Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

৮ বছরের স্বার্থত্যাগে টোকিওয় লক্ষ্যপূরণ, প্যারিস অলিম্পিক নিয়ে ভাবনা শুরু বিরাট-উদ্বুদ্ধ লাভলিনার

অলিম্পিকের ইতিহাসে ভারতের তৃতীয় বক্সার তথা দ্বিতীয় মহিলা বক্সার হিসেবে টোকিও থেকে দেশকে পদক এনে দিয়েছেন অসমের গোলাঘাট জেলার বড় মুখিয়া গ্রামের ২৩ বছরের লাভলিনা বরগোঁহাই। এবারের অলিম্পিকে একমাত্র বক্সার হিসেবে তিনিই পদক জিতেছেন, ওয়েল্টারওয়েট বা ৬৯ কেজি বিভাগে ব্রোঞ্জ। প্যারিসে লক্ষ্য এই পদকের রং বদলানো। অলিম্পিকে পুরুষদের হাই জাম্প ফাইনালের নজিরবিহীন ঘটনা থেকেও অনেক শিক্ষা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন লাভলিনা।

কয়েক দিনের ছুটি

লাভলিনা বরগোঁহাই বলেন, আমার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বার্থত্যাগ হল পরিবারের থেকে আট বছর দূরে থাকা। পরিবারের দুঃসময়েও পাশে গিয়ে দাঁড়াতে পারিনি, দূর থেকেই সব কিছু দেখতে হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবেও আমাকে অনেক পছন্দের বিষয় ত্যাগ করতে হয়েছে। যেমন আমার বয়সি অনেকের মতো ফাস্ট ফুড খেতে পারি না। অনুশীলনে যাতে ব্যাঘাত না ঘটে সে কথা ভেবে ছুটিও নিতে পারি না। প্যারিস অলিম্পিকে নিজের পদককে আরও উন্নত করার লক্ষ্য নিয়ে নেমে পড়ার আগে আপাতত কয়েকটা দিন ছুটির মেজাজে পরিবারের সঙ্গে থাকতে চান লাভলিনা।

প্যারিস নিয়ে ভাবনা

প্যারিস নিয়ে ভাবনা

তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল টোকিও অলিম্পিক অভিযান শেষের পর টেকনিকে ঠিক কী ধরনের পরিবর্তন আনতে চান? পাঞ্চ কি আরও শক্তিশালী করার কথা ভাবছেন? বিশ্বচ্যাম্পিয়ন যে তুরস্কের বক্সার বুসেনাজ সুর্মেনেলির কাছে লাভলিনা সেমিফাইনালে পরাস্ত হয়েছিলেন তিনিই টোকিও অলিম্পিকে সোনাজয়ী। সেমিফাইনালে বাউটে লাভলিনার পাঞ্চ কিছুটা দুর্বল ছিল বলে অনেকে মনে করছেন। যদিও লাভলিনা জানিয়েছেন, একটা বা দুটো নয়, প্রতিটি ক্ষেত্রেই নতুনভাবে শুরু করতে চান। টোকিও অলিম্পিক এখন অতীত। লাভলিনার ভাবনায় ইতিমধ্যেই চলে এসেছে ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিক। তিনি বলেন, স্ট্রেংথ বা কন্ডিশনিংয়ে সমস্যা হয়নি। এমন নয় যে আমি এই বিষয়গুলির গুরুত্ব দিইনি। আপনারা বলতে পারেন এটা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। গত চার মাস সময় পেয়েছি আমি এই দুটি ক্ষেত্রকে মাথায় রেখে অনুশীলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য। এতে আমি উপকৃতই হয়েছি। কিন্তু অলিম্পিকের মতো বড় আসরের ক্ষেত্রে চার মাস সময়টা যথেষ্ট নয়। এতে কিছুই হয় না। চার বছর ধরে নিবিড় অনুশীলন করে যেতে হয়।

আবেগাপ্লুত লাভলিনা

আবেগাপ্লুত লাভলিনা

বিশ্বচ্যাম্পিয়নের কাছে সেমিফাইনালে হারলেও কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি হারিয়েছেন প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন চেন নিয়েন-চিনকে। এই জয় কাটিয়ে দিয়েছে যাবতীয় ভয়। প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়নের বিরুদ্ধে রিংয়ে নামার আগে পর্যন্ত একটু হলেও যে ভয় ছিল। ভয় কাটার পর জয়ী ঘোষণা হতেই স্বভাববিরুদ্ধে ঢঙে লাভলিনা আবেগের যে বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছিলেন সে প্রসঙ্গে এবারের অলিম্পিকে একমাত্র পদকজয়ী ভারতীয় বক্সার বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে বেশ কিছু আবেগ আমি নিজের মধ্যে আত্মস্থ করছিলাম। অলিম্পিকের আসরে এসে উপলব্ধি করি দেশের মানুষের কতটা সমর্থন আমার প্রতি রয়েছে। প্রতিবার রিংয়ে নামা বা পাঞ্চের সময় দেশবাসীর সেই ভালোবাসা, সমর্থন আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছে। সেই সমর্থন বা আবেগকে কুর্নিশ জানাতে গিয়ে নিজেও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি। এ সব মিলেমিশেই আবেগের অমন বহিঃপ্রকাশ।

মধুর স্মৃতি

মধুর স্মৃতি

টোকিও অলিম্পিক থেকে যে মধুর স্মৃতি নিয়ে লাভলিনার দেশে ফেরা তার মধ্যে অবশ্যই থাকবে কোয়ার্টার ফাইনালের ওই জয়। এর কারণ জানাতে গিয়ে লাভলিনা বলেন, যে বক্সারের কাছে আগে চারবার হেরেছি তাঁকে অলিম্পিকের আসরে হারাতে পারা আমার কেরিয়ারের বিশেষ মুহূর্ত শুধু নয়, সেরা স্মৃতি হিসেবেই থাকবে। এরপরেই থাকবে যেভাবে হাই জাম্পে কাতার ও ইতালি সোনা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন সেই বিষয়টি। মানবিকতা যে এখনও বেঁচে রয়েছে এই ঘটনা তারই প্রকৃষ্ট উদাহরণ। খেলাধুলোই পারে দুটি আলাদা দেশের দুই আলাদার মানুষকে একসূত্রে গেঁথে ফেলতে। খেলাধুলোই পারে সকলকে একসঙ্গে আবদ্ধ করতে। ওই মুহূর্ত আমাকে অনেক শিক্ষাই দিয়েছে।

মনের জোর

মনের জোর

জাতীয় শিবিরে থাকাকালীন মায়ের কিডনি প্রতিস্থাপনের সময় সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি লাভলিনা। তিনি বলেন, আমার জীবনে প্রতিবন্ধকতা শুধু কয়েক মাসের নয়, আট বছর ধরে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে এগিয়েছি। আমি জানি আগামী দিনেও প্রতিবন্ধকতা থাকবে। তবে আমি আগেও আশা ছাড়িনি, ভবিষ্যতেও ছাড়ব ন। প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়া আমার আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দেয়। এটা কোনওদিন বদলাবে না। লাভলিনার মনের জোর এতটাই বেশি যে তিনিই বলতে পারেন, নিজের উপর বিশ্বাস যদি থাকে, তাহলে মানসিক স্বাস্থ্য ভালো করার জন্য কোনও সহযোগিতার দরকার পড়ে না।

পদকের রং বদল

পদকের রং বদল

আন্তর্জাতিক আসরে সাফল্য থাকলেও অলিম্পিকের ব্রোঞ্জ দেশজুড়ে প্রতিটি বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে লাভলিনার নাম। কিন্তু এতে লাভলিনার জীবনে কোনও বদল আসবে না বলেই তাঁর দাবি। তিনি এখন অনেকের কাছেই রোল মডেল। যদিও লাভলিনা এ প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের দেশে অনেক রোল মডেল রয়েছেন যাঁরা দেশবাসীর প্রত্যাশার চাপকে কাঁধে নিয়ে সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দিকে অগ্রসর হয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কীভাবে নিজের কর্তব্যে অবিচল থাকতে সেভাবে এগিয়ে চলা যায় সেই শিক্ষা আমি ওই রোল মডেলদের দেখেই নিতে চাই। আমি অলিম্পিকের পর বদলে যাব না। তবে নিশ্চিতভাবেই পদকের রং বদলাতে চাই। নিজেকে বক্সিংয়ের একজন একনিষ্ঠ ছাত্রী হিসেবেও দেখতে চান লাভলিনা।

খবরের ডেইলি ডোজ, কলকাতা, বাংলা, দেশ-বিদেশ, বিনোদন থেকে শুরু করে খেলা, ব্যবসা, জ্যোতিষ - সব আপডেট দেখুন বাংলায়। ডাউনলোড Bengali Oneindia

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+