PKL 10: প্রো কবাডি লিগ ফিরল কলকাতায়, বেঙ্গল ওয়ারিয়র্সে এ রাজ্যের কেউ নেই! কারণটা চমকে দেবে
PKL 10: প্রো কবাডি লিগের আসর চার বছর পর বসছে কলকাতায়। হোম ম্যাচগুলি থেকেই প্লে-অফের ছাড়পত্র নিশ্চিত করার দিকে এগিয়ে যেতে চাইছে ২০১৯ সালের চ্যাম্পিয়ন বেঙ্গল ওয়ারিয়র্স।
কলকাতায় ১৪ ফেব্রুয়ারি অবধি চলবে প্রো কবাডি লিগের খেলাগুলি। বাংলার ফ্র্যাঞ্চাইজিটি খেলবে গুজরাত জায়ান্টস, তেলুগু টাইটান্স, ইউ মুম্বা ও পুনেরি পল্টনের বিরুদ্ধে।

বাংলার দলটির মালিকানাও বদলেছে। এসেছে ক্যাপ্রি স্পোর্টস। কাল বাংলা বনাম গুজরাত দ্বৈরথ দিয়েই কলকাতা পর্বের খেলা শুরু হবে। প্লে-অফের টিকিট জয়পুর পিঙ্ক প্যান্থার্স ও পুনেরি পল্টন নিশ্চিত করে ফেলেছে। ১৭ ম্যাচে ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে নবম স্থানে রয়েছে বাংলার দলটি।
বেঙ্গল ওয়ারিয়র্সের অধিনায়ক মনিন্দর সিং বলেছেন, এখানকার ফ্যানেরাই আমাদের লাকি চার্ম। আমি এই দলে আসার পর কলকাতায় কখনও হারিনি। অন্য শহরে হার-জিত চলতেই থাকে, কিন্তু কলকাতায় যে সমর্থন পাই তা আমাদের উজ্জীবিত করে। এখানে চারটি ম্যাচ জিতলে আমাদের সম্ভাবনা অনেকটাই বাড়বে।
তবে বেঙ্গল ওয়ারিয়র্স দলে একজনও বাংলার প্লেয়ার নেই। এর আগে, অমরেশ মণ্ডল ছিলেন। এখন সংখ্যাটা এসে দাঁড়িয়েছে শূন্য। বেঙ্গল ওয়ারিয়র্সের কোচ কে ভাস্করণ দিলেন চাঞ্চল্যকর তথ্য। তাঁর দাবি, যে ট্রায়াল হয়েছিল তাতে প্রো কবাডি লিগে খেলার মতো ভালো মানের প্লেয়ার পাওয়া যাচ্ছে না।
এই পরিস্থিতির জন্য খেলোয়াড়রা কিন্তু দায়ী নন। পরিকাঠামো বেহাল। ভাস্করণের কথায়, বাংলা থেকেই আনসার আলি, বিশ্বজিৎ পালিত, অর্জুন মণিকা নাথ, রমা সরকার, কিংবা পায়েল চৌধুরীর মতো প্লেয়ারদের আমরা পেয়েছি। বাংলা থেকে অনেক কবাডি খেলোয়াড় দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন।
কবাডি খেলেই রেল-সহ কেন্দ্রীয় সরকারি দফতরে চাকরি পেয়েছেন অনেকে। বাংলাতেই রাজ্য, জাতীয় বা আন্তর্জাতিক স্তরের ভালো মানের কবাডি প্রতিযোগিতা নিয়মিত হতো। কিন্তু এখন আর তা হয় না। বাংলার কবাডি অ্যাসোসিয়েশনের কর্তাদের অনৈক্যই কবাডিতে এ রাজ্যের পিছিয়ে পড়ার পথ প্রশস্ত করে দিয়েছে।
ভাস্করণের কথায়, কবাডিতে বাংলার হৃতগৌরব ফেরাতে অ্যাসোসিয়েশন কর্তাদের একজোট হতে হবে। সেটা যতদিন হবে না, ততদিন এমন অবস্থাই চলবে। কর্পোরেটদের দিয়ে বাংলায় কবাডি প্রশিক্ষণের ভালো মানের আকাদেমি তৈরি হওয়াও দরকার। প্লেয়াররা বুঝতে পারছেন না কোথায় গেলে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ মিলবে।
সবমিলিয়ে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম যখন প্রো কবাডি লিগের আলোয় উদ্ভাসিত হবে, তখন কিছুটা দূরত্বে কবাডি টেন্টে অন্ধকার! প্রো কবাডি লিগ দেখে রাতের ট্রেনে বাড়ি ফেরেন বাংলার একমাত্র কবাডি গ্রামের ছেলে-মেয়েরা। সুব্রত মুখোপাধ্যায় তাঁদের কলকাতায় এসে খেলা দেখার বন্দোবস্ত করে দিতেন।
তাঁরাই গ্যালারিতে গর্জে উঠতেন বেঙ্গল ওয়ারিয়র্সের জন্য। চার বছরে বদলেছে অনেক কিছুই। সুব্রত মুখোপাধ্যায়ও প্রয়াত হয়েছেন। এবার দেড়শো টাকার টিকিট রয়েছে। স্টেডিয়ামে গিয়েও কাটা যাবে। কিন্তু বাংলার প্লেয়ারের না থাকা প্রো কবাডিতে সেই চেনা চিত্র ফেরাবে কিনা সংশয় থেকেই গেল।












Click it and Unblock the Notifications