Paris Olympics 2024: কালিকট টু প্যারিস! সাইকেলে ২ বছরে ২২ হাজার কিমি., নীরজের জন্য গলা ফাটাতে তৈরি সাইক্লিস্ট
Paris Olympics 2024: প্যারিস অলিম্পিক্সের আসরে হাজির থাকবেন ফৈজ আসরফ আলি। ভাবছেন, এ আবার কী? কতজনই তো নীরজের জন্য গলা ফাটাবেন ৮ অগাস্ট।
কিন্তু ফৈজের বিশেষত্ব হলো, নীরজ চোপড়ার আহ্বানে সাড়া দিয়েই তিনি প্যারিস পৌঁছেছেন ২২ হাজার কিলোমিটারের বেশি সাইকেল চালিয়ে। গিয়েছেন কালিকট থেকে। লেগেছে ২ বছর।

রবিবার প্যারিসের ইন্ডিয়া হাউসে যান কেরলের সাইক্লিস্ট ফৈজ। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা হয়। নীরজের সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় দিন গুনছেন। সেই বন্দোবস্ত করে দেওয়ার অনুরোধ করেছেন আইওসি প্রধান পিটি ঊষাকে। ২০২২ সালের ১৫ অগাস্ট ভারত থেকে সাইকেলে লন্ডন যাত্রা শুরু করেন শান্তি ও ঐক্যের বার্তা দেওয়ার লক্ষ্যে।
কেরলের এক কোচের মাধ্যমে কথা হয় নীরজের সঙ্গে। নীরজ বলেন, লন্ডনেই যখন যাচ্ছেন তখন প্যারিসেও চলে আসুন। এই আহ্বান শুনেই পরিকল্পনা ও রুট বদলান। লন্ডনে গিয়েছিলেন। তারপর প্যারিস। তাঁর সাইকেল ছুটেছে ৩০টি দেশ দিয়ে।
ইউকে-তে ফৈজকে উৎসাহিত করেছেন ক্রিস গেইল, হরভজন সিং, সুরেশ রায়না। ভাবতে অবাক লাগলে এটাও সত্যি, কোনও হোটেলে থাকেননি ফৈজ। প্রয়োজনীয় সামগ্রী, যার ওজন হবে ৫০ কিলো, তা নিয়েই সাইকেল চালিয়েছেন। চার জোড়া জামা-প্যান্ট, একটি টেন্ট, স্লিপিং ব্যাগ ও ম্যাট। তা নিয়েই কালিকট টু প্যারিস!
ফৈজ জানিয়েছেন, সাইকেল নিয়ে চলার পথে কিছু স্পনসর পেয়েছেন। তাতেই কাজ মিটে গিয়েছে। হোটেলে থাকার দরকার পড়েনি। মাঝে দু-বার কেরল যেতে হয়েছিল। ভিসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় অনুমতি জোগাড়ের জন্য। তিনি জানালেন, ভিসা থাকলেই হলো, সাইক্লিস্টদের সীমান্ত পার করতে আর কিছু লাগে না।
ফৈজের দাবি, বিভিন্ন দেশে এত মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছেন তাতে প্যারিসে পৌঁছেও মোটেই ক্লান্ত লাগছে না। সৌদি আরবে ইঞ্জিনিয়ার ফৈজ কর্মরত ছিলেন। ২০১৫ থেকে বাবার হার্টের অসুখ। তাই চাকরি ছেড়ে দেশে ফেরা। ২০১৮ সালে বাবার মৃত্যু হয়। আর কালিকট ছাড়েননি ফৈজ।
ফৈজের স্ত্রী চিকিৎসক। দুই সন্তানের দেখভাল তিনি করায় ফৈজ তাঁর শখ বা লক্ষ্য পূরণ করতে পারলেন। তাই বলছেন, আমার স্ত্রী-ই আমাকে সবচেয়ে বেশি উৎসাহিত করেন। তাঁর সমর্থন ও সহযোগিতাতেই সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়তে পেরেছি।
থাইরয়েডের কারণে একটা সময় ওজন বেড়েছিল ফৈজের। সাইক্লিস্টদের দেখে তাঁরও ইচ্ছা জাগে সাইকেল নিয়ে ঘোরার। প্রথমে কেনেন ১৩ হাজার টাকার বাইসাইকেল। এরপর সোলো রাইডের প্ল্যান। ঠিক করেন, কালিকট থেকে সিঙ্গাপুরে যাবেন।
সে জন্য ১ লক্ষ টাকার সাইকেল কেনেন, যা লং ট্রিপের ক্ষেত্রে খুবই উপযোগী। প্যারিসে যাওয়ার লক্ষ্যে কেনেন আড়াই লক্ষ টাকার সাইকেল। ২০১৯ সালের ৭ অগাস্ট যাত্রা শুরু করে সিঙ্গাপুরে পৌঁছেছিলেন নভেম্বরের ২১ তারিখ। সেবার ৮ হাজার কিলোমিটারের কাছাকাছি সাইকেল চালান ৭টি দেশ দিয়ে।
ফৈজ জানালেন, রোটারির স্পনসরশিপ পেয়েছিলাম। তবে আমার সবচেয়ে বড় সাপোর্টার আমার স্ত্রী। তাঁর জন্যই একের পর এক যাত্রায় বেরিয়ে পড়তে পারছি। সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই সাইকেল চালাতে শুরু করেন। প্রতিদিন গড়ে ১৫০ কিলোমিটার সাইকেল চালান। তবে রুট বা জায়গা-বিশেষে কিছু রদবদল হয়।












Click it and Unblock the Notifications