কোনেরু হাম্পির মুকুটে নয়া পালক, বিবিসি-র বিচারে হলেন বর্ষসেরা
সন্তানের জন্মের জন্য দু বছরের বিরতির পর ফিরেই র্যাপিড দাবায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে। এরপর গত বছর মহিলা দাবাড়ুদের এলিট ইভেন্ট কেয়ার্নস কাপে চ্যাম্পিয়ন হন। সেই কোনেরু হাম্পিকেই বর্ষসেরা ভারতীয় মহিলা ক্রীড়াবিদের সম্মানে ভূষিত করল বিবিসি।

বর্ষসেরা হাম্পি
হাম্পির সঙ্গেই এই পুরস্কার পাওয়ার দৌড়ে ছিলেন স্প্রিন্টার দ্যুতি চাঁদ, শ্যুটার মানু ভাকের, সদ্য বিশ্বের এক নম্বর কুস্তিগীর বিনেশ ফোগট ও ভারতীয় হকি দলের অধিনায়ক রানি রামপাল। পুরস্কার পেয়ে খুশি হাম্পি বলেন, আমাদের দেশে ক্রিকেট নিয়ে যতটা মাতামাতি হয় তার তুলনায় কোনও আগ্রহই দেখা যায় না দাবা নিয়ে, হয়তো ইন্ডোর গেমস বলেই। আশা করি, আমার এই পুরস্কার পাওয়া অনেককে দাবার প্রতি আকৃষ্ট করবে।

বিশ্বসেরার পরামর্শ
উঠতি দাবাড়ুদের পরামর্শ দিয়ে হাম্পি বলেন, খেলা উপভোগ করো। নিজের উপর বিশ্বাস রেখে শেষ অবধি ধৈর্য্য ধরে থাকো। আত্মবিশ্বাসী থেকে অভীষ্ট লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাও, তাহলেই পরিচিতি, সম্মান দুটোই আসবে। আমি যে সাফল্য পাচ্ছি তা আমার ইচ্ছাশক্তি আর আত্মবিশ্বাসের কারণেই। মহিলাদের খেলা ছাড়ার ভাবনা কল্পনাতেই আনা ঠিক নয়। বিয়ে, মাতৃত্বের স্বাদ জীবনের অঙ্গ। কিন্তু আমার জীবন কোন পথে এগোবে তা বিয়ে বা মাতৃত্ব কোনওভাবেই পরিবর্তন করতে পারে না।

ঈর্ষণীয় কেরিয়ার
উল্লেখ্য, অন্ধ্রপ্রদেশে হাম্পির জন্ম। ছোটোবেলা থেকেই দাবার প্রতি তাঁর আগ্রহ লক্ষ্য করেছিলেন তাঁর বাবা। ২০০২ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিশ্বের কনিষ্ঠতম গ্র্যান্ডমাস্টার হন হাম্পি। ২০০৮ সালে সেউ রেকর্ড ভাঙেন চিনের হু ইফান। ২০০৩ সালে পান অর্জুন পুরস্কার। ২০০৭ সালে পদ্মশ্রীতে ভূষিত হন হাম্পি। ২০১৯ সাল থেকে ভারতীয় মহিলা ক্রীড়াবিদদের কৃতিত্বকে স্বীকৃতি দিতে বর্ষসেরারএই পুরস্কার চালু করেছে বিবিসি।

জীবনকৃতী অঞ্জু
এ বছর লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কার পেয়েছেন অঞ্জু ববি জর্জ। লক্ষ্যচ্যূত না হয়ে প্রতিদিনই নিজেকে আরও উন্নত করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। বর্ষসেরা উদীয়মান ক্রীড়াবিদের সম্মান পেয়েছেন মানু ভাকের। কঠোর পরিশ্রমের ফলেই এই পুরস্কার বলে মনে করছেন তিনি। এ ছাড়া পাঁচজনের মধ্যে থেকে বর্ষসেরা মহিলা ক্রীড়াবিদ বেছে নিয়েছে সাংবাদিক, লেখক ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত প্যানেল।
ছবি- টুইটার












Click it and Unblock the Notifications