National Games 2025: জাতীয় গেমসে বাংলার প্রথম রুপো ভারোত্তোলনে, শ্রাবণীর বড় লক্ষ্য ধাওয়া করতে দরকার চাকরি
National Games 2025: উত্তরাখণ্ডে চলতি জাতীয় গেমসে বাংলার পদকের সংখ্যা বেড়ে হলো ৪। আজ প্রথম রুপোটি এনে দিলেন ভারোত্তোলক শ্রাবণী দাস।
এর আগে, উশুতে দেবেশ শ ও লক্ষ্মী রায় এবং হাই বোর্ড ডাইভিংয়ে ঈপ্সিতা মহাজন ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। বাংলাকে প্রথম রুপো এনে দিতে পেরে খুশি দেউলপুরের শ্রাবণী।

শ্রাবণী নেমেছিলেন ৫৫ কেজি বিভাগের ভারোত্তোলনে। স্ন্যাচে ৮১ এবং ক্লিন অ্য়ান্ড জার্কে ১০৬ কেজি, সবমিলিয়ে ১৮৭ কেজি তুলে রুপো নিশ্চিত করেন। সোনা জিতেছেন বিন্দিয়ারানি দেবী। স্ন্যাচে ৮৮ ও ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১১৩ কেজি তুলে।
বিন্দিয়ারানি দেবী ২০২২ সালের বার্মিংহ্যাম কমনওয়েলথ গেমসে রুপো জিতেছিলেন। এ ছাড়াও নানা আন্তর্জাতিক আসরে পদক জিতেছেন। পদক জেতার পর ওয়ানইন্ডিয়া বাংলাকে শ্রাবণী বললেন, বিন্দিয়ারানি দেবীর যা ট্র্যাক রেকর্ড তাতে জানতাম তিনি অনেক এগিয়ে। আমি নিজের সেরাটা দিয়ে তাঁর পরেই থাকতে পেরে সন্তুষ্ট।
বছর বাইশের শ্রাবণীর ভারোত্তোলন শেখা শুরু বছর দশেক আগে। দেউলপুর গ্রামে ভারোত্তোলন প্রতিযোগিতা হতো। দেউলপুর বজরংবলী ব্যায়াম সমিতিতে শ্রীকান্ত মোদী, প্রলয় বাগদের প্রশিক্ষণে ভারোত্তোলন চালিয়ে যেতে থাকেন শ্রাবণী।
শ্রাবণী গোয়ায় অনুষ্ঠিত ৩৭তম জাতীয় গেমসে অংশ নিয়েছিলেন। সেবার পদক অধরা ছিল। শ্রাবণীর কথায়, সেবার ছিল আমার প্রথম জাতীয় গেমস। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নিজের ভুলত্রুটি শুধরে নিতে পেরেছি। এবার লক্ষ্য় ছিল সেরাটা দেওয়া।
শ্রাবণী বাংলার মেয়ে হলেও উন্নতমানের প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন পাতিয়ালার ন্যাশনাল সেন্টার অব এক্সেলেন্সে। সেখানে ২০২২ সাল থেকে রয়েছেন শ্রাবণী। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে সাফল্য পাওয়া ভারোত্তোলকদের পাশাপাশি অনুশীলনের ফাঁকে অনেক কিছু শেখার চেষ্টা করে নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন।
শ্রাবণীর বাবা জরির কাজ করেন। পরিবারের মূল উপার্জন সেটাই। শ্রাবণীর সিনিয়র কোচ শ্রীকান্ত মোদী রেলে কর্মরত, আরেক কোচ প্রলয় বাগ সিভিক। তাঁরাও আর্থিকভাবে যতটা পারেন শ্রাবণীর এগিয়ে চলার পথে সাহায্য করেন, মনোবল বাড়ান।
সে অর্থে শ্রাবণীর ভারোত্তোলনে কোনও আইডল নেই। তবে জাতীয় গেমসে পদক জয় শ্রাবণীকে বড় লক্ষ্য ধাওয়া করার ক্ষেত্রে প্রেরণা দিচ্ছে। রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছে, জাতীয় গেমসে পদকজয়ীদের চাকরি দেওয়ার।
যদিও এই ঘোষণা শ্রাবণীকে উদ্বুদ্ধ করেনি। তার কারও আছে। শ্রাবণীর কথায়, আমাদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে প্রচুর খরচ হয়। আমি গ্রামে যেখানে প্র্যাকটিস করতাম তার তুলনায় পাতিয়ালায় ন্যাশনাল সেন্টার অব এক্সেলেন্সে অনেক উন্নতমানের পরিকাঠামো। তাতে অনেকটাই সুবিধা হয়েছে। কিন্তু কেরিয়ার এগিয়ে নিয়ে যেতে তো চাকরি দরকার। পরিবার বা কোচেদেরও তো সীমিত সাধ্য।
বাংলায় পরিকাঠামো না থাকাতেই শ্রাবণীদের পাড়ি দিতে হয়েছে ভিনরাজ্যে। চাকরির আশ্বাস আগে পেলেও কাজ হয়নি। শ্রাবণী জানালেন, আগে মেডেল জেতায় আর্থিক পুরস্কার পেয়েছি। চাকরির আশ্বাস পেয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েও চাকরি পাইনি। ফলে এবার চাকরি দেওয়ার কথা সংবাদমাধ্যম থেকে জেনেছি। কিন্তু সে কথা মাথায় ছিল না পারফরম্যান্সের সময়। নিজের সেরাটা দিয়েছি। রাজ্য তথা দেশকে গৌরবান্বিত করাই আমার লক্ষ্য। এবারের সাফল্যে যদি সত্যিই চাকরি মেলে তাহলে ভালোই হবে।
শ্রাবণী জাতীয় গেমসে অংশ নিতে গিয়েছেন সরাসরি পাতিয়ালা থেকেই। অন্যান্য ভারোত্তোলকদের সঙ্গে। ফলে যাতায়াতে তাঁকে কোনও অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়নি। শ্রাবণী ধাপে ধাপে আন্তর্জাতিক আসরেও সাফল্য পেতে চান। জানালেন, হয়তো পরে ওজনের বিভাগ বদলাবে। তবে আমি তৈরি।












Click it and Unblock the Notifications