Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

Exclusive: মানসিক দৃঢ়তায় পিছিয়ে ভারতের শুটাররা, টোকিও অলিম্পিকে ব্যর্থতা দেখে উপলব্ধি জয়দীপের

একের পর ইভেন্ট যাচ্ছে। হতাশ করছেন ভারতীয় শুটাররা। মানু ভাকের, সৌরভ চৌধুরী, অঞ্জুম মৌদগিল, দিব্যাংশ সিং পানওয়ার, দীপক কুমাররা ব্যক্তিগত কিংবা দলগত ইভেন্ট সবেতেই ব্যর্থ। রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়াও হতাশ, অলিম্পিক শেষ হলেই হবে ব্যর্থতার ময়নাতদন্ত। কোথায় খামতি রয়েছে ভারতীয় শুটারদের, সে সম্পর্কে ওয়ানইন্ডিয়া বাংলার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতকারে বেশ কিছু দিককেই চিহ্নিত করলেন অলিম্পিয়ান জয়দীপ কর্মকার।

প্রত্যাশাপূরণে বিপর্যয়

প্রত্যাশাপূরণে বিপর্যয়

যেভাবে ১০ মিটার এয়ার পিস্তল ও এয়ার রাইফেলে ভারতীয় শুটাররা হতাশাজনক পারফরম্যান্স উপহার দিলেন তা অপ্রত্যাশিত বলেই মনে করেন জয়দীপ কর্মকার। তাঁর কথায়, প্রথম দিকের ব্যক্তিগত ইভেন্ট থেকে অনেকে পদক আশা করছিলেন। আমি অলিম্পিকের শুরু থেকে নিশ্চিত ছিলাম মিক্সড ইভেন্টে একটা আরেকটা হয়তো ব্যক্তিগত কোনও ইভেন্ট থেকে পদক আসবে। তাছাড়া ব্যক্তিগত কোনও ইভেন্টে বেশি পদক এনে সেটা বোনাস। মিক্সড ইভেন্টেই সেরা সুযোগ ছিল। ভারতীয় শুটারদের দুটি মিক্সড ইভেন্ট থেকেই পদক আনা উচিত ছিল। সোনা হবে কিনা তা বলা যায় না, কিন্তু যাঁরা নেমেছিলেন তাঁদের অন্তত পদক নিশ্চিত করার দক্ষতা রয়েছে। অথচ একজন যোগ্যতা অর্জন পর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠলেন, আরেকজন পারলেন না। পরে এলাভেনিলদের ইভেন্টেও একইরকম ব্যর্থতা! না পিস্তলে ভালো হল, না রাইফেলে, এটাকে বিপর্যয় বলাই ভালো। খুবই নিরাশাজনক রেজাল্ট। খুব খারাপ লাগছে।

প্রশাসনিক খামতি নেই

প্রশাসনিক খামতি নেই

কী কারণে বিপর্যয়, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-তর্ক। জয়দীপ কর্মকার বললেন, ফেডারেশন যথেষ্ট চেষ্টা করেছে। অনেক কিছু করেছে শুটিং দলের জন্য। আমরা তথাকথিত সিস্টেমের বাইরে থাকায় সব কথা খোলামেলা বলতে পারি, প্রয়োজনে সমালোচনাও করি। কিন্তু ফেডারেশন বা সরকারের দিক দিয়ে ব্যবস্থাপনায় কোনও খামতি ছিল না। শুটারদের জন্য টার্গেট অলিম্পিক পোডিয়াম স্কিম বা টপস-এর ভীষণ ভালো অবদান রয়েছে। মানু ভাকের, সৌরভ চৌধুরীদের দক্ষতা আমরা ২০১৯ সালে দেখেছি। কিন্তু একটা আকাশকুসুম হাইপ তৈরি হয়েছিল মিডিয়ার মাধ্যমেও। সেটাই শুটারদের প্রতি অলিম্পিকে পদকের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দেয়। মনে রাখতে হবে, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকেই সকলের র‌্যাঙ্কিং শূন্য হয়ে গিয়েছিল। চলতি বছর বিশ্বকাপে চিন, কোরিয়া, জার্মানির মতো শক্তিশালী দেশ অংশ নেয়নি। ফলে বিশ্বকাপে যাঁরাই পদক জিতেছেন তাঁরাই ক্রমতালিকায় এক, দুই, তিনে চলে আসেন। কেন না, প্রথম বিশ্বকাপে যে জিতবে সেই ১ নম্বর। এই বিশ্বের এক, দুই নম্বর প্লেয়ার হিসেবে অলিম্পিকের আগে হাইপ তুলেই আসলে খেলোয়াড়দের কেরিয়ারই নষ্ট হচ্ছে।

অজুহাত নয়

অজুহাত নয়

প্রথমবার অলিম্পিকে নামা বা বেশি অভিজ্ঞতা না থাকা ব্যর্থতার কারণ হিসেবে উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। যদিও এতেও সহমত নন জয়দীপ। তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, তা-ই যদি হবে তাহলে ১৬ বছরের চিনের যে শুটার পদক জিতলেন তিনি কটা অলিম্পিকে খেলেছেন? আগেও অনেকেই অলিম্পিকে প্রথমবার নেমে ভালো করেছেন। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে ভারতীয় শুটাররাই চারটি সোনা জিতেছিলেন বিশ্বকাপে। সেখানে তাবড় দেশ খেলেছিল। সেগুলি অলিম্পিক কোয়ালিফায়ার ছিল। সেখানে মানু, সৌরভরা সেরাটা দিয়েছেন। কিন্তু আজ যেভাবে হতাশ করলেন তা ক্ষমার অযোগ্য। বিশ্বকাপে অলিম্পিকের চেয়ে বেশি স্কোর হয়ে থাকে। কিন্তু ভারতের শুটাররা যে স্কোর করেছেন তার চেয়ে বেশি জাতীয় প্রতিযোগিতাতে হয়। এমন স্কোর করে প্রথম ২৫-এও থাকা যায় না। করোনা পরিস্থিতির অজুহাতও এই ব্যর্থতার কারণ হিসেবে খাটে না।

মানসিক দৃঢ়তার অভাব

মানসিক দৃঢ়তার অভাব

জয়দীপ কর্মকার মনে করছেন, এই ব্যর্থতার মূল কারণ অলিম্পিকের জন্য যে মানসিক দৃঢ়তার প্রয়োজন হয় সেটা শুটারদের মধ্যে নেই। অলিম্পিয়ান-সহ অভিজ্ঞ কোচেরা রয়েছেন। ফলে টেকনিক্যালি কোনও খামতি রয়েছে বলে মনে করি না। যেটার অভাব সেটা হল মানসিক দৃঢ়তা। দীর্ঘদিন শুটাররা ক্রোয়েশিয়ায়। আমরা সরাসরি কথা বলতে পারিনি। যা কিছু জেনেছি তা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে। অভিনব বিন্দ্রাকে দেখেছি অলিম্পিকের আগে নিজের মানসিক দৃঢ়তা বাড়ানোর জন্য স্কাই ডাইভিং করতে। নিশ্চয়ই খেলার টেকনিক্যাল বিষয়গুলি জরুরি। কিন্তু অলিম্পিক মাথায় খেলা হয়। সেটারই অভাব ছিল। অলিম্পিকে আলাদা চাপ থাকে। আমাদের দেশ গুটিকয়েক পদক জিতেছে। অথচ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি কলেজেই হয়তো একশোটি অলিম্পিক পদক রয়েছে। আমরা ছোট থেকে যেভাবে বড় হই সেখানে এভাবেই বোঝানো হয় অলিম্পিয়ান মানেই বিশাল ব্যাপার। এতে যেমন সম্মান আছে, তেমন ভয়ও থাকে। আর সেই ভয়, চাপকে জয় করতে মানসিকভাবে শক্তিশালী থাকা জরুরি। শক্তিশালী বিপক্ষের প্রতি নিষ্ঠুর, নির্ভীক, যেটাকে ব্রুটাল বলে ঠিক সেভাবেই নামতে হয় অলিম্পিকে। এজন্য দরকার নানা সিচুয়েশন তৈরি করে মনস্তাত্ত্বিক দিক-সহ বিভিন্ন এক্সারসাইজ।

কোচ বাছাই

কোচ বাছাই

অলিম্পিক সলিডারিটি দেখাতে বিভিন্ন কোটার মাধ্যমে অনেকে সুযোগ পান অলিম্পিক পান আসরে। কিন্তু এমন অনেকেই এমন থাকেন যাঁরা সব কিছু করতে পারেন। জয়দীপের কথায়, অলিম্পিকে সাফল্য পেতে সেই সেরাদের চ্যালেঞ্জ বুক চিতিয়ে মোকাবিলার জন্য নিজেকে তৈরি রাখা ভীষণ জরুরি, ব্যক্তিগত মনের জোর এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যর্থতার ময়নাতদন্তে উঠে আসছে জাতীয় কোচ যশপাল রানার সঙ্গে মানু ভাকেরের সংঘাতের বিষয়টি। জয়দীপ বলেন, হয়তো আরও অনেক বিষয় এবার সামনে আসবে। কিছুদিন আলোচনার পর সব বন্ধও হয়ে যাবে। কিন্তু হঠাৎ দুম করে দেড় মাস আগে কোচ বদল মানা যায় না। তবে আমি ফেডারেশনের দোষ দেখি না। প্লেয়ার বা তাঁর বাবা-মা যদি কোচের বিষয়ে নিজের পছন্দকে গুরুত্ব দেন সেটা ঠিক নয়। তবে একইসঙ্গে এটাও ঠিক, সকলের ব্যক্তিগত কোচকে পাঠানোও যায় না। তাই এমন ব্যবস্থা করা যায় যাতে ব্যক্তিগত কোচেরাও যেন জাতীয় কোচেদের সঙ্গে সেই প্লেয়ারকে সাহায্য করতে পারেন।

পরিকাঠামো নিয়ে

পরিকাঠামো নিয়ে

জয়দীপ কর্মকার বলেন, আমরা চন্দননগর, বৈদ্যবাটী থেকেও শুটার তুলে আনছি। দেশের জন্য খেলোয়াড়দের সাপ্লাই লাইন ঠিক করছি। ফলে অনেক প্রতিবন্ধকতা সামলেও এক চালার রেঞ্জ থেকে ভারতীয় দলের প্লেয়ার উঠে আসছেন। কিন্তু যে-ই তাঁরা ভালো স্কোর করে জাতীয় দলে সুযোগ পাচ্ছেন, তখনই জাতীয় কোচেরা পার্সোনাল কোচেদের জন্য দরজা বন্ধ করে দিচ্ছেন। যে প্লেয়ার তৈরি করলেন তিনি আর সেই প্লেয়ারকে সাহায্য করতে পারছেন না। এই ব্যাপারে বদল আনা জরুরি। ইগোর জন্য ক্ষতি হচ্ছে সংশ্লিষ্ট প্লেয়ারের, দেশেরও। আর অবশ্যই হাই পারফরম্যান্স কোচ নিয়োগ করতে হবে অলিম্পিকের প্রস্তুতির জন্য। সংখ্যাটা তিন হলে ভালো। যাঁরা অবশ্য শুটিং বুঝবেন। কিন্তু শুটিংয়ের প্রাথমিক পাঠ তো তাঁদের দেওয়ার দরকার নেই। অলিম্পিকের আবহে শুটিংয়ের টেকনিক ভালো করার পাশাপাশি কীভাবে মানসিকভাবেও প্রস্তুতি নিতে হবে সেটাই নিশ্চিত করবেন অভিজ্ঞ হাই পারফরম্যান্স কোচেরা। যার অভাবের খেসারত এবার অলিম্পিকে দিতে হল।

সঠিক জায়গায় যোগ্য

সঠিক জায়গায় যোগ্য

অলিম্পিকে ব্যর্থতার পরও কোচ বদলের হাওয়া উঠেছে। এ প্রসঙ্গে জয়দীপ কর্মকার বলেন, কোচ বদল হবে কি হবে না, তার চেয়ে আমি অভিনব বিন্দ্রার একটা কথায় সহমত পোষণ করতে চাই। সেটা হল ব্যর্থতার কারণ খুঁজতে নানা কমিটি তৈরির চেয়েও যেটা সবচেয়ে দরকারি তা হল, যোগ্য জায়গায় যোগ্য লোককে বসানো।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+