মো ফারাহ-র স্বীকারোক্তিতে চাঞ্চল্য! অলিম্পিক কিংবদন্তির আসল পরিচয় তবে কী?

অলিম্পিকে চারটি সোনাজয়ী কিংবদন্তি অ্যাথলিট স্যর মহম্মদ মুক্তার জামা ফারাহ (Sir Mohamed Muktar Jama Farah)। খেলার জগতে তিনি পরিচিত মো ফারাহ নামে। যদিও সেটি তাঁর আসল নাম নয় বলেই দাবি করলেন তিনি নিজে। আফ্রিকার দেশ জিবুতি থেকে তাঁকে পাচার করে ব্রিটেনে আনা হয়েছিল বলে জানালেন মো ফারাহ।

মো ফারাহ-র স্বীকারোক্তি

মো ফারাহ-র স্বীকারোক্তি

২০১২ সালের লন্ডন ও ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকের ৫ হাজার ও ১০ হাজার মিটারে সোনা জেতেন মো ফারাহ। বিবিসির দ্য রিয়াল মো ফারাহ (The Real Mo Farah) ডকুমেন্টারিতে সেই কিংবদন্তি অ্যাথলিট জানিয়েছেন, তাঁর আসল নাম হুসেন আবদি কাহিন (Hussein Abdi Kahin)। তাঁর জন্ম ব্রিটেনে নয়, উত্তর সোমালিয়ার সোমালিল্যান্ডে। তাঁর বাবা-মা কখনও ব্রিটেনে বসবাসও করেননি। মো ফারাহ বলেন, আমার যখন চার বছর বয়স তখন আমার বাবা গৃহযুদ্ধে প্রাণ হারান। এরপর আমার মা আমাকে ও দুই ভাইকে নিয়ে সোমালিল্যান্ডে থাকতেন, যে জায়গাটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নেই। পরে মায়ের থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে যাই। অবৈধভাবে আমাকে ইউকে-তে নিয়ে আসা হয়।

অবৈধভাবে ব্রিটেনে প্রবেশ

অবৈধভাবে ব্রিটেনে প্রবেশ

এর আগে বিভিন্ন সময় ৩৯ বছরের মো ফারাহ দাবি করে এসেছেন, তিনি ব্রিটেনে তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে উদ্বাস্তু হিসেবে প্রবেশ করেছিলেন। যদিও এবার ফারাহ-র দাবি কিন্তু অন্য কথাই বলছে। মো ফারাহ বলেন, সত্যিটা হলো আমাকে সকলে যেভাবে চেনেন আমি সে নই। আমাকে বেশিরভাগ মানুষ জানেন মো ফারাহ বলে। কিন্তু এটা আমার নাম নয়, এটাই বাস্তব। ফারাহ-র কথায়, যে মহিলা আমাকে ইউকে-তে নিয়ে এসেছিলেন তিনি বলেছিলেন, ইউরোপে আত্মীয়দের কাছে আমাকে রাখা হবে। ট্রাভেল ডকুমেন্ট জাল হওয়ায় আমাকে মহম্মদ নামটি বলে পরিচয় দিতে বলা হয়। জাল ট্রাভেল ডকুমেন্টে তাঁর ছবির সঙ্গে নাম লেখা ছিল মো ফারাহ বলে। তবে যে মহিলা তাঁকে নিয়ে যাচ্ছিলেন তাঁকে আগে থেকে তিনি চিনতেনও না।

বিভীষিকার জীবনে দৌড়েই মুক্তির স্বাদ

বিভীষিকার জীবনে দৌড়েই মুক্তির স্বাদ

মো ফারাহ বলেন, আমার আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সব তথ্য আমার কাছে ছিল। কিন্তু ওই মহিলা তাঁর বাড়িতে আমাকে নিয়ে যাওয়ার পর আমার থেকে সেইসব তথ্য সম্বলিত কাগজ আমার সামনেই ছিঁড়ে ডাস্টবিনে ফেলে দেন। তখনই আমি সমস্যায় পড়ে যাই। মো ফারাহ আরও জানিয়েছেন, ৯ বছর বয়সে তাঁকে পরিচারকের কাজ করার পাশাপাশি বাচ্চার দেখাশোনার কাজও করতে হতো। খিদে পেলে যখন খাবার চাইতেন তখন শুনতে হয়েছে, পরিবারের লোকজনদের সঙ্গে যদি কোনওদিন দেখা করতে হয় তবে কোনও কথা বলা যাবে না! বাথরুম বন্ধ করে দিনের পর দিন কাঁদতেন মো ফারাহ। আর এই বন্দিজীবন থেকে মুক্তির স্বাদ ও আনন্দ পেতেন দৌড়ের মধ্যেই।

স্বাভাবিক জীবনযাপনের লক্ষ্যে

স্বাভাবিক জীবনযাপনের লক্ষ্যে

ফারাহ বলেন, তিনি এখন সব সত্য উদ্ঘাটনের পর স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চান। কোনও কিছু কারও কাছে যেন আর লুকিয়ে রাখতে না হয়। অনেক সময় নিজের সন্তানের প্রশ্নও তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলত, সব কিছুর উত্তর দিতে পারছিলেন না। ২০১০ সালে বিয়ের আগে স্ত্রী তানিয়ারও কিছু বিষয়ে সন্দেহ হয়েছিল। অনেক যোগসূত্র পাচ্ছিলেন না। তবে তানিয়াকে সত্যি আগেই জানিয়েছিলেন ফারাহ। ফিজিক্যাল এডুকেশন টিচার অ্যালান ওয়াটকিনসন লক্ষ্য করেছিলেন রানিং ট্র্যাকে মো ফারাহ-র মুড পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। ফারাহ ওয়াটকিনসনকেও বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছিলেন। ওয়াটকিনসন ফারাহ-র ব্রিটিশ নাগরিকত্বের ব্যবস্থা করতে উদ্যোগী হন। ২০০০ সালের ২৫ জুলাই ব্রিটেনের নাগরিক হন ফারাহ। তিনি বলেন, বিমানে আমি যাঁর নাম পেয়ে মহম্মদ হয়েছি, আশা করি তখনকার সেই বালকও নিশ্চিতভাবেই কোথাও ভালোই আছেন।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+