Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

হিন্দি জানতেন না অতনু, অভিমানী ছিলেন দীপিকা, তবু এক তিরে বিদ্ধ দুই পাখি

হিন্দি জানতেন না অতনু, অভিমানী ছিলেন দীপিকা, তবু এক তিরে বিদ্ধ দুই পাখি

বুধবার টোকিও অলিম্পিকের তিরন্দাজি ইভেন্টের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছেন ভারতের দীপিকা কুমারী। গ্যালারিতে বসে তাঁর জন্য গলা ফাটিয়ে গিয়েছেন স্বামী অতনু দাস। ঠিক এর ছবি ধরা পড়েছে বৃহস্পতিবার। তিরন্দাজ স্বামীর ব্যক্তিগত রিকার্ভ ইভেন্ট চলার সময় গ্যালারিতে শোনা দীপিকার গলা। ক্যামেরায় ধরাও মহিলা তিরন্দাজের উচ্ছ্বাস। যা ব্যক্ত করে একই তিরে বিদ্ধ দুই ভারতীয় অলিম্পিয়ানের কাহিনি। শুরুটা হয়েছিল ১৩ বছর আগে। যখন নাকি কেবল হিন্দি না জানার কারণেই দীপিকাকে এড়িয়ে চলতেন অতনু। তারপর কী হল, জেনে নিন।

অতনু-দীপিকার জয়

টোকিও অলিম্পিকের রিকার্ভ মিক্সড এবং পুরুষদের দলগত ইভেন্টে হেরে যায় ভারত। পুরুষদের ব্যক্তিগত রিকার্ভ ইভেন্টেও হেরে যান তরুণদ্বীপ রাই ও প্রবীণ যাদব। এমনই এক ব্যর্থতার দিনে রুখে দাঁড়ান দীপিকা কুমারী। দুটি হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচ জিতে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে যান ভারতের মহিলা শাটলার। গ্যালারিতে বসে সহধর্মিনীর জয় উপভোগ করেন তিরন্দাজ অতনু দাসকে। দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে বৃহস্পতিবার লড়াইয়ে নামেন তিনিও। পরপর দুই ম্যাচ জিতে পুরুষদের রিকার্ভ ইভেন্টের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে যান বঙ্গসন্তানও। গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন স্ত্রী দীপিকা। 'ডি-দাস'র প্রেমে মজেছে দেশ।

কী বলছেন দীপিকা

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে যখন হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচে কোমর বাঁধছেন অতনু দাস, তখন গ্যালারি থেকে চেঁচিয়ে কী বলছিলেন স্ত্রী দীপিকা কুমারী, তা জানা গেল অবশেষে। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে দাস জানিয়েছেন যে শুরু থেকেই তাঁকে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখার কথা বলে আসছিলেন স্ত্রী দীপিকা।

শুরুতে কথাই বলতেন না অতনু

শুরুতে কথাই বলতেন না অতনু

২০০৮ সালে জামশেদপুরের টাটা অ্যাকাডেমিতে প্রথম দীপিকার মুখোমুখি হন অতনু। তখন ভাবি স্ত্রীর সামনে মুখ খুলতেন না বঙ্গ সন্তান। প্রথম প্রথম রাগ হতো দীপিকার। একরাশ ভুল বোঝাবুঝি, মান-অভিমানের পালা চলত নিয়ত। পরে এর কারণ বোঝেন 'ডি'। হিন্দি না জানাটাই যে তাঁর সঙ্গে অতনুর ব্যবধান বাড়াচ্ছে, তা বুঝতে খানিকটা সময় নিলেও মানুষ চিনতে ভুল করেনি ভারতের মহিলা তিরন্দাজ। একসঙ্গে অনুশীলন, ঘোরাফেরার মাধ্যমে একে অপরের আরও কাছাকাছি আসতে শুরু করেন ডি ও দাস। যা পরে পরিণত হয় নিবিড় ভালোবাসায়।

রাগ, অভিমান ও শিশু সুলভ

ভালোবাসা মানে খুনসুটি, রাগ-অভিমান, গোপন-গোপন খেলা। সেই খেলায় যে ছিল কত জেদ, ঝগড়া, শিশু সুলভ চঞ্চলতা, তা দুই তারকার জীবন কাহিনি পড়লে বোঝা যায়। ঝগড়া, খুনসুটি পাহাড় পেরিয়ে দিনের শেষে দুই মন এক হয়েছে অনায়াসে। একে অপরের জলের বোতল নেওয়া থেকে ছোট ছোট জিনিসের ওপর ওপর দাবি আদায়ে নেমে পড়েন অতনু ও দীপিকা। যত রাগারাগি তত ভালোবাসা দুই ভারতীয় তিরন্দাজের। যদিও প্রেম আসে পরে।

ভালোবাসা আসে পরে

ভালোবাসা আসে পরে

২০০৮ সাল থেকে শুরু হওয়া অতনু-দীপিকার সম্পর্কের নিবিড়তা বন্ধুত্বেই সীমাবদ্ধ ছিল প্রায় এক দশক। ভারতীয় দলের সতীর্থ হিসেবে দুই তিরন্দাজ যখন ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে অংশ নেন, তখনও তাঁদের ভাবনার জগতে প্রবেশ করেনি ঘনিষ্ঠতা। ২০১৭ সাল মেক্সিকোর বিশ্ব তিরন্দাজি চ্যাম্পিয়নশিপে শোচনীয় হারের মুখে দেখতে হয়েছিল ভারতীয় দলকে। আর সেখান থেকেই নিজেদের জীবনে একে অপরের অভাব অনুভব করতে শুরু করেন দীপিকা ও অতনু। প্রেম এসেছিল নীরবে। শুরু হয়েছিল দুই তারকার ডেটিং। এতদিনের সব ভুল বোঝাবুঝি, রাগ অভিযান উবে গিয়েছিল এক নিমেষে।

অবশেষে বন্ধনে আবদ্ধ

২০২০ সালে টোকিওয় অলিম্পিকের আসর বসার কথা ছিল। ওই ইভেন্টের পর দেশে ফিরে বিয়ে করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অতনু দাস ও দীপিকা কুমারী। করোনা ভাইরাসের জেরে এক বছরের জন্য স্থগিত হয়ে যায় দ্য গ্রেটেস্ট স্পোটিং শো অন দ্য আর্থ। সঙ্গে পরিবর্তন হয় ডি-দাসের পরিকল্পনা। ওই বছরের ৩০ জুন বিবাহবন্ধনে আবন্ধ হন দুই তারকা। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে তাঁদের বাগদান পর্ব সম্পন্ন হয়। সেই জুটি টোকিও অলিম্পিকে ভারতকে পদকের মুখ দেখাতে পারেন কিনা, সেদিকে তাকিয়ে দেশের ক্রীড়া মহল।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+