ভুল স্টেডিয়ামে পৌঁছে গিয়েছিলেন টোকিও গেমসে সোনাজয়ী অ্যাথলিট, সাহায্যে এগিয়ে এলেন কে?
টোকিও অলিম্পিকে সোনা জেতা অ্যাথলিট ভুল করে অন্য ভেন্যুতে চলে গিয়েছিলেন
টোকিও অলিম্পিকে পুরুষদের ১১০ মিটার হার্ডলস ইভেন্টে সোনা জেতেন জামাইকার হান্সলে পার্চমেন্ট। এ খবর তো সবারই জানা। কিন্তু ওই সফল অ্যাথলিট সম্পর্কে যে তথ্য অনেকেই জানেন না, সেটাই এবার চলে এল প্রকাশ্যে। জানা গেল যে সোনা তো দূর, আর একচুল এদিক-ওদিক হলে ইভেন্টেই অংশ নিতে পারতেন না পার্চমেন্ট। এক সহৃদয় স্বেচ্ছাসেবকের সৌজন্যে অবশেষে লড়াই জিততে সক্ষম হন জামাইকার স্প্রিন্টার।

সদ্য শেষ হওয়া অলিম্পিকে পুরুষদের ১১০ মিটার হার্ডলস ইভেন্টে সোনা জেতা হান্সলে পার্চমেন্ট এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে নিজেই এ ব্যাপারে আলোকপাত করেছেন। জানিয়েছেন যে কীভাবে তিনি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ভুল স্টেডিয়ামে পৌঁছে গিয়েছিলেন। বিষয়টি বোঝার পর দিকদিশা হারানো জামাইকার স্প্রিন্টারকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছিলেন এক স্বেচ্ছাসেবক। অবশেষে শুধু সঠিক জায়গায় পৌঁছনো নয়, সোনা জিতে দেশকে গর্বিত করতে পেরে আপ্লুত হয়েছেন পার্চমেন্ট। ধন্যবাদ জানিয়েছেন ওই স্বেচ্ছাসেবককে।
অ্যাথলিট জানিয়েছেন, সেদিন তাঁর টোকিও অলিম্পিকের ১১০ মিটার হার্ডলসের সেমিফাইনালে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত স্টেডিয়ামে পৌঁছনোর জন্য তাঁর যে বাস ধরার কথা ছিল, তার পরিবর্তে তিনি অন্য রুটের বাসে উঠে পড়েছিলেন বলে জানিয়েছেন পার্চমেন্ট। স্বভাবতই ভুল স্টেডিয়ামে নামিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। মাঠে ঢোকার মুখে ওই অ্যাথলিট জানতে পারেন যে তিনি সমস্যায় পড়ে গিয়েছেন। এর জন্য নিজেকেই দায়ী করেছেন পার্চমেন্ট। স্বীকার করেছেন যে তাঁর কানে গোজা হে়ড ফোনে এত জোরে গান বাজছিল যে তিনি কিছু শুনতেই পাননি।
জামাকাইর অ্যাথলিট ভুল করে যে স্টেডিয়ামে পৌঁছে গিয়েছিলেন সেখানে রোয়িং ইভেন্ট চলছিল। ইতিমধ্যে নিজের দেশের অন্যান্য অ্যাথলিট, কোচ এবং সাপোর্ট স্টাফদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করে দেন পার্চমেন্ট। অধিকাংশই তাঁকে গেমস ভিলিজে ফিরে সেখান থেকে তাঁর গন্তব্যের বাস ধরার পরামর্শ দেন বলে জানিয়েছেন জামাইকার স্প্রিন্টার। তা করলে নিজের ইভেন্টে তাঁর সময় মতো পৌঁছনো সম্ভব হতো না বলেও জানিয়েছেন পার্চমেন্ট।
অবস্থার প্রেক্ষাপটে দিশাহারা হয়ে তিনি টোকিও ২০২০-র গাড়ি পরিষেবার খোঁজ শুরু করেন। তবে তাতে সফরের নিয়ম ছিল কড়া। তখনই কার্যত দেবদূতের মতোই গেমসের এক মহিলা স্বেচ্ছাসেবক তাঁর সাহায্যে এগিয়ে আসেন বলে জানিয়েছেন পার্চমেন্ট। জামাইকার অ্যাথলিটের হাতে টাকা গুজে দিয়ে তাঁকে নির্ধারিত ভেন্যুর ট্যাক্সিতে উঠিয়ে দেন ওই মহানুভব।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে এই অজনা তথ্য জানানোর সময় আবেগতাড়িত হয়েছেন জামাইকার স্প্রিন্টার। এও জানিয়েছেন যে ১১০ মিটার হার্ডলসে সোনা জয়ের পর ওই মহিলা স্বেচ্ছাসেবকের সঙ্গে তাঁর আর দেখা করা সম্ভব হয়নি। তবে তিনি ওই উপকারির সঙ্গে যেনতেন প্রকারেণ সাক্ষাৎ করতে চান বলেও জানিয়েছেন পার্চমেন্ট। জানাতে চান যে তিনি নিজের দেশকে সোনা জিতে গর্বিত করেছেন। তা সম্ভবই হতো না, যদি টোকিও গেমসের ওই মহিলা স্বেচ্ছাসেবক সাহায্যে না এগিয়ে আসতেন। এই অসাধারণ কাহিনি বিশ্বের ক্রীড়াপ্রেমীদের মন জয় করেছে।
গত ৫ অগাস্ট টোকিও অলিম্পিকের ১১০ মিটার হার্ডলসের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ১৩.০৪ সেকেন্ডে প্রতিযোগিতা শেষ করে প্রথম হয়েছিলেন ৩১ বছরের পার্চমেন্ট। হারিয়েছিলেন আমেরিকার দাপুটে প্রতিযোগীকে।












Click it and Unblock the Notifications