গে দেখা করে চলে যান। বাইলসকে ছাড়াই তিনটি বিভাগে লড়ে শেষে সোনা হাতছাড়া হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। ২০১২ ও ২০১৬ সালে সোনা জেতার পর এবার হ্যাটট্রিকের সুযোগ ছিল।

চোট নয়
মনে করা হচ্ছিল চোটের কারণেই বোধ হয় বাইলস সরে দাঁড়ালেন ফাইনাল থেকে। যদিও সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, চোট নয়। ভাগ্য ভালো চোট লাগেনি। খারাপ কিছু করে চোট যাতে না লাগে সে কারণেই এক ধাপ পিছু হঠেছি। আমি যেমনটা চেয়েছিলাম সেভাবেই আমার সরে দাঁড়ানোর পরও আমার সতীর্থরা পারফর্ম করেছেন। তাঁরা রুপো নিশ্চিত করেছেন, এটা অবশ্যই গর্বের। অলিম্পিকে খুব মানসিক চাপ থাকে। স্টেডিয়ামে দর্শক না থাকলেও নানাবিধ বৈচিত্র্যময় ঘটনা ঘটছে। অলিম্পিকের জন্য প্রস্তুতি থেকে ধরলে সবাইকে দীর্ঘ সময়ের একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে। এতেই সকলের উপর মানসিক চাপ বাড়ছে। তবে নিজেদের মজা করে বাকি সময়টা উপভোগ করতে হবে। সবমিলিয়ে মানসিক চাপকেই দলগত ফাইনাল থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন বাইলস।

সম্ভাবনা আছে
ব্যক্তিগত ইভেন্টে নামবেন কিনা সে বিষয়ে সঠিকভাবে না বললেও সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি বাইলস। তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যের কথা ভেবেই আজকের সিদ্ধান্ত। আমাদের মেয়েরা সকলে ভালো করছিলেন। আমার জন্য পদক হাতছাড়া হোক সেটা চাইনি। অনেক কঠোর পরিশ্রমের জন্যই সকলে এই জায়গায়। তাই বাকিটা সতীর্থদেরই এগিয়ে দিই। আপাতত মনকে বিশ্রাম দিতে চাই। এক বা দেড় দিন মতো হাতে রয়েছে। তার মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেব। মনে করা হচ্ছে, ভল্টে কাঙ্ক্ষিত ফল না করাতেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বাইলস। অলিম্পিকের আগেও যাঁকে চেনা ছন্দে পাওয়া যাচ্ছিল না। তা অবশ্যই তিনি নিজেকে যে উচ্চতায় তুলে নিয়ে গিয়েছেন তার নিরিখেই।

মানসিক কারণেই সরা
মানসিক স্বাস্থ্য পারফরম্যান্সের পক্ষে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বুঝিয়ে বাইলস বলেন, আমি সব সময় মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিই। কেন না, মন ঠিক না থাকলে খেলা উপভোগ করা যায় না। এবং তার ফলে প্রত্যাশিত সাফল্যও আসে না। ফলে নিজের ফোকাস ঠিক রাখতে বড় প্রতিযোগিতায় সাময়িক সরে দাঁড়ালে ক্ষতি হয় না। গতানুগতিকভাবে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার চেয়ে একজন ব্যক্তি বা প্রতিযোগী হিসেবে তুমি কতটা শক্তিশালী তা বোঝা যায় এমন সিদ্ধান্ত থেকেই।












Click it and Unblock the Notifications