Paris Olympics 2024: ভিনেশের ঘটনা থেকে শিক্ষা, আমন রাতভর জেগে ব্রোঞ্জ জিতলেন ১০ ঘণ্টায় ৪.৬ কেজি ওজন কমিয়ে
Paris Olympics 2024: আমন শেরাওয়াত। ১১ বছরের মধ্যে বাবা-মাকে হারিয়েছিলেন। ছত্রশাল স্টেডিয়ামে নিরলস সাধনায় থেকে প্যারিসে অলিম্পিক্স অভিষেকেই জিতলেন ব্রোঞ্জ।
ভিনেশ ফোগাটের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমনের ক্ষেত্রে কোনও ঝুঁকি নেননি ভারতীয় কোচেরা। রাত জেগেই কাটিয়েছেন। ১০ ঘণ্টায় আমন কমাতে পেরেছেন ৪.৬ কেজি ওজন!

বৃহস্পতিবার সেমিফাইনাল বাউটের পর আমনের ওজন দেখা যায় ৬১.৫ কেজি। আমন লড়লেন ফ্রিস্টাইল ৫৭ কেজি বিভাগে। ফলে পরবর্তী ওজন পরিমাপের আগে যে ১০ ঘণ্টা হাতে ছিল তাতে ৪.৬ ওজন কমান আমন। নানা কসরতের মাধ্যমে।
ভিনেশ আটকে গিয়েছিলেন মাত্র ১০০ গ্রামের জন্য। ফাইনালে নামতে পারেননি। তিনি কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টে যে আবেদন করেছিলেন তার শুনানি প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে চলেছে। CAS-এর রায়ে ঠিক হবে ভিনেশ রুপো পাবেন কিনা। ভারতীয় অলিম্পিক সংস্থা আশা ছাড়ছে না।
আমনের ওজন রাতভর পরীক্ষা করেছেন কোচ জগমেন্দর সিং ও বীরেন্দ্র দাহিয়া। তাঁরা ভারতীয় কুস্তি দলের কোচ হিসেবে প্যারিসে গিয়েছেন। জাপানের রেই হিগুচির কাছে আমন সেমিফাইনাল হারেন স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ।
এরপর আর কোনও সময় নষ্ট করা হয়নি। দেড় ঘণ্টা ধরে চলে ম্যাট সেশন। দুই সিনিয়র কোচের তত্ত্বাবধানে সেখানে স্ট্যান্ডিং রেসলিং অনুশীলন করেন আমন। এরপর এক ঘণ্টা ধরে চলে হট বাথ সেশন। রাত সাড়ে ১২টায় জিম সেশন শুরু।
ট্রেডমিলে ১ ঘণ্টা দৌড়ান আমন। এভাবে ঘাম ঝরানোর ফলে কমতে থাকে ওজন। এরপর আমনকে আধ ঘণ্টার ব্রেক দেওয়া হয়। তারপর পাঁচ মিনিট করে পাঁচ দফায় চলে সনা বাথ। শেষ সেশনের পরেও দেখা যায় আমনের ওজন ৯০০ গ্রাম বেশি আছে।
সে কথা আমনকে জানানো হয়। তাঁকে হাল্কা জগিংয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর পাঁচ দফায় ১৫ মিনিট করে দৌড়াতে বলা হয় আমনকে। ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ দেখা যায় আমনের ওজন এসে গিয়েছে ৫৬.৯ কেজিতে, যা ৫৭ কেজির চেয়ে ১০০ গ্রাম কম।
এর ফলে সকলেই স্বস্তি পান। এই কঠোর পরিশ্রমের মধ্যে আমনকে উষ্ণ জলে লেবু ও মধু মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। দেওয়া হয় কফি। আমনও আর ঘুমোতে যাননি। দাহিয়ার কথায়, সারা রাত রেসলিং বাউটের ভিডিও দেখেছি। দিনের পর আমরা কেউ রাতে ঘুমোইনি। প্রতি ১ ঘণ্টা অন্তর ওজন পরিমাপ করে গিয়েছি।
ভারতীয় কুস্তি কোচ দাহিয়ার কথায়, ওজন কমানো রুটিনের মধ্যেই পড়ে। কিন্তু ভিনেশের ঘটনা দেখে সকলেই টেনশনে ছিলাম। আরও একটা পদক হাত থেকে বেরিয়ে যাক, কেউই চাইনি। ভারতের পদকজয়ীদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে আমন ইতিহাস রচনা করায় খুশি সকলেই।












Click it and Unblock the Notifications