চেস অলিম্পিয়াডের প্রথম টর্চ রিলে কলকাতাতেও, আনন্দের হাতে মশাল তুলে দিয়ে সূচনা প্রধানমন্ত্রীর
অলিম্পিকের মতোই এবার থেকে চেস অলিম্পিয়াডে টর্চ রিলে চালু করল ফিডে। আগামী মাসে অলিম্পিয়াডের আসর বসছে চেন্নাইয়ের কাছে মহাবলীপুরমে। আজ দিল্লিতে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে সেই টর্চ রিলের সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবকল্যাণ ও ক্রীড়ামন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর এবং এই মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। ছিলেন বিশ্বনাথন আনন্দ থেকে কোনেরু হাম্পির মতো তারকারা।

ঐতিহাসিক টর্চ রিলে
৪৪তম চেস অলিম্পিয়াড ২৮ জুলাই থেকে ১০ অগাস্ট অবধি চলবে। ফিডে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এবার থেকে যে টর্চ রিলের প্রথা শুরু হলো তা প্রতি চেস অলিম্পিয়াডের আগেই হবে। যেমনটা হয় অলিম্পিকের আগে। প্রতিবার ভারত থেকেই শুরু হবে টর্চ রিলে। এবার যেহেতু ভারতেই হচ্ছে তাই ৪০ দিনে ৭৫টি শহর পরিক্রমা করবে এই মশাল। প্রতিটি শহরেই দাবার গ্র্যান্ডমাস্টাররা মশাল গ্রহণ করবেন। লেহ, শ্রীনগর, জয়পুর, সুরাট, মুম্বই, ভোপাল, পাটনা, কলকাতা, গ্যাংটক, হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু, ত্রিচূড়, পোর্ট ব্লেয়ার, কন্যাকুমারী রয়েছে শহরগুলির তালিকায়। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ফিডের প্রেসিডেন্ট আরকেডি ডরকোভিচ প্রথমে এই মশালটি তুলে দেন নরেন্দ্র মোদীর হাতে। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে সেটি গ্রহণ করেন প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন কিংবদন্তি বিশ্বনাথন আনন্দ।

এ দেশে প্রথমবার
ঐতিহ্যশালী চেস অলিম্পিয়াডের এই প্রথমবার হচ্ছে ভারতে। অংশ নিচ্ছেন ১৮৮টি দেশের দাবাড়ুরা। এদিন কোনেরু হাম্পির সঙ্গে দাবার বোর্ডে চাল দিতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীকে। তিনি বলেন, চেস অলিম্পিয়াডের টর্চ রিলে ভারত থেকে প্রথম শুরু হচ্ছে এবং আমাদের দেশ প্রথমবার এই প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করছে। আমাদের দেশেই দাবা খেলার জন্ম, সেখান থেকে বিকশিত হয়েই গোটা বিশ্বে তা জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছেছে। দাবার এই সাফল্য তার জন্মভূমিতে আমরা সকলে উদযাপন করতে পেরে গর্বিত। ফিডে ভারত থেকে টর্চ রিলে প্রথা চালুর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা দেশের পাশাপাশি দাবার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সম্মানের বিষয়। দাবা যে শুধু খেলা নয়, শিক্ষারও অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে সে কথাও স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।

মোদীর বক্তব্য
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে কুস্তি, কবাডি, মালখম্ব চালু হয়েছিল ফিট থাকার জন্য। বিশ্লেষণধর্মী দক্ষতা বিকাশের লক্ষ্যে হয়েছিল দাবার প্রবর্তন। দাবা আজ গোটা বিশ্বে সমাদৃত ও জনপ্রিয়। শিক্ষার সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে এই খেলাটি এবং দাবাড়ুরা অনেক সমস্যারও সমাধান করছেন। দাবায় সাফল্য পেতে যোগা ও মেডিটেশনের গুরুত্বের কথাও উঠে আসে মোদীর ভাষণে। অনুরাগ ঠাকুর খেলাধুলোর প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, টর্চ রিলে প্রতিবারই ভারত থেকে শুরু হবে। ১৯৫৬ সালে ভারত প্রথম চেস অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়েছিল। পদক জিততে আরও কয়েক বছর লাগলেও তারপর থেকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি। আজ আমাদের দেশে খেলার প্রতি যে সচেতনতা বৃদ্ধি হয়েছে তা প্রধানমন্ত্রীর জন্যেই। তিনি শুধু ক্রীড়ানুরাগী নন, খেলাধুলোর বড় ফ্যান এবং ক্রীড়াবিদদের প্রতি সবরকমভাবে যত্নবান।

পথ দেখাচ্ছে ভারত
বিশ্ব দাবার নিয়ামক সংস্থার প্রধান ডরকোভিচ ভারত সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, অলিম্পিকের মশাল যেমন অলিম্পিক আন্দোলন ও বন্ধুত্বের বার্তা দেয়, চেস অলিম্পিয়াডের মশালও একই বার্তা দেবে। বিশ্বের যে কোনও প্রান্তেই চেস অলিম্পিয়াড হোক না কেন, টর্চ রিলে শুরু হবে ভারত থেকেই। ভারত সরকার যেভাবে দাবার প্রসারের উদ্যোগ নিয়েছে ফিডে তাতে কৃতজ্ঞ। আশা রাখি, ভারত তথা বিশ্বের সব স্কুলেই দাবা শিক্ষার সঙ্গে একাত্মভাবে জড়িয়ে থাকবে। ভারতে দাবার প্রসারেও খুশি ডরকোভিচ। এদিনের অনুষ্ঠানে দাবার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে লোকনৃত্যের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তুলে ধরা হয় দাবার ইতিহাস, জন্মের বৃত্তান্ত ও বিবর্তনের কথা।












Click it and Unblock the Notifications