Paris Olympics 2024: ভজন অলিম্পিক্সের প্রি কোয়ার্টারে! শটপুট ছেড়ে তিরন্দাজিতে, মেয়ের জন্য ধার করেন বাবা
Paris Olympics 2024: প্যারিস অলিম্পিক্সে মহিলা তিরন্দাজির ব্যক্তিগত বিভাগের প্রি কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেলেন ভজন কৌর। তবে ছিটকে গেলেন বাংলার মেয়ে অঙ্কিতা ভকত।
কাল রয়েছে দীপিকা কুমারীর ইভেন্ট। ৩ অগাস্ট প্রি কোয়ার্টার থেকে ফাইনাল অবধি খেলা রয়েছে।

পোল্যান্ডের উইওলেতা মিসজর হারিয়েছিলেন অঙ্কিতা ভকতকে। সেই মিসজরকে হারিয়েই, অঙ্কিতার হারের বদলা নিয়ে প্রি কোয়ার্টারে জায়গা পাকা করলেন অষ্টাদশী ভজন। রাউন্ড অব সিক্সটিন এলিমিনেশন রাউন্ড তিনি জিতলেন ৬-০ ফলে।
তিন সেটে ভজনের স্কোর ছিল যথাক্রমে ২৮, ২৯ ও ২৮। মিসজর ২৩, ২৬ ও ২২ স্কোর করেন, ইনার-টেন সার্কেলে তির রাখতে পারেন মাত্র একবার। রাউন্ড অব ৩২ এলিমিনেশন রাউন্ডে ভজন ইন্দোনেশিয়ার সিফা নুরাফিফাহকে হারান ৭-৩ ব্যবধানে।
এই রাউন্ডে দুজনেই প্রথম সেটে ২৭ স্কোর করেন। কামাল দ্বিতীয় সেট জেকেন ২৯-২৭-এ। এর পরের রাউন্ডগুলিতে কৌর যথাক্রমে ২৯, ২৭ ও ২৮ স্কোর করেন। অন্যদিকে, অঙ্কিতা ৪-২ ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন মিসজরের বিরুদ্ধে। দরকার ছিল একটি সেটে জয়। কিন্তু পারেননি। হেরে যান ৪-৬-এ।
ভজন হরিয়ানার সিরসার এলেনাবাদের মেয়ে। পড়াশোনা নচিকেতন স্কুলে। সেখানকার শিক্ষকের পরামর্শে শটপুট শুরু করেন। স্কুল ও রাজ্য স্তরে পদক জেতেন। একদিন তিরন্দাজি কিট এনে শিক্ষক ভজনের হাতে তির-ধনুক তুলে দেন।
কৃষক পরিবারের মেয়ে ভজনের তখন ১৩ বছর বয়স। ভজন যখন রাজ্য ও জাতীয় স্তরে তিরন্দাজিতে অংশ নিতে শুরু করেন, তখন তাঁর বাবা ভগবান সিং অনুভব করেন সিরিয়াস প্রস্তুতির প্রয়োজন। বাড়ির পাশেই জমিতে তিরন্দাজি অনুশীলনের বন্দোবস্ত করেন।
ভজনকে দেখে তাঁর বোন কর্মবীর ও ভাই যশমীত তিরন্দাজিতে আকৃষ্ট হন। গ্রামের অনেকেও আসতে শুরু করেন। ভজনের জন্য ভগবান আর্চারি অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার কোচিং সার্টিফিকেট নেন। এক সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভগবান ভজনের উত্থানের কাহিনি তুলে ধরেছেন।
ভগবানের কথায়, ভজন প্রথমে ইন্ডিয়ান রাউন্ড অনুশীলন করতেন। পরে তাঁর কোচের পরামর্শে রিকার্ভ রাউন্ডে আসা। সে জন্য আড়ত থেকে ধার নিয়ে তির-ধনুক কিনে দেন ভজনের বাবা। পরে সব্জি বেচে তা শোধ করেন। ভজনের মা প্রীতপাল কৌর বলেন, ভজন খেতে ভুলে যেতে পারেন। কিন্তু অনুশীলন ভোলেন না।
কঠোর পরিশ্রম করে মেয়ে আজ অলিম্পিক্সের আসরে। দারুণ ছন্দেও রয়েছেন। ভারত আজ অবধি তিরন্দাজিতে পদক পায়নি। ভজনই সেই পদক জিতে ফিরবেন, আশায় তাঁর বাবা-মা।
ভজনের স্কুলের ডিরেক্টর দৈনিক ভাস্করকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, একবার পাতিয়ালায় স্কুলের ক্রীড়া সরঞ্জাম আনতে যাই। আমাদের স্কুলে তিরন্দাজির অনুশীলন হতো না। তবু কিট নিয়ে নিই। কাকে দিয়ে প্র্যাকটিস করাব, সেই ভাবনাও ছিল। আমার ভাই ভজনকে চিহ্নিত করেন।
ভজনের উচ্চতা দেখেই স্কুলের ডিরেক্টরের ভাই পরমিন্দরের মনে হয়েছিল, এই মেয়ে তিরন্দাজিতে সাফল্য পেতে পারেন। স্কুলে এক কোচ এসে শনি ও রবিবার অনুশীলন করাতেন। ভজন জাতীয় স্তরে খেলার পর জামশেদপুরে টাটা আর্চারি আকাদেমিতে প্রশিক্ষণের সুযোগ পান। তারপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি।












Click it and Unblock the Notifications