Paris Olympics: শ্বশুরের মোষ উপহার পছন্দ হয়নি আরশাদের? মনের কথা প্রকাশ্যে আনলেন পাকিস্তানের সোনাজয়ী অ্যাথলিট
পাকিস্তানের নতুন ক্রীড়া আইকন এখন আরশাদ নাদিম। অলিম্পিক্সে সোনা জয়ের পর থেকেই দেশে নায়কের সম্মান পাচ্ছেন আরশাদ। দেশে ফেরার পর থেকে সংবর্ধনা এবং উপহার পেয়েই চলেছে সোনাজয়ী অ্যাথলিট। একাধিক উপহার পেয়েছেন নাদিম। উপহারের তালিকায় রয়েছে একটি মোষ।
দেশে ফিরে নিজের গ্রাম খানেওয়ালে যান আরশাদ। সেখানে আরশাদের শ্বশুর মহম্মদ নওয়াজ তাঁকে একটি মোষ উপহার দিয়েছেন। নওয়াজ জানিয়েছেন, তাঁদের গ্রামে এই উপহার খুব সম্মানের। কিন্তু উপহার হিসেবে গবাদি পশু নয় চেয়েছিলেন জমিও। সোনাজয়ীকে মোষ উপহার দেওয়া নিয়ে চর্চা কম হচ্ছে না।

একটি টিভি অনুষ্ঠানে এই পুরস্কারের বিষয়ে আরশাদকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কিছুটা মজা করেই উত্তর দেন। পাশে বসে থাকা স্ত্রীকে দেখিয়ে বলেন, "ওই আমাকে উপহারের বিষয়ে বলেছিল। আমি পাল্টা প্রশ্ন করেছিলাম উপহার মোষ! তবে তিনি আমাকে তো পাঁচ, ছয় একর জমিও দিতে পারতেন! তবে উপহার হিসেবে মোষ ঠিকই আছে। আমার মনে হয় ওনার আর্থিক অবস্থা যথেষ্ট ভালো। তাই উপহার হিসেবে মোষ দিয়েছেন।"
এই অনুষ্ঠানের নাদিমের উত্তরে সবাই হেসে উঠেন, প্রশ্ন উঠতে শুরু করে তাহলে কি উপহার পছন্দ হয়নি জামাইয়ের।
অ্যাথলেটিক্সে সোনা জিতে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন আরশাদ। কিন্তু পাকিস্তানের আর ৫ জনের মতোই ছোটবেলায় ক্রিকেটার হতেই চেয়েছিলেন আরশাদ। বাবার কাছ থেকে ব্যাটও চেয়েছিলেন। প্যারিসে সোনা জয়ী জ্যাভলিন থ্রোয়ার এই প্রসঙ্গে বলেন, "ক্রিকেটার না হওয়া আমার জীবনে আশীর্বাদের মতো। ক্রিকেটার হলে আমার আর অলিম্পিক্সে অংশ নেওয়াই হত না।"
দেশে ফেরার পর থেকেই তাঁকে নিয়ে উচ্ছাস ও উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। পাচ্ছেন প্রচুর উপহারও। পাঞ্জাব প্রদেশের সরকারের পক্ষ থেকে ১০ কোটি টাকা এবং নতুন একটি গাড়ি পেয়েছেন সোনাজয়ী অ্যাথলিট। সম্প্রতি পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মারিয়াম নওয়াজ আরশাদের গ্রাম মিয়ান চুন্নুতে গিয়েছিলেন তারকা অ্যাথলিট ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে।
প্যারিসের মঞ্চে দুইবার ৯০ মিটারের বেশি থ্রো করে চমকে দিয়েছেন, সেই সঙ্গে সোনা জিতেছেন। দুই বার ৯০ মিটারের বেশি থ্রো করে সোনা জিতে নিয়েছেন। অলিম্পিক্সের ইতিহাসে প্রথমবার ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড থেকে পদক জয়ের নজির গড়েছেন পাকিস্তানের কোনও অ্যাথলিট। ১৯৯২ সালের পরে সাতটি অলিম্পিক্সে কোনও পদক পায়নি পাকিস্তান। সেই খরাও কাটিয়েছেন আরশাদ।
পাকিস্তান অ্যাথলেটিক্স সংস্থার চেয়ারম্যান মহম্মদ আক্রম অবশ্য অভিযোগ করেছেন ক্রিকেটের জন্য দেশে পর্যাপ্ত অনুশীলনের সুযোগ পাচ্ছেন না আরশাদ। তিনি বলেন, দেশের ক্রিকেটের জন্য সমস্যায় পড়ছেন আরশাদ। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পাকিস্তানে এসে লাহোরে রয়েছে। তাই আরশাদকে সেখানকার মাঠে অনুশীলনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। আরশাদের কাছে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল অনুশীলনের মাঠ না পাওয়া। পাকিস্তানের সব বড় মাঠই ক্রিকেটের দখলে। সারা বছরই সেখানে প্রতিযোগিতা চলে। তা হলে আরশাদ কখন অনুশীলন করবে?"












Click it and Unblock the Notifications