কুস্তিগীররা দেশের মডেল, বাংলার ২ কুস্তিগীরকে চাকরি মমতার, 'নন্দলাল' কটাক্ষে বিঁধলেন মোদীকে
দিল্লিতে কুস্তিগীরদের উপর পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে আজ দ্বিতীয়দিনও পথে নামলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গোষ্ঠ পালের মূর্তির পাদদেশ থেকে তিনি সাক্ষী, বজরংদের পাশে থাকার বার্তা দিলেন। নেতৃত্ব দিলেন গান্ধী মূর্তিক পাদদেশ পর্যন্ত পদযাত্রায়।
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মোমবাতি মিছিল করে গিয়ে বাপুজির আশীর্বাদ নেব। কুস্তিগীরদের সঙ্গে যা হয়েছে তা সব জগতের মানুষের সঙ্গেই হতে পারে। এটা চলতে দেওয়া যায় না। আজাদির জন্য লড়াই চালাতে হবে। নরেন্দ্র মোদীর নাম না করে তাঁকে নন্দলাল কটাক্ষেও বিঁধলেন মমতা।

হাজরা মোড় থেকে রবীন্দ্র সদন অবধি পদযাত্রার পরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজকের কর্মসূচির ঘোষণা করেছিলেন। তিনি প্রথমে গোষ্ঠ পালের মূর্তিতে মাল্যদান করেন। সেখানে দুই কুস্তির লড়াইয়ে নামেন দুই কুস্তিগীর। তাঁরা যে ম্য়াটে লড়লেন সেটিকেই পবিত্র মঞ্চ হিসেবে উল্লেখ করে তার উপর দাঁড়িয়েই বক্তব্য পেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের কমিউনিটি ছোট নয়। অলিম্পিক, ক্রিকেট, ফুটবল-সহ খেলা হলেই সকলের চোখ থাকে টিভিতে। কুস্তিগীররা দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছেন। সকলকে অভিনন্দন। অনেক কষ্ট সহ্য করে দেশের জন্য লড়াই করতে গিয়ে তাঁদের ঘাম ঝরেছে, পরিশ্রম করতে হয়েছে। অনেকে ঠিকমতো খেতেও পান না।

পাশে বসে থাকা দুই কুস্তিগীরকে দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ওঁদের জিজ্ঞেস করেছিলাম কুস্তি লড়তে দুধ খেতে পারেন কিনা। তাঁদের একজন বললেন, একশো দিনের কাজ করে কুস্তির অনুশীলন করি। খেলোয়াড়রা গরিব ঘর থেকে আসেন। তাঁদের জেদ থাকে। তা চমকে থাকে না, মাটির মধ্যেই থাকে। সেই কুস্তিগীরদের অত্যাচার সহ্য করতে হচ্ছে।

ব্রিজ ভূষণ শরণ সিং ভারতের কুস্তি ফেডারেশন সভাপতির পদ থেকে সরে গিয়েছেন বলে দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় যুবকল্যাণ ও ক্রীড়ামন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বীরপুঙ্গববাবু পদত্যাগ করেননি। পদত্যাগ করে লাভ নেই। বিজেপি উপযুক্তদের না রেখে নিজেদের লোককে সব ক্রীড়া সংগঠনের মাথায় বসিয়েছে।

মমতার কথায়, পসকো কেসে আগেই অ্যারেস্ট করা উচিত ছিল। সুপ্রিম কোর্ট বলার পরেও গ্রেফতার হলো না। নাটক করে ভয় দেখানো, চমকানো হচ্ছে। এতে লজ্জা অনুভব করছি। বিশ্ব কুস্তি সংস্থা ভারতের ফেডারেশনকে নির্বাসিত করার কথাও বলেছে। কুস্তিগীরদের পদক দেশের মেডেল। তাঁরা দেশের মডেল।
প্রধানমন্ত্রীর নাম না নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ছবি তুলে এমন ভাব করলেন যেন আপনাদের দেওয়া দুধ খেয়েই খেলোয়াড়রা তৈরি হয়েছেন। তাঁরা যখন মাটিতে থাকেন তখন সামাল দিতে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। প্রশাসন, সরকার ভুল করেছে। প্রতিবাদ কাউকে না কাউকে তো করতেই হবে। নন্দলাল চুপ কেন?
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমি যখন দেশের ক্রীড়ামন্ত্রী ছিলাম তখন নিয়ম করেছিলাম যাতে কোনও রাজনীতিবিদ কোনও ক্রীড়া সংস্থার শীর্ষপদে না থাকেন। কিন্তু ক্রিকেট বোর্ড থেকে দেশের বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থা, এমনকী রাজ্য সংস্থাগুলিতেও শীর্ষপদে বসানো হচ্ছে বিজেপির নেতাদের।

প্রতিবাদী কুস্তিগীরদের সঙ্গে কথা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁরা যেভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তাকে সমর্থনের বার্তাও দেন। তিনি নিজেও দিল্লিতে যাওয়ার সম্ভাবনা ওড়ালেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমি সাংসদদের টিমও পাঠিয়েছিলাম। দেখি বিজেপি কী করে। গ্রেফতার না করলে আইন ছেড়ে কথা বলবে না।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ওয়ান ল ওয়ান নেশনের কথা বলা হয়। কিন্তু কেন বৈষম্য? কেন প্রতিবাদী কুস্তিগীররা সুরক্ষা পাবেন না? সুপ্রিম কোর্ট এফআইআর দায়ের করতে বলেছে। পুলিশ বলছে কিছু পাইনি। ঘটনা ঘটে যাওয়ার এতটা সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর বলছে প্রমাণ মেলেনি। বিজেপি যা বলে এরা তাই করে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, হাম জিন্দা হ্যায়। লড়েঙ্গে। সবাইকে সিবিআই, ইডি দেখায়। দেখি ওদের কত কোর্ট, জেল আছে। কোর্টের গ্রীষ্মকালীন অূবকাশের পর দেখব কী হয়। পথে থেকেই দোষীদের শাস্তির দাবিতে আন্দোলনে সকলকে এগিয়ে আসার আর্জি জানানো হয়।
অলিম্পিয়ান-সহ বাংলার ক্রীড়াবিদরা এদিনের কর্মসূচিতে সামিল হন। ব্যানারে দোষীদের শাস্তি ও ন্যায়বিচারের দাবি জানানো হয়। দুই কুস্তিগীরকে চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এই কর্মসূচি চলাকালীন এক সাংবাদিক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর চিকিৎসার বন্দোবস্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর গাড়িতে হাসপাতালে পাঠান অসুস্থ সাংবাদিককে। পরে নিজে একটি মোটরবাইকে চেপে হাসপাতালে ওই সাংবাদিককে দেখতে এসএসকেএম হাসপাতালে যান মুখ্যমন্ত্রী।












Click it and Unblock the Notifications