Paris Olympics 2024: বলরাজ ছিটকে গেলেন পদকের দৌড় থেকে, ভারতীয় রোয়িংয়ের ধোনিকে হতাশ করল ১১ সেকেন্ড
Paris Olympics 2024: প্যারিস অলিম্পিক্সে ভারতের তরফে রোয়িংয়ে একমাত্র প্রতিনিধি বলরাজ পানওয়ার। তাঁকে অবশ্য ফিরতে হচ্ছে খালি হাতেই।
কোয়ার্টার ফাইনালে হিট রেসে পঞ্চম স্থান অধিকার করলেন। কিন্তু সেমিফাইনালের যে ধাপে থাকলে পদকের আশা থাকে তাতে পৌঁছতে পারলেন না ১১ সেকেন্ডের জন্য।

পুরুষদের সিঙ্গলস স্কালস ইভেন্টে নেমেছিলেন বলরাজ। কোয়ার্টার ফাইনাল হিট ফোরে তিনি সময় করলেন ৭ মিনিট ৫.১০ সেকেন্ড। ফলে তাঁকে অংশ নিতে হচ্ছে সেমিফাইনাল সি/ডি-তে। ১৩ থেকে ২৪ নম্বর স্থানের জন্য লড়াই চালাতে হবে বলরাজকে।
তৃতীয় স্থানে থাকা জাপানের রিয়ুতা আরাকাওয়ার সময় ৬ মিনিট ৫৪.১১ সেকেন্ড। ফলে তৃতীয় স্থানের সঙ্গে পঞ্চম স্থানে থাকা পানওয়ারের সময়ের ব্যবধান ১১ সেকেন্ড! কোয়ার্টার ফাইনালে অবশ্য সরাসরি যেতে পারেননি বলরাজ। রেপেচেজ রাউন্ড থেকে জায়গা করে নিয়েছিলেন।
রেপেচেজ রাউন্ডে দ্বিতীয় স্থান পেয়েছিলেন বলরাজ। তার আগে প্রথম রাউন্ডের হিট রেসে পেয়েছিলেন চতুর্থ স্থান। আজ প্রথম তিনে থাকতে পারলেই বলরাজ সেমিফাইনাল এ/বি-তে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতেন। সেমিফাইনালের সেই ধাপে যাঁরা থাকেন তাঁরা পদকের দৌড়ে থাকেন। ফাইনাল এ-তে প্রথম তিন স্থানাধিকারীদের পদক দেওয়া হয়।
তবে বলরাজের এই পারফরম্যান্স কম কথা নয়। কেন না, টোকিওতে যখন অলিম্পিক্স হয় তখন এই খেলার সঙ্গে তেমন সড়গড় হননি বলরাজ। প্যারিস অলিম্পিক্সে নামা তখন ছিল ভাবনার অতীত। বলরাজের জন্ম হরিয়ানার কারনাল জেলার কাইমলা গ্রামে।
বাবার মৃত্যু থেকে শুরু করে আর্থিক প্রতিবন্ধতা। জীবনের চলার পথের নানা হার্ডলস পেরিয়ে অলিম্পিক্সের আসরে এসেছিলেন বলরাজ। সংসার চালাতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পদে যোগ দিয়েছিলেন। সেটাই টার্নিং পয়েন্ট। ফলে প্যারিস অলিম্পিক্সের রোয়িংয়ে তিনিই ভারতের একমাত্র ক্রীড়াবিদ।
২০২০ সালে এক কোচের পরামর্শে রোয়িং শুরু। সেই বছরই যোগ দেন আর্মি রোয়িং নোডে। সেখানে ভালো প্রশিক্ষণের সুযোগ পান উন্নত মানের পরিকাঠামো থাকায়। গত বছর জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জেতেন। এর ফলে জায়গা পান এশিয়ান গেমসের শিবিরে।
এশিয়ান গেমসে চতুর্থ হয়ে অল্পের জন্য পদক হাতছাড়া হয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্যের জন্য প্রয়োজনীয় আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিল এই পারফরম্যান্স। এশিয়ান ও ওশেনিয়ান রোয়িং অলিম্পিক কোয়ালিফিকেশন রেগাট্টা হয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়ায়। সেখানে ব্রোঞ্জ জিতে অলিম্পিক্সের ছাড়পত্র আদায় করেন বলরাজ।
বলরাজকে ভারতীয় রোয়িংয়ের এমএস ধোনি বলে ডাকা হয়। তিনি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বজরং লাল ঠখরের কাছে। তিনি ২০১০ সালে এশিয়ান গেমসে রোয়িংয়ে ভারতের প্রথম ব্যক্তিগত সোনা জিতেছিলেন। বলরাজ পদক নিয়ে ফিরতে না পারলেও তাঁর পারফরম্যান্স উজ্জীবিত করবে অনেককেই। নিজের সেরা সময় করাও লক্ষ্য ছিল। সেই লক্ষ্য অবশ্য পূরণ হলো প্যারিসে।












Click it and Unblock the Notifications