Paris Paralympics 2024: বিস্ফোরণে হারিয়েছেন পা, ব্রোঞ্জজয়ী সেমার জীবনের গল্প অনুপ্রেরণা দেবে আপনাকেও
শারীরিক প্রতিবন্ধতাকে হেলায় হারিয়ে প্রতিদিনই আমাদের সামনে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন প্যারা অলিম্পিয়ানরা। তাঁদের জীবনের গল্প শুধু বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদেরই নয় একইসঙ্গে সাধারণ মানুষদের কাছেও অনুপ্রেরণা। তবে শটপুটে ব্রোঞ্জ জয়ী হোকাতো সেমার গল্পটা সবাই ছাপিয়ে যাবে।
জীবনের অনে ক বড় প্রতিকূলতাকেও যে জয় করা সম্ভব, তা দেখিয়ে দিলেন প্যারা এই অলিম্পিয়ান। নাগাল্যান্ডের এক কৃষক পরিবার থেকে প্যারিস প্যারালিম্পিক্সে ব্রোঞ্জ, হোকাতো সেমার জীবন ওয়েব সিরিজের চিত্রনাট্যকেও হার মানাবে।১৯৮৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর, নাগাল্যান্ডের কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন হোকাতো। ছোটবেলা থেকেই দেশের হয়ে কিছু করার তাগিদ অনুভব করতেন হোকাতো। সেনা বাহিনীতে যোগ দেন।

২০০২ সালে কাশ্মীরে মাইন বিস্ফোরণে তাঁর বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে বাদ যায়। ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্তব্যরত অবস্থায় পা খোয়ানোর পর খেলাধুলাতে আরও বেশি মন দেন।৩২ বছর বয়সে পুনের এক আর্টিফিশিয়াল লিম্ব সেন্টারে এক সিনিয়র আর্মি অফিসিয়ালের নজরে পড়েন সেমা। এরপর অল্প সময়ের মধ্যে পুরুষদের শটপাটের এফ৫৭ বিভাগে নজর কেড়ে নেন হোকাতো। খেলো ইন্ডিয়ার সমর্থন পান সেমা
প্রত্যেক সফল মানুষের নেপথ্যে একজন নারীর অবদান থাকে। সেমার ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম নয়। এই প্রসঙ্গে প্যারালিম্পিক্সে পদকজয়ী বলেছেন, আমি এই পদকটা আমি আমার স্ত্রীকে উৎসর্গ করব। ও আমার জন্য অনেক কিছু করেছে। একটা সময় ছিল যখন আমরা দুবেলা খাওয়ার মতো অর্থ উপার্জন করতে পারতাম না। তখন আমি যাতে ট্রেনিং চালিয়ে যেতে পারি, তাই ও নিজে একবেলা খেতো আমার জন্য দুই বেলা খাবারের ব্যবস্থা করত।'
একইসঙ্গে সেমা বলেন, আমি যতবার জীবনে পড়ে গেছি, ও আমায় হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, যাতে ওই হাত ধরে আমি উঠে দাঁড়াতে পারি '।
শটপুটে নেমেছিলেন ভারতের দুই অ্যাথলিট হোকাটো সেমা এবং সোমন রানা। সেমা ১৩.৮৮ মিটার দিয়ে শুরু করেন। এরপর ১৪.৪০ মিটার, ১৪.৬৫ মিটার, ১৪.১৫ এবং ১৩.৮০ মিটার ছোঁড়েন। এরমধ্যে ১৪.৬৫ তাঁর ব্যক্তিগত সেরা। তিনি ব্রোঞ্জ পদক জয় লাভ করেন।












Click it and Unblock the Notifications