হকি বিশ্বকাপ ২০১৮, ৪৩ বছরের ট্রফি-খরা কাটানোর সেরা সুযোগ, জেনে নিন ভারত ও তার প্রতিপক্ষদের
হকি বিশ্বকাপ ২০১৮ শুরু হওয়ার আগে জেনে নিন ভারতীয় দল ও তার প্রতিপক্ষদের সম্পর্কে সবকিছু।
মঙ্গলবার (২৭ নভেম্বর), ভুবনেশ্বরে জমজমাট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ঢাকে কাঠি পড়তে চলেছে ১৪তম হকি বিশ্বকাপের। বুধবার থেকেই কলিঙ্গ স্টেডিয়ামে শুরু হয়ে যাবে খেলা। ঘরের মাঠে এইবারই ভারতীয় হকি দলের সামনে ৪৩ বছরের ট্রফি খরা কাটানোর সেরা সুযোগ বলে মনে করা হচ্ছে।
একটা সময় ছিল, যখন ভারতের ধ্য়ানচাঁদের হকি দেখে মুগ্ধ হযে গিয়েছিল সারা বিশ্ব। কথিত আছে তাঁর স্টিকে চুম্বক লাগানো আছে কিনা তাও নাকি পরীক্ষা করা হয়েছিল। বলা হয় বিশ্বকে হকি খেলতে শিখিয়েছিল ভারতই। কিন্তু সেই সোনার দিন আর নেই।

ইতিহাস
১৯৭৫ সালে ভারত হকি বিশ্বকাপের ফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ওই একবারই মাত্র বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারত। তারপর থেকে আর একবারও তো দূরের কথা, ট্রফির কাছাকাছিও পৌছতে পারেনি। তারপরের সেরা সাফল্য ১৯৮২ ও ১৯৯৪ সালে পঞ্চম স্থান।

বিশ্বকাপ ২০১৮-তে
এবারের বিশ্বকাপে অবশ্যই ঘরের সমর্থকদের সামনে কাপ জিতে ব্যর্থতার কাহিনীটা মুছে ফেলতে চাইবে ভারত। কিন্তু তাদের কাজটা সহজ নয়। গ্রুপ সি-তে ভারতের সঙ্গে রয়েছে কানাডা, বেলজিয়াম ও দক্ষিণ আফ্রিকা। বুধবার (২৮ নভেম্বর) দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়েই কাপ অভিযান শুরু করছে ভারত। তারপর আগামী রবিবার (২ ডিসেম্বর) খেলতে হবে কানাডার সঙ্গে আর ৮ ডিসেম্বর খেলা বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে।

ভারতীয় দল (র্যাঙ্ক ৫)
ওমানে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তানের সঙ্গে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এই টুর্নামেন্টে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর হয়েই নামবে মনপ্রিত সিং-এর নেতৃত্বাধীন ভারতীয় হকি দল। বরাবরই ভাল খেলেও ম্যাচ শেষ তে না পারার রোগে ভোগে ভারতীয় দল। নতুন কোচ হরেন্দ্র সিং আমলে কিন্তু এই রোগ অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে ভারত। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলিতে মাঝমাঠে রীতিমতো ফুল ফুটিয়েছেন অধিনায়ক মনপ্রিত। এছাড়া বিশ্বকাপ জিততে ভারতের অন্যান্য প্রধান ভরসারা হলেন গোলরক্ষক তথা প্রাক্তন অধিনায়ক পিআর রাজেশ, রক্ষণভাগে বীরেন্দর লাকরা এবং গোল করার দায়িত্ব থাকবে আকাশদীপ সিং-এর উপর।

দক্ষিণ আফ্রিকা (র্যাঙ্ক ১৫)
নিঃসন্দেহে ভারতের প্রথম প্রতিপক্ষই গ্রুপের আন্ডারডগ। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার কিন্তু বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে নিজেদের ছাপিয়ে যাওয়ার অভ্যাস আছে। এছাড়া আরেকটি কারণেও তারা ভআরতের সামনে বড় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। অলিম্পিকের যোগ্যতামান অর্জন করার পরেও তাদের দেশের অলিম্পিক কমিটি, টোকিও অলিম্পিকে হকি দলকে পাঠাচ্ছে না। কাজেই এই বিশ্বকাপে নিজেদের প্রমাণ করার বাড়তি তাগিদ থাকবে তাদের।

কানাডা (র্যাঙ্ক ১১)
ভারতকে পরের প্রতিপক্ষ কানাডা কাগজে কলমে এঅনেকটাই পিছিয়ে ভারতের থেকে। কিন্তু তাই বলে তাদের উড়িয়ে দেওয়া যাবে না কখনই। মাথায় রাখতে হবে লন্ডনে ওয়ার্ল্ড লিগ রাউন্ড ৩-তে ভারতকে হারিয়েই তারা এই বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল কানাডা। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া যদি কঠিনও হয়, প্লেঅফ খেলার জায়গায় পৌঁছনো কিন্তু তাদের পক্ষে অসম্ভব নয়।

বেলজিয়াম (র্যাঙ্ক ৩)
গ্রুপে ভারতের সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ অলিম্পিক ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে রৌপ্যপদক জয়ী বেলজিয়াম। একমাত্র গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলেই সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার সুযোগ৯ মিলবে। তাই এই দুই শক্তিধর হকি-খেলিয়ে দেশের মধ্যে একটি জমজমাট ম্যাচ হওয়ার আশা করা হচ্ছে। বেলজিয়াম দলের প্রধান ভরসা অবশ্যই চলতি বছরের সেরা খেলোয়াড় ও সেরা তরুণ খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়া আর্থার ভ্যান দোরেঁ। তাদের দলে কিন্তু অভিজ্ঞতা বা প্রতিভা কোনওটারই অভাব নেই। ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকের কোয়ার্টার ফাইনালে ভারত ও বেলজিয়াম শেষবার মুখোমুখি হয়েছিল। সেইবার কিন্তু জয়ী হয়েছিল 'লোহিত সিংহ'-রাই।












Click it and Unblock the Notifications