Paris Olympics: বঞ্চনাকে সঙ্গী করেই ছেড়েছিলেন বাংলা, পদকের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন অঙ্কিতা
প্যারিস অলিম্পিক্সে এবার বাঙালিদের দূরবীন দিয়ে খুঁজতে হচ্ছে। বিগত কয়েকটি অলিম্পিক্সে কমেছে বাঙালি প্রতিনিধির সংখ্যা, এবার সেটা তলানিতে ঠেকেছে। এরই মধ্যে উজ্জ্বল নাম অঙ্কিতা ভকত। সাউথ সিঁথির এই বঙ্গ কন্যা তিরন্দাজিতে পদকের স্বপ্নকে প্রথম দিনেই উস্কে দিয়েছেন
জন্মগতভাবে বাংলার হলেও অঙ্কিতার নামের পাশে নেই পশ্চিমবঙ্গ লেখা। কারণ বাংলা ছেড়ে ১০ বছর আগেই ঝাড়খণ্ডে চলে যান অঙ্কিতা। এরপর থেকে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক সব প্রতিযোগিতাতেই তিনি ঝাড়খণ্ডের প্রতিনিধি।

কিন্তু কেন বাংলা ছাড়তে হল এমন প্রতিভাবান তিরন্দাজকে? উত্তর খুঁজতে ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা হাজির হয়েছিল দমদমে অঙ্কিতার বাড়িতে। বাড়ি জুড়ে শুধুই অঙ্কিতার পুরস্কার ও পদক। মেয়ের এমন সাফল্যের গর্বিত বাবা মাও। কিন্তু রাজ্য সরকারের থেকে বঞ্চনা নিয়ে রয়ে গিয়েছে চাপা অভিমানও।
মাত্র ৫ বছর বয়সেই তির ধনুকের খেলাটা মনে ধরে যায় ছোট্ট অঙ্কিতার। সেই শুরু। কিন্তু এরপর এই খেলায় হয়ে উঠে অঙ্কিতার মন প্রাণ। কিন্তু সাধারণ মধ্যবৃত্ত পরিবারের সামর্থ ছিল না মেয়ের ব্যয় বহুল খেলাটা চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার। পাশে থাকেনি রাজ্য সরকার। ফলে টাটাতে ট্রায়ালে যেতে হয় অঙ্কিতাকে ।এর পর থেকে ঝাড়খণ্ডের প্রতিনিধি হয়ে উঠে অঙ্কিতা।
মা শীলা ভকত বলছিলেন, "রাজ্য সরকার কোনও সাহায্য করেনি বলেই মেয়েকে টাটাটে ট্রায়ালে যেতে হয়। সেখানে ১৫দিন ট্রায়াল দিয়ে সুযোগ পায়। ওর সব কিছুই টাটা অ্যাকাডেমি। আমার মনে হয় ও বাংলায় থাকলে এতদূর আসতে পারত না। "
বাবা শান্তনু ভকতের কথায় শুধুই অভিমান, "আমার সামর্থ্য ছিল না সব কিছু কিনে দেওয়ার। তার জন্য সরকারের কাছে অনেক আবেদন করেছি কিন্তু কোনও সাহায্য পাইনি। সরকার বলে অনেক কিছু কিন্তু পায় কতজন?
বাগবাজার মাল্টিপার্পাস স্কুল থেকে মাধ্যমিক দেন অঙ্কিতা। ২০১৪ সালে তিনি জামশেদপুরে চলে যান, সেখানে গিয়ে তিনি টাটা তিরন্দাজি অ্যাকাডেমিতে প্রস্তুতি শুরু করেন কোচ রাম আদেশেব অধীনে। এছাড়াও ছিলেন পূর্ণিমা মাহাতো ও ধর্মেন্দ্র তিওয়ারি।
২০১৫ সালে অঙ্কিতা ভকত ভারতের তিরন্দাজি অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনের ট্রায়াল পাশ করেন এবং বিশ্ব তিরন্দাজি ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ২০২৩ সালে হ্যাংঝৌতে এশিয়ান গেমসে মহিলাদের টিম ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন।
অঙ্কিতা প্রথমবার শিরোনামে আসেন ২০১৭ সালে। সেবার তিনি বিশ্ব আর্চারি ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জেতেন। প্যারিস অলিম্পিক্সটা তাঁর কেরিয়ারের প্রথম অলিম্পিক্স এবং সেখানে তিনি সুযোগ পেয়েছেন অলিম্পিক্সে আর্চারিতে ভারতের পদকের খরা কাটাতে।
বৃহস্পতিবার ছিল তিরন্দাজিতে মহিলাদের যোগ্যতা অর্জন পর্ব। প্রথম দিনে দলগতভাবে ভালো পারফরম্যান্স করলেন দীপিকা কুমারী-অঙ্কিতা ভগতরা। ১৯৮৩ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে থাকল ভারতীয় মহিলা দল।ভারতের হয়ে সেরা ফর্মে ছিলেন অঙ্কিতা ভকত। ৬৬৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করে ১১ নম্বরে শেষ করেন কলকাতার বঙ্গ তনয়া।তিনি টুর্নামেন্টের শীর্ষ আটে শেষ করেন গ্যাব্রিয়েলে মনিকাকে পরাস্ত করে।
মেয়েকে নিয়ে মা শীলা ভকত বলেন, "এর আগের বার টোকিওতে একটু জন্য সুযোগ হয়নি। আমাকে বলত মা এত জায়গায় খেলছি কিন্তু অলিম্পিক্সে সুযোগ পাচ্ছি না। এবার ও সুযোগ পেয়ে খুব খুশি। প্রথম দিনে ভালো পারফরম্যান্স করেছে এবার দেখা যাক পদক জিততে পারে কিনা। এটা আমাদের কাছে অনেক গর্বের মেয়ে এতটা দূর গিয়েছে।"
এবার প্যারিস ২০২৪ অলিম্পিক্সে তাঁর সাফল্যের দিকে তাকিয়ে থাকবে গোটা বাংলা তথা ভারত।












Click it and Unblock the Notifications