Paris Olympics 2024: জ্যাভলিন নিয়ে বিপাকে পড়া আরশাদের পাশে দাঁড়ান নীরজ, গ্রামেরও রয়েছে বড় অবদান
Paris Olympics 2024: কমনওয়েলথ গেমসের পর এবার অলিম্পিক্সের জ্যাভলিনেও সোনা জিতলেন আরশাদ নাদিম। তাও রীতিমতো অলিম্পিক রেকর্ড গড়ে।
পাকিস্তানের প্রথম ক্রীড়াবিদ হিসেবে অলিম্পিক্সের আসর থেকে ব্যক্তিগত বিভাগে সোনা জিতলেন নাদিম। নানা প্রতিবন্ধকতা জয় করেই সেরার শিরোপা নাদিমের।

নাদিমকে সোনা জেতাল ৯২.৯৭ মিটারের থ্রো। শেষ থ্রোটিও ছিল ৯১.৭৯ মিটারের। প্রথম থ্রো ফাউল করেন। দ্বিতীয় প্রয়াসেই সোনার থ্রো। এরপর ৮৮.৮২ মিটার, ৭৯.৪০ মিটার ও ৮৪.৮৭ মিটারের থ্রো এসেছে নাদিমের হাত থেকে।
তবে আগেও তিনি ৯০ মিটারের থ্রো সুনিশ্চিত করেছেন। বার্মিংহ্যাম কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জিতেছিলেন ৯০.১৮ মিটারের থ্রো-র সৌজন্যে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে জেতেন রুপো। নীরজ চোপড়া এবার অলিম্পিক্সে রুপো পেলেন।
নীরজ কেরিয়ারে একবারও ৯০ মিটার পার করতে পারেননি। অলিম্পিক্স ফাইনালে এবার নাদিম দু-বার ৯০ পার করলেন। ফারাক তৈরি হলো সেখানেই। তবে বিশ্ব দেখল পোডিয়ামে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব। জ্যাভলিনের সোনা গেল পাকিস্তানে, ভারতে এলো রুপো।
অলিম্পিক্সে যাওয়ার আগে অবশ্য বিপাকেই পড়েছিলেন নাদিম। কনুই ও হাঁটুর অস্ত্রোপচারের কারণে প্রস্তুতির খুব বেশি সুযোগ পাননি। জ্যাভলিন নিয়েও সমস্যায় পড়েন। একই জ্য়াভলিন ব্যবহার করতে করতে তা জরাজীর্ণ হয়ে যায়।
নতুন জ্যাভলিনের জন্য একটা সময় তিনি সরকারের কাছে আবেদনও করেছেন। পাকিস্তানের বন্ধু আরশাদ নাদিমের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন নীরজ চোপড়া। তিনি যাতে জ্যাভলিন ও ক্রীড়া সরঞ্জাম কিনতে স্পনসর পান, সেজন্য আবেদন জানিয়েছিলেন টোকিও অলিম্পিক্সের সোনাজয়ী নীরজ।
নাদিমের বাবা মহম্মদ আশরাফ এক সাক্ষাৎকারে আগেই জানিয়েছেন, প্রথমদিকে কীভাবে আর্থিক সমস্যা কাটিয়ে উঠতে হয়েছে নাদিমকে। জ্যাভলিন কেনার টাকাও ছিল না। গ্রামবাসীরা ও আত্মীয়রা চাঁদা তুলে নীরজকে ট্রেনিংয়ের বন্দোবস্ত করে দেন বারবার।
১৯৬০ সালে রোমে কুস্তিতে ও ১৯৮৮ সালে সিওলে বক্সিংয়ে পদক জিতেছিল পাকিস্তান। তবে ব্যক্তিগত বিভাগে সোনা এই প্রথম। ১৯৮৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস গেমসে হকিতে সোনা জয়ের পর এবারই কাটল পাকিস্তানের সোনা জয়ের খরা।
নাদিমের সাফল্যে উৎসবের আবহ করাচিতে। মেয়র মুর্তাজা ওয়াহাব নাদিমকে ৫ কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। রাজকীয় সংবর্ধনা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। মা গ্রামের বাড়িতে ছেলের ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।
পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক রশিদ লতিফ বলেছেন, আরশাদ উঠতি খেলোয়াড়দের ও আগামী প্রজন্মের কাছে রোল মডেল হয়ে থাকবেন। ক্রিকেটের দিকেই শুধু না ছুটে এবার অনেকে ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের দিকেও ঝুঁকবেন।
পাকিস্তানের সোনাজয়ী হকি দলের সদস্য আয়াজ মাহমুদ বলেছেন, এখন আমাদের দেশ হকিতে যোগ্যতা অর্জনই করতে পারে না। সেখানে আরশাদ পাকিস্তানের পতাকা উঁচুতে তুলে ধরলেন। পাঞ্জাবের খানেওয়ালের গ্রামের ছেলে আরশাদ যা করে দেখালেন তা চোখে দেখে প্রথমে বিশ্বাসই হচ্ছিল না তাঁর।












Click it and Unblock the Notifications