শাহের সঙ্গে বৈঠক গোপন রাখার ফতোয়া সরকারের? অসন্তুষ্ট কুস্তিগীররা চাকরি ছাড়তে প্রস্তুত
কুস্তিগীররা কি প্রতিবাদ-আন্দোলন কর্মসূচি থেকে সরে আসবেন? সেই প্রশ্ন নিয়েই এখন সরগরম রাজধানী দিল্লি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-র সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন কুস্তিগীররা। যদিও তাতে কোনও সমাধানসূত্র মেলেনি বলেই খবর।
এরই মধ্যে বজরং পুনিয়া একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে জানালেন, সরকারের তরফেই কুস্তিগীরদের বলা হয়েছে শাহ-র সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিয়ে কোথাও আলোচনা না করতে।

বজরং পুনিয়া, সাক্ষী মালিকরা গতকাল কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। তখনই জল্পনা চরমে ওঠে যে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরই কর্মস্থলে যোগ দিয়ে কি আন্দোলন থেকে সরছেন কুস্তিগীররা? যদিও পরে কুস্তিগীররা জানান, ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংকে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত প্রতিবাদ চলবেই।
এক নাবালিকা-সহ মহিলা কুস্তিগীরদের যৌন নির্যাতনে অভিযুক্ত বিজেপি সাংসদ তথা ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশনের সভাপতি ব্রিজ ভূষণ শরণ সিং। পসকো আইনে মামলা রুজু হলেও প্রভাবশালী বলেই কে গ্রেফতারি এড়িয়ে যাচ্ছেন অভিযুক্ত? এই প্রশ্ন তুলে আন্দোলনে নেমেছেন কুস্তিগীররা। সরব বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও।

কুস্তিগীরদের পাশে থেকে তাঁদের ন্যায়বিচারের দাবিকে সমর্থন জানিয়েছেন কৃষকরাও। কৃষক নেতার কথাতেই হরিদ্বারের গঙ্গায় পদক ভাসানোর কর্মসূচি স্থগিত রেখেছেন কুস্তিগীররা। কেন্দ্রীয় সরকারকে চরমসীমা দেওয়া হয়েছে ৯ জুন অবধি।
এর মধ্যে ব্রিজ ভূষণ গ্রেফতার না হলে আন্দোলন দেশজুড়ে ছড়াবে বলে হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েত। এরই মধ্যে গত শনিবার রাত ১১টা থেকে নিজের বাসভবনে প্রতিবাদী কুস্তিগীরদের সঙ্গে কথা বলেন অমিত শাহ। ছিলেন বজরং, সাক্ষী মালিক, সঙ্গীতা ফোগাট, সত্যব্রত কাদিয়ান।

এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বৈঠকটি চলে। অমিত শাহ কুস্তিগীরদের কথা শুনে জানান তদন্ত শুরু হয়েছে। আইন আইনের পথেই চলবে। যদিও এটুকু বক্তব্যে খুশি নন কুস্তিগীররা। বজরং পুনিয়া একটি সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, আমাদের আন্দোলন স্তিমিত বা শেষ হয়নি। এটা চলবে। পরবর্তী রণকৌশল ঠিক হচ্ছে।
কুস্তিগীরদের কথায়, এই বৈঠকের বিষয়ে কিছু না জানাতে আমাদের সরকারের তরফে বারণ করা হয়েছিল। তারপরও বৈঠকের খবর ছড়িয়ে গিয়েছে। কোনওরকম সেটিং হয়নি বলেও দাবি বজরংয়ের। তিনি বলেন, সরকারের প্রতিক্রিয়ায় কুস্তিগীররা কেউই খুশি নন। সরকার আমাদের দাবি পূরণ করছে না।

বজরং জানান, তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংকে বাঁচানোর চেষ্টা হচ্ছে কি? যদিও অমিত শাহ সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে বলেন, সবদিক খতিয়ে দেখে যথাযথ পদক্ষেপ করা হবে। তবে শুধু আশ্বাসে যে চিঁড়ে ভিজবে না তা বুঝিয়ে দেন বজরং।
বজরংয়ের কথায়, জানুয়ারিতেও সরকারের আশ্বাসে আমরা প্রতিবাদ কর্মসূচি স্থগিত রেখেছিলাম। কিন্তু যা বলা হয়েছিল তা মিথ্যায় পর্যবসিত হয়েছে। বজরং জানান, তাঁরা ছুটি নিয়েছিলেন। তাই রেলের অফিসে গিয়েছিলেন সই করার জন্য। যদিও প্রতিবাদের পথে বাধা হলে তাঁরা সকলেই কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরি ছাড়তে প্রস্তুত।
এটা সম্মান ও মর্যাদার লড়াই। আমরা কোনও গুজব বা রেলের চাকরি হারানোয় ভীত নই। কেউ চাপ দিলে চাকরি ছেড়ে দেব। সাফ কথা বজরংয়ের।












Click it and Unblock the Notifications