বেঙ্গালুরুতে বাঙালি নার্সকে গণধর্ষণে অভিযুক্ত চার সাঁতারু গ্রেফতারে চাঞ্চল্য, কড়া শাস্তির দাবি
বেঙ্গালুরু গণধর্ষণ কাণ্ডে চার সাঁতারুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই চারজনই রাজ্য ও জাতীয় স্তরের সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে এবং বেঙ্গালুরুতে ছিল অনুশীলনের জন্যই। এক বাঙালি নার্সকে গণধর্ষণ কাণ্ডে এই চারজন অভিযুক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ। খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ক্রীড়ামহলে।

দেব সারোহা, রজত, শিব রানা ও যোগেশ কুমার- এই চারজনই গণধর্ষণ কাণ্ডে অভিযুক্ত। তারপরই তাদের হেফাজতে নিয়েছে বেঙ্গালুরু পুলিশ। এদের মধ্যে হরিয়ানার হয়ে গত অক্টোবরেও জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে রানা ও রজত। হরিয়ানার সাঁতার ফেডারেশনের এক কর্তা জানিয়েছেন, এই দুজনই রাজ্যের সেরা প্রতিভাদের মধ্যে অন্যতম। রাজ্য স্তরে প্রচুর পদক জেতার পর জাতীয় স্তরেও তাদের উজ্জ্বল সম্ভাবনা ছিল। ওই আধিকারিক আরও জানিয়েছেন, শীতকালে দিল্লি ও হরিয়ানার বেশিরভাগ সুইমিং পুলই বন্ধ থাকে। সে কারণে এই সাঁতারুরা বেঙ্গালুরুতে অনুশীলনের জন্য গিয়েছিল বলেও জানিয়েছেন ওই কর্তা।

দেব সারোহা ও যোগেশ কুমার বেঙ্গালুরুতে গিয়েছিল সাঁতারের কোচিং সার্টিফিকেশন কোর্স করতে। বিভিন্ন পুলে সাঁতার শেখানোর জন্য সার্টিফায়েড কোচেদের দারুণ চাহিদা। গ্রীষ্মের আগেই কোচিং লাইসেন্স পাওয়া তাদের লক্ষ্য ছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, নির্যাতিতার সঙ্গে রজতের ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয় হয়। পরে তাদের ইনস্টাগ্রামেও নিয়মিত চ্যাট চলত। নির্যাতিতা পুলিশকে জানিয়েছেন, ২৪ মার্চ রজতের সঙ্গে ডিনারে গিয়েছিলেন তিনি। রজত-সহ চারজন মদ্যপ অবস্থায় তাকে ধর্ষণ করে। ঘটনার রাতের পরদিন অর্থাৎ ২৫ মার্চ পুলিশের দ্বারস্থ হন নির্যাতিতা। যদিও দেব সারোহার বাবা সুশীল সারোহার দাবি, তাঁর পুত্র নিরপরাধ। দেশের হয়ে সাঁতারে অংশ নেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই দেব বেঙ্গালুরুতে অনুশীলনের জন্য গিয়েছিল। দিল্লি পুলিশের হেড কনস্টেবল সুশীল আরও জানান, গত সপ্তাহে দেব বেঙ্গালুরুতে গিয়ে বন্ধুর সঙ্গে একটি ফ্ল্যাটে থাকছিল।

ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ক্রীড়ামহলে। চারজনই রাজ্য ও জাতীয় স্তরের চ্যাম্পিয়ন, প্রচুর পদক জিতেছে। হরিয়ানার এক সাঁতার প্রশিক্ষক জানিয়েছেন, এরা সকলেই পাঁচ বছর বয়স থেকে সাঁতার শিখছে। দুজন হরিয়ানায় রাজ্য স্তরের জুনিয়র সাঁতারুদের শিবিরে আমার অধীনে ছিল। সে সময় তাদের বয় ১০-১২ হবে। ফলে যে ঘটনা ঘটেছে তাতে হরিয়ানায় সাঁতারের সঙ্গে যুক্তরা স্তম্ভিত। এদের কড়া শাস্তি হওয়া উচিত। আরেক প্রাক্তন জাতীয় চ্যাম্পিয়ন বলেছেন, যোগেশ সম্প্রতি রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতায় সেরা নির্বাচিত হয়েছিল। প্রত্যেকেই দারুণ প্রতিভাবান। কিন্তু তারা যে কাণ্ড ঘটিয়েছে তাতে সাঁতার জগতেও ধাক্কা লেগেছে। তাদের নাম মুখে আনতে চাই না। আগে কুস্তিগীরদের নাম জড়িয়েছিল অপরাধের ঘটনায়। এবার যুক্ত হলো সাঁতারুদের নাম!












Click it and Unblock the Notifications