কমনওয়েলথ গেমসে ব্রোঞ্জজয়ী দিব্যার দাবিতে অস্বস্তিতে দিল্লি সরকার, আপ-বিজেপি রাজনৈতিক কুস্তি শুরু
কমনওয়েলথ গেমসে কুস্তিতে ব্রোঞ্জ জিতেছেন দিব্যা কাকরান। কিন্তু এরপরই তাঁর চাঞ্চল্যকর দাবিতে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। দিল্লির আম আদমি পার্টির সরকারের তরফে তাঁকে কোনও সাহায্য করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন দিব্যা। আম আদমি পার্টির মুখপাত্র দিব্যার দাবির সপক্ষে নথি চাইলে পাল্টা কমনওয়েলথ গেমসে পদকজয়ীকে অপমান করার অভিযোগ এনে বিঁধেছে বিজেপি।
|
দিব্যার দাবি
দিব্য়া কাকরান সাংবাদিকদের বলেন, ২০০১ সালে আমি দিল্লিতে আসি এবং ২০০৬ সাল থেকে কুস্তি শুরু করি। গত ২২ বছর ধরে আমরা গোকলপুরের বাসিন্দা। আমার বাবা কুস্তি প্রশিক্ষণের বন্দোবস্ত করেছিলেন। মেয়েদের সঙ্গে লড়লে অর্থ উপার্জনের সম্ভাবনা না থাকায় ছেলেদের সঙ্গে কুস্তি লড়তে হলো। এতে সামান্য উপার্জন হতো। দিব্যা আরও জানান, দিল্লির হয়ে তিনি কুস্তিতে অনেক পদক জিতেছেন। কিন্তু উত্তর-পূর্ব দিল্লির সাংসদ ছাড়া কেউই তাঁর পাশে দাঁড়াননি। কমনওয়েলথ গেমসে পদক জেতার পর দিব্যাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে দিব্যা জানিয়েছিলেন, দিল্লির হয়ে বহু বছর ধরে কুস্তি চালিয়ে গেলেও কোনও সহায়তা না পাওয়ার ঘটনা। অন্য রাজ্যের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা কুস্তিগীরদের মতো তাঁকেও সংবর্ধনা জানানো হবে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি। তখন থেকেই শুরু রাজনৈতিক চাপানউতোর।
|
চাপানউতোর অব্যাহত
দিল্লি সরকারের তরফে জানানো হচ্ছে, দিব্যাকে ২০১৬-১৭ পর্যন্ত তাঁর পারফরম্যান্সের নিরিখে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ২০১০-১১ অর্থবর্ষ থেকে ২০১৬-১৭ পর্যন্ত তাঁকে যথাক্রমে ৫ হাজার টাকা, ১০ হাজার টাকা, ১ লক্ষ টাকা ও দুই বছর ৪২ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। এরপরও নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে আবেদন করলে দিব্যাকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছে দিল্লি সরকার। এর আগে, গত ৭ অগাস্ট আপ বিধায়ক সৌরভ ভরদ্বাজ দাবি করেন, দিব্যা কখনও দিল্লির প্রতিনিধিত্বই করেননি। এর পাল্টা দিব্য়া টুইটেই জবাব দিয়ে প্রমাণ দেখান তিনি ২০১১ থেকে ২০১৭ অবধি দিল্লির হয়ে যে প্রতিনিধিত্ব করেছেন তার সমস্ত সার্টিফিকেট রয়েছে। সেগুলির ছবি পোস্টও করেন দিব্যা।
|
বাধ্য হয়ে উত্তরপ্রদেশে
দিব্যার কথায়, ২০১১ সালে দিল্লির হয়ে ব্রোঞ্জ পাই। ২০১৭ সাল পর্যন্ত আমি দিল্লির হয়ে ৫৮টি পদক জিতেছি। একমাত্র মনোজ তিওয়ারি আমার পাশে দাঁড়িয়ে ৩ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। সেটা আমার অনেক কাজে লেগেছে। কিন্তু দিল্লি সরকারের তরফে কোনও সাহায্যই পাইনি। আমি খুবই দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াতে পয়সা ছিল না। ট্রেনে শৌচালয়ের কাছে বসেও বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়েছে। এরপর ২০১৮ সাল থেকে উত্তরপ্রদেশে গিয়ে কুস্তির প্রশিক্ষণ নিতে থাকি। রেসলিং ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ২০১৮ সাল থেকে দিব্যা উত্তরপ্রদেশের হয়ে কুস্তি চালিয়ে যেতে থাকেন। সে কারণেই তিনি দিল্লি সরকারের স্কিমে সহায়তা পাননি। কিন্তু দিব্যার দাবি, দিল্লি থেকে সহযোগিতা না পেয়েই তাঁকে উত্তরপ্রদেশে যেতে হয়েছিল।
|
আপকে বিঁধল বিজেপি, রং চান না দিব্য়া
কমনওয়েলথ গেমসে ব্রোঞ্জজয়ী ফ্রিস্টাইল কুস্তিগীর আরও জানিয়েছেন, উত্তরপ্রদেশ সরকার তাঁকে ২০১৯ সালে রানি লক্ষ্মীবাঈ পুরস্কার দেয়। এতে তিনি ৩ লক্ষ ১১ লক্ষ টাকার চেক পান। ২০২০ সালে আজীবন পেনশনের ব্যবস্থা করে। এমনকী উত্তরপ্রদেশ সরকার তাঁর কমনওয়েলথ গেমসে সাফল্যের পর ৫০ লক্ষ টাকার আর্থিক পুরস্কার এবং গেজেটেড অফিসার পদমর্যাদায় চাকরি দেওয়ার ঘোষণাও করেছে। উত্তরপ্রদেশ সরকারের পাশাপাশি হরিয়ানা সরকারও তাঁর পাশে থেকেছে, কিন্তু দিল্লি সরকার কোনওভাবে তাঁর দিকে সহযোগিতার হাত বাড়ায়নি বলে দাবি দিব্যার। এরই মধ্যে দিব্যাকে অপমান করার দায়ে আপ বিধায়ক সৌরভ ভরদ্বাজকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে বিজেপি। বিজেপি মুখপাত্র বলেন, সৌরভ যুব সম্প্রদায়, অ্যাথলিট ও তিরঙ্গাকে অপমান করেছেন। স্টেডিয়াম হোক বা যুদ্ধক্ষেত্র সকলেই তিরঙ্গার গৌরবের জন্য লড়াই করেন। দিব্যা কোথাকার এটা জানতে চেয়ে অ্যাথলিটদেরই অপমান করা হয়েছে। সৌরভের বক্তব্যের প্রতিবাদ না করায় মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালেরও সমালোচনা করা হয়েছে। তবে গোটা বিষয়ে রাজনৈতিক রং লাগা পছন্দ নয় দিব্যার।












Click it and Unblock the Notifications