দেশের ৭২তম তথা বাংলার নবম গ্র্যান্ডমাস্টার দিব্যেন্দু-অতনুর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মিত্রাভ গুহ
দেশের ৭২তম তথা বাংলার নবম গ্র্যান্ডমাস্টার হলেন মিত্রাভ গুহ। সার্বিয়ার নোভি সাদে জিএম থার্ড স্যাটারডে মিক্স ২২০-তে অংশ নিয়ে তৃতীয় তথা চূড়ান্ত জিএম নর্ম নিশ্চিত করেছেন তিনি। আর সেই সুবাদেই গ্র্যান্ডমাস্টার হয়ে গেলেন মিত্রাভ। ১৩ দিন আগে বাংলাদেশে শেখ রাসেল জিএম টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় জিএম নর্ম পান তিনি।

গ্র্যান্ডমাস্টারের স্বীকৃতি পেতে কোনও দাবাড়ুকে তিনটি জিএম নর্ম নিশ্চিত করতে হয় এবং আড়াই হাজারের এলো পয়েন্ট লাইভ রেটিং অতিক্রম করতে হয়। সার্বিয়ার গ্র্যান্ডমাস্টার নিকোলা সেদলাককে নবম রাউন্ডে পরাস্ত করে গ্র্যান্ডমাস্টার হওয়া নিশ্চিত করেছেন মিত্রাভ। সার্বিয়ার টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় রাউন্ডেই ২৫০০-এর এলো পয়েন্টের সীমানা অতিক্রম করে যান তিনি। টুর্নামেন্টে টানা চারটি জয় ছিনিয়ে নেওয়ার পর পঞ্চম রাউন্ডে ইতালির গ্র্যান্ডমাস্টার পিয়ের লুইজি বাসোর সঙ্গে ড্র করেন মিত্রাভ। ষষ্ঠ রাউন্ডে তিনি হেরে গিয়েছিলেন রাশিয়ার গ্র্যান্ডমাস্টার ভ্লাদিমির জাখারতসভের কাছে। যদিও এরপর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে তিনি হারিয়ে দেন সার্বিয়ার গ্র্যান্ডমাস্টার মিরোস্লাভ মার্কোভিচকে। সেদলাককে পরাস্ত করে নিশ্চিত করলেন গ্র্যান্ডমাস্টার স্বীকৃতি। ২০ বছরের মিত্রাভ প্রথম জিএম ও আইএম নর্ম পেয়েছিলেন স্পেনে সান্তি মার্তির ইভেন্টে, ২০১৮ সালে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই তিনি বেশ কয়েকটি ইভেন্ট জেতেন, যার মধ্যে ছিল এআইসিএফ ন্যাশনাল অনলাইন সিনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপ। ফ্রেন্ডলি ব্লিৎজ ম্যাচে তিনি এক ঘণ্টার মধ্যে দুবার হারিয়েছিলেন ম্যাগনাস কার্লসেনকে।
চার বছর বয়স থেকে দাবা খেলছেন মিত্রাভ গুহ। অল্প বয়সেই তিনি জাতীয়, এশীয় ও কমনওয়েলথ বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় খেতাব জেতেন। দিব্যেন্দু বড়ুয়া ও অতনু লাহিড়ীর কাছে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তবে ২০১৮ সাল থেকে তিনি কারও কাছে প্রশিক্ষণ নেননি। নিজের খেলার উন্নতি ঘটাতে নিজের অভিজ্ঞতাকেই কাজে লাগাচ্ছেন। মিত্রাভর বাবা রাজ গুহ বলেছেন, ১৬৩৭ থেকে ২৫১৩-র সফরে রয়েছে অনেক সংগ্রাম। আমি নিজে দিব্যেন্দু বড়ুয়ার বড় ভক্ত। গুডরিক ইন্টারন্যাশনালে বিশ্বনাথন আনন্দের মুখোমুখি তিনি যখন হয়েছিলেন গোর্কি সদনে সেই খেলা দেখতে আমি গিয়েছিলাম। মিত্রাভর যখন চার বছর বয়স আমরা তাঁকে দিব্যেন্দু বড়ুয়ার কাছে নিয়ে যাই। যেহেতু মিত্রাভর তখন এতটাই কম বয়স তাই দিব্যেন্দু বড়ুয়ার আকাদেমিতে ভর্তি করাতে আমি নিজে দ্বিধায় ভুগছিলাম। কিন্তু আমার স্ত্রী সুজাতা চাইছিলেন ছেলেকে ওই আকাদেমিতেই ভর্তি করাতে। এত অল্প বয়সে মিত্রাভর আগে কেউ ওই আকাদেমিতে ভর্তি হয়নি। মিত্রাভর বাবার কথায়, দিব্যেন্দু বড়ুয়ার প্রশিক্ষণেই দ্রুত নিজের প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে অনূর্ধ্ব ৭ রাজ্য দাবায় চ্যাম্পয়ন হন মিত্রাভ। এরপর ক্রমান্বয়ে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টে সাফল্য আসতে থাকে।
বেঙ্গল চেস অ্যাসোসিয়েশনের সিইও তথা মিত্রাভর কোচ ও মেন্টর অতনু লাহিড়ী বলেন, মিত্রাভ এক বিরল প্রতিভা যিনি যে কোনও পরিস্থিতি থেকে খেলার মোড় খুব দ্রুত নিজের পক্ষে নিয়ে আসতে পারেন। তাঁর অনেক পথ চলা বাকি। প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পেলে বিশ্বের অন্যতম সেরা হয়ে ওঠার সবরকম গুণ রয়েছে ২০ বছরের মিত্রাভর। করোনা পরিস্থিতি কাটিয়ে ক্রীড়াক্ষেত্র স্বাভাবিক ছন্দে ফিরলে বাংলা থেকে আরও গ্র্যান্ডমাস্টার উঠে আসতে পারবেন বলেও আশাবাদী রাজ্য দাবা সংস্থা।












Click it and Unblock the Notifications