নীরজ চোপড়া ডায়মন্ড লিগে সোনা জেতার পরই নিলেন বড় সিদ্ধান্ত, জাতীয় গেমসে নামছেন কি?
টোকিও অলিম্পিকে সোনাজয়ী নীরজ চোপড়া ভারতকে ফের গৌরবান্বিত করলেন ডায়মন্ড লিগের আসরে। প্রথম ভারতীয় হিসেবে জিতলেন পদক, সেটিও আবার সোনা। যদিও এরপরই কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও নিয়েছেন আগামী বছরের দিকে ফোকাস রেখে। আর তাতেই আসন্ন জাতীয় গেমসে তাঁর অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

জাতীয় গেমসে নেই নীরজ?
বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল চলাকালীন কুঁচকিতে চোট পেয়েছিলেন। অংশ নিতে পারেননি বার্মিংহ্যাম কমনওয়েলথ গেমসে। এরপর ফের অনুশীলন শুরু করে ডায়মন্ড লিগের লোজান লেগে শীর্ষস্থান দখল করা। তারপর জুরিখে ডায়মন্ড লিগ জ্যাভলিন ফাইনালে ঐতিহাসিক সোনা জয়। আন্তর্জাতিক মরশুম শেষ। তবে জাতীয় গেমসে সম্ভবত নামছেন না নীরজ। কুঁচকির চোট যাতে বাধা হয়ে না দাঁড়ায় এবং যে ঠাসা ক্রীড়াসূচি রয়েছে সে কথা মাথায় রেখে আপাতত এক-দুই সপ্তাহ অনুশীলন থেকে দূরে থাকার কথা জানিয়েছেন নীরজ। গুজরাতে ২৯ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ১২ অক্টোবর অবধি চলবে জাতীয় গেমস। নীরজ জানিয়েছেন, আমার প্রাথমিক লক্ষ্য হলো আগামী বছর ভালো ফল করা।
|
চলতি মাসেই ন্যাশনাল গেমস
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জাতীয় গেমসের ম্যাসকট ও অ্যান্থেম প্রকাশ করেছেন। কেন্দ্রীয় যুবকল্যাণ ও ক্রীড়ামন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর ঘোষণা করেছেন, এবারের জাতীয় গেমস সবচেয়ে বড় আকারের হবে। ভারতীয় অলিম্পিক সংস্থার তরফে দেশের তাবড় অ্যাথলিটদের অংশ নিতে বলা হয়েছে। সেখানে নীরজ না নামলে জৌলুস কিছুটা হলেও নিশ্চিতভাবেই কমবে। উল্লেখ্য, সাত বছর পর বসছে জাতীয় গেমসের আসর। টোকিও অলিম্পিকে সোনা, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে রুপো, ডায়মন্ড লিগে সোনাজয়ী নীরজ পরে মত বদলান কিনা সেটা দেখার। তবে এখনও অবধি তাঁর জাতীয় গেমসে অংশ না নেওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল। তাঁর কথাতেও সেই ইঙ্গিতই মিলেছে।

নীরজের সাফল্য
নীরজ ডায়মন্ড লিগের লোজান লেগে ৮৯.০৮ মিটার দূরত্বে বর্শা নিক্ষেপ করে খেতাব জিতে ইতিহাস গড়েছিলেন। জুরিখে তাঁর প্রথম থ্রো ফাউল হয়। দ্বিতীয় থ্রো ছিল ৮৮.৪৪ মিটারের, যা তাঁকে শীর্ষস্থানে পৌঁছে দেয়। নীরজের কেরিয়ারের সেরা থ্রো-র নিরিখে এটি চতুর্থ। এই থ্রো-ই এবার ডায়মন্ড লিগে তাঁর সোনা জয় নিশ্চিত করে দেয়। পরের চারটি থ্রো ছিল যথাক্রমে ৮৮ মিটার, ৮৬-১১ মিটার, ৮৭ মিটার ও ৮৩.৬০ মিটারের। অলিম্পিক রুপোজয়ী চেক প্রজাতন্ত্রের জাকুব ভালদেচ রুপো জেতেন, তাঁর সেরা থ্রো ছিল ৮৬.৯৪ মিটারের। ব্রোঞ্জ জিতেছেন জার্মানির জুলিয়ান ওয়েবার, ৮৩.৭৩ মিটারের থ্রো-র সৌজন্যে।

অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে
টোকিও অলিম্পিকে সোজা জেতার পর বাণিজ্যিক সংস্থার হয়ে বিজ্ঞাপন-সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ায় নীরজের শরীরের উপর ভালোই ধকল পড়েছে। ফিটনেস বজায় রেখে নিজের সেরাটা দেওয়াই হয়ে ওঠে চ্যালেঞ্জিং। তবে সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নীরজ এবার বেশ কিছু বদল আনছেন তাঁর পরিকল্পনায়। তিনি ঠিক করেছেন, বাণিজ্যিক সংস্থাগুলির জন্য অনেক আগে থেকেই দিন ঠিক করে দেবেন। কিন্তু অনুশীলনের সময় শুধু তাতেই ফোকাস রাখবেন। যাতে প্রস্তুতিতে কোনও খামতি না থাকে। নীরজ বলেন, খুব বেশি বিশ্রাম নেব না। খুব বেশি খাওয়া-দাওয়াও করব না ওজনের বিষয়ে সচেতন থেকে। অনুশীলন শুরু করতেও খুব বেশি সময় নেব না। অলিম্পিকের পর অনুশীলন শুরু করতে দেরি হয়েছিল। ফিটনেস বজায় রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। টেকনিক, স্ট্রেংথের উপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন নীরজ। ৯০ মিটার দূরত্বের মাইলস্টোন স্পর্শ করতে না পারলেও হতাশ নন। তাঁর কথায়, ৯০ মিটারের মার্ক ছুঁয়েও পদক না এলে লাভ নেই। নীরজ আরও বলেন, অনেকেই খালি সোনা দেখতে চান। সব সময় সোনা জেতা সম্ভব হয় না। এ কথা মাথায় রেখে অ্যাথলিটদের পাশে থাকার আবেদনও জানিয়েছেন সোনার ছেলে।












Click it and Unblock the Notifications