টোকিও অলিম্পিকের আসর থেকেই প্যারিসের দিকে নজর ফেন্সার ভবানী দেবী-র

ভারতীয় ফেন্সিংয়ের কাছে আজ গর্বের দিন। এই প্রথম অলিম্পিকে নামলেন কোনও ভারতীয় ফেন্সার। ফেন্সিংয়ের প্রথম রাউন্ডে দারুণ জয় পেলেও দ্বিতীয় রাউন্ডে রিও অলিম্পিকের সেমিফাইনালিস্টের কাছে হেরে অভিযান শেষ হল ভবানী দেবীর। আর তারপরই চেন্নাইয়ের ভবানী ঠিক করে ফেললেন পরবর্তী লক্ষ্য।

স্মরণীয় দিনে জোর লড়াই

স্মরণীয় দিনে জোর লড়াই

অলিম্পিকের ফেন্সিংয়ে এই প্রথম কোনও ভারতীয় অংশ নিলেন। তিউনিসিয়ার নাদিয়া বেন আজিজির বিরুদ্ধে ২৭ বছরের ভবানীর প্রথম রাউন্ডে জয় সেই কারণেই ঐতিহাসিক হয়ে রইল। দ্বিতীয় রাউন্ডে পরাস্ত হলেন যাঁর কাছে তিনি রিও অলিম্পিকের সেমিফাইনালিস্ট। ভবানীর কথায়, প্রথমার্ধে আমি ভালো ফেন্স করতে পারিনি। ফলে দ্বিতীয় রাউন্ডে কৌশলে বদল এনে চেষ্টা চালিয়েও শেষরক্ষা সম্ভব হয়নি। তবে বিশ্বের অন্যতম সেরা একজনের বিরুদ্ধে ফেন্স করতে পারার সুযোগ পেয়ে আমি খুশি। কিছু ভুল হয়েছে, তাতে খুব উদ্বিগ্ন নই। সাবার খুব গতিময় ছিল। ভারতীয়দের সামনে খেলার সুযোগ পেলে বেশি ভালো লাগত বলে জানিয়ে ভবানীর আশা, ভারতীয়দের ফেন্সিংয়ের প্রতি হয়তো আগ্রহ বাড়বে। উল্লেখ্য, সাবার খুব দ্রুতগতিতে হয়। যিনি প্রথমেই ১৫ পয়েন্ট পান তিনিই জয়ী ঘোষিত হন। অপর দুটি ইভেন্ট হল ফয়েল ও এপি, যেখানে অস্ত্রের অগ্রভাগ ব্যবহৃত হয় বিপক্ষকে টার্গেট করে।

সন্তুষ্ট ভবানী

সন্তুষ্ট ভবানী

চেন্নাইয়ের এই ফেন্সার আরও বলেন, এটা আমার প্রথম অলিম্পিক ছিল। ফল আরও ভালো হতে পারতো। তবে আমি এতেই সন্তুষ্ট, এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে। এখান থেকে যে শিক্ষা পেলাম তার ভিত্তিতেই নিজেকে আরও উন্নত করতে পারব। রিও অলিম্পিকে যোগ্যতা অর্জন করতে পারিনি। আমি তাই টোকিও অলিম্পিকে যোগ্যতা অর্জনে কঠোর পরিশ্রম করেছিলাম, যা আমাকে আরও শক্তিশালী করে। অলিম্পিয়ান হওয়ার স্বপ্নও পূরণ হয়েছে টোকিওয়। পরিবারের থেকে দূরে থাকা, স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে দূরে থাকতে হয়েছে স্বপ্নপূরণের জন্য। ইতালিতে অনুশীলন চালিয়ে গিয়েছি। পরিবারের প্রত্যাশা, স্বপ্নপূরণে সফল হতে পেরে ভালো লাগছে। করোনা লকডাউনে নিজের বাড়ির ছাদে অনুশীলন করেছিলেন ভবানী। টোকিও অলিম্পিকে তাঁর আগ্রাসী রণকৌশল অনেকের প্রশংসা কুড়িয়েছে। প্রথম ম্যাচে সেই রণকৌশল সফল হলেও দ্বিতীয় ম্যাচে তা অভিজ্ঞতা দিয়েই রুখে দিলেন অভিজ্ঞ ফরাসি ব্রুনেট।

ভবানীর টুইট-বার্তা

ভবানী দেবী পরে টুইটে লেখেন, টোকিও অলিম্পিকের ফেন্সিংয়ে অংশ নেওয়া আমার কাছে বড় দিন। উত্তেজনা আর আবেগ মিলেমিশে ছিল। নাদিয়া আজিজির বিরুদ্ধে লড়াই ১৫-৩ ব্যবধানে জিতি। প্রথম ভারতীয় ফেন্সিং খেলোয়াড় হিসেবে অলিম্পিকে দেশকে প্রথম জয় এনে দিতে পারলেও দ্বিতীয় ম্যাচে বিশ্বের ৩ নম্বর মানোন ব্রুনেটের কাছে ৭-১৫ ব্যবধানে পরাস্ত হই। নিজের সেরাটা দিলেও জয় নিশ্চিত করতে না পারায় দুঃখিত। তবে প্রতিটি শেষেরই একটি শুরু থাকে। পরের অলিম্পিকে পদক জয়ের লক্ষ্যে আমি কঠোর অনুশীলন চালিয়ে যাব। দেশকে গর্বিত করতে চাই। যাঁরা পাশে থেকেছেন সকলকেই ধন্যবাদ।

প্যারিসে পদকের প্রত্যয়

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় যুবকল্যাণ ও ক্রীড়ামন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন থেকে শুরু করে সাই ও বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ভবানী। সমর্থনের জন্য দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে টুইট-বার্তায় ভবানী দেবী বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তাঁর কোচ নিকোলা জানত্তি, মেন্টার ট্রেনার অ্যাঞ্জেলো কারনেমলার প্রতি। ভবানী জানিয়েছেন, তাঁর যাবতীয় শক্তির স্তম্ভ তাঁর মা তাঁর খেলা দেখতে ও অনুপ্রেরণা দিতে টোকিওয় গিয়েছিলেন। বাড়িতে বসে ভাই-বোনেরা সাফল্যের জন্য প্রার্থনা করেছেন। পাশে থাকার জন্য তামিলনাড়ুর নাগরিক ও সংবাদমাধ্যমগুলিকেও বিশেষ ধন্যবাদ জানান ভবানী। সব শেষে প্রত্যয়ী ভবানীর ঘোষণা, পরের অলিম্পিকে আরও শক্তিশালী হয়ে, সকলের প্রার্থনার মধ্যেই সাফল্য নিয়ে আসব।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+