ভারতকে অ্যাথলেটিক্সে রত্ন দিয়েছিলেন নাম্বিয়ার, গুরু-র প্রয়াণে তাই ভাষা হারালেন পিটি ঊষা

পুরো নাম ওথাইওথু মাধবন নাম্বিয়ার। ভারতীয় ক্রীড়ামহলে তিনি পরিচিত ও এম নাম্বিয়ার নামেই। ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সকে যিনি পিটি ঊষার মতো রত্ন উপহার দিয়েছিলেন, সেই নাম্বিয়ারের পথ চলা শেষ হল আজ। প্রয়াত হলেন ৮৯ বছর বয়সে। শোকাহত পিটি ঊষা স্বাভাবিকভাবেই ভাষা হারিয়েছেন।

গুরু নাম্বিয়ারের প্রয়াণে ভাষা হারালেন পিটি ঊষা

(ছবি- পিটি ঊষা টুইটার)

১৯৮৫ সালে দ্রোণাচার্য পুরস্কার পেয়েছিলেন ও এম নাম্বিয়ার। পদ্মশ্রী হন এ বছরেই। বহু অ্যাথলিট তৈরি করেছেন। তবে তাঁর সেরা ছাত্রী পিটি ঊষা। ১৯৩২ সালে জন্ম ও এম নাম্বিয়ারের। কেরলের কোঝিকোড়ে জেলার ভাডাকরায়, কান্নুর ও কুইলান্ডির মধ্যে পড়ে এই জায়গাটি। ভারতীয় বায়ুসেনায় কর্মরত থাকাকালীন ভারতীয় দলের ব্লেজার পরে ট্র্যাকে নামার ইচ্ছা থাকলেও শেষে দেশের অন্যতম সেরা কোচ হিসেবেই তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। পিটি ঊষা যদি নাম্বিয়ারের হাতে না পড়তেন, তাহলে তিনি এশিয়ান অ্যাথলেটিক্সের সর্বকালের সেরা কিংবদন্তিদের তালিকায় জায়গা পেতেন কিনা তা সঠিকভাবে বলা যায় না।

১৯৫৫ থেকে ১৯৭০ অবধি কর্মরত ছিলেন ভারতীয় বায়ুসেনায়। সার্ভিসেসের হয়ে বিভিন্ন অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। নেতাজি সুভাষ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্পোর্টস থেকে কোচিং ডিপ্লোমা সম্পূর্ণ করে তিনি প্রথমে সার্ভিসেসেই প্রশিক্ষণ দিতেন। পরে কেরল স্পোর্টস কাউন্সিলে কোচ হিসেবে যোগ দেন। এরপরই তিরুঅন্তপুরমে সিলেকশন ট্রায়ালে জহুরির চোখ পড়েন পিটি ঊষার মতো প্রতিভা। পিটি ঊষার পাশাপাশি শাইনি উইলসন, বন্দনা রাওয়ের মতো আন্তর্জাতিক অ্যাথলিট উঠে এসেছেন নাম্বিয়ারের প্রশিক্ষণেই।

গুরুর প্রয়াণের খবর টুইটারে দিয়ে চারটি ছবি পোস্ট করেছেন ঊষা। লিখেছেন, আমার গুরু, আমার কোচ, যাঁর দেখানো আলোকিত পথ ধরে আমি এগিয়েছি, তাঁর প্রয়াণে যে শূন্যতা আজ তৈরি হল তা কখনও পূরণ হওয়ার নয়। আমার জীবনে তাঁর যা অবদান তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমি প্রচণ্ড শোকাহত। ও এম নাম্বিয়ার স্যর, আপনাকে মিস করব। রেস্ট ইন পিস। অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার সভাপতি আদিল জে সুমারিওয়ালা বলেছেন, ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সে নাম্বিয়ার স্যরের অবদান ভোলার নয়। তিনি পিটি ঊষাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে অ্যাথলিট হিসেবে গড়ে তোলেন। ১৯৮৪ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ঊষা যখন ৪০০ মিটার হার্ডলসে চতুর্থ হন তখন কোচ হিসেবেই তাঁর পাশে ছিলেন নাম্বিয়ার। এরপর ঊষা দাপট দেখিয়েছেন এশিয়ান অ্যাথলেটিক্সে। উল্লেখ্য, লখনউয়ে সিনিয়র ন্যাশনালসে যখন ঊষা ২০০ মিটারে নতুন রেকর্ড গড়েন তখম নাম্বিয়ার বলেছিলেন, আমার প্রশিক্ষণে এশিয়ান ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড মিটে ঊষা যে সময় করেছিলেন, তখনই পরের লক্ষ্য ঠিক করে ফেলেন। তার এক দশক পর সেই রেকর্ড গড়া তাই নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

পারফরম্যান্স বর্ধক ড্রাগ নেন অনেক অ্যাথলিট। এই বিষয়ে সতর্ক ছিলেন নাম্বিয়ার। ভারতে ভালো ডোপ টেস্টের পদ্ধতিগত পরিকাঠামো না থাকার জন্য তাঁকে আক্ষেপ করতে দেখা গিয়েছে। তিনি বলতেন, ঠিক এই কারণেই ভারতীয় অ্যাথলিটরা বিশ্বের অন্য দেশগুলির থেকে পিছিয়ে। ২০০৫ সালে নাম্বিয়ার হায়দরাবাদের একটি স্কুলে সিনিয়র কোচের দায়িত্ব সামলেছেন। শেখর ভট্টাচার্য ও সাবিক আলি, এই দুই ট্রেনি তাঁর অ্যাথলেটিক্স কোচ হিসেবে উত্তরাধিকার বহন করবে বলেও আশাবাদী ছিলেন নাম্বিয়ার। আর সেরা ছাত্রীকে নিয়ে তাঁর গর্বের শেষ ছিল না।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+