Archana Kamath: অলিম্পিক্স পদকের গ্যারান্টি নেই, অনিশ্চিত কেরিয়ার, ২৪ বছরেই টিটি ছাড়লেন অর্চনা
Archana Kamath: অর্চনা কামাথ টেবল টেনিস ছেড়ে দিলেন। মাত্র ২৪ বছর বয়সে। প্যারিস অলিম্পিক্স থেকে ফিরেই নিলেন বড় সিদ্ধান্ত। যার জেরে অবাক অনেকেই।
২০২৮ সালে অলিম্পিক্স পদক জেতার নিশ্চয়তা নেই। টেবল টেনিসে নেই আর্থিক নিরাপত্তাও। এ সব কারণেই প্যারিস অলিম্পিক্স খেলা প্যা়ডলার অর্চনা টিটি ছেড়ে বিদেশে পড়াশোনা করার সিদ্ধান্ত নিলেন।

ভারতের মহিলা টেবল টেনিস দল প্যারিসে ইতিহাস গড়েছে। অলিম্পিক্সে প্রথমবার মহিলা টিটি-র দলগত ইভেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে। জার্মানির কাছে ১-৩ ব্যবধানে হেরে ছিটকে যেতে হয়েছে। তবে সেই একমাত্র ম্যাচটি জিতেছিলেন বছর চব্বিশের অর্চনা।
অর্চনার অলিম্পিক্স দলে সুযোগ পাওয়া নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। বিশ্বের ১ নম্বরে থাকা সুন ইংশাকে হারিয়েছিলেন ঐহিকা মুখোপাধ্যায়। তবু বঙ্গতনয়াকে রিজার্ভে রেখে অর্চনাকে রাখা হয় মূল দলে। তবে অর্চনা হতাশ করেননি। নিজের খেলার ক্রমোন্নতি ঘটিয়ে তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জয় পান।
অর্চনার খেলা আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে। তবে এখনও তিনি বিশ্বের প্রথম ১০০ প্লেয়ারের মধ্যে আসতে পারেননি। রয়েছেন ১২২ নম্বরে। টেবল টেনিসে চিনেরই দাপট। ভারত সামগ্রিকভাবে পিছিয়ে অনেকটাই। এই পরিস্থিতিতেই টিটি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে চমকে দিলেন অর্চনা।
একটি সর্বভারতীয় দৈনিককে অর্চনার কোচ অংশুল গর্গ জানিয়েছেন, প্যারিস অলিম্পিক্স থেকে ফিরেই অর্চনা তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। অর্চনাকে অংশুল বলেন, পরের অলিম্পিক্সেও পদক জেতা কঠিন। খুব পরিশ্রম করতে হবে। কথা বলে বুঝেছি অর্চনা খেলা ছাড়ার বিষয়ে মনস্থির করে ফেলেছেন।
অর্চনার কেরিয়ার এগিয়ে নিয়ে যেতে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছিল টপস, অলিম্পিক গোল্ড কোয়েস্ট এবং অন্যান্য স্পনসররা। তবে অর্চনার উপলব্ধি, টিটি কেরিয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তার পরিবর্তে ভালো করে পড়াশোনা করলে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষায়।
ওই সংবাদপত্রকে অর্চনা আগেই জানিয়েছিলেন, তাঁর দাদা নাসায় কর্মরত। তাঁকেই আইডল মানেন অর্চনা পড়াশোনা কমপ্লিট করে অর্চনা নিজেও ভালো কোনও চাকরি করতে চান। অর্চনা অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী বলে জানিয়েছেন তাঁর বাবা গিরীশ কামাথ। ফলে টিটি ছাড়া নিয়ে কোনও আক্ষেপ নেই।
গিরীশের কথায়, টিটির পাশাপাশি পড়াশোনাও মন দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন অর্চনা। অর্থনীতিতে গ্র্যাজুয়েশন হয়ে গিয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস, স্ট্র্যাটেজিস অ্যান্ড সিকিউরিটিজ নিয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অর্চনা। ১৫ বছর ধরে টিটি খেলে অলিম্পিক্সে নামার স্বপ্নপূরণ হয়েছে। এবার পুরোপুরিভাবে তাঁর আরেকটি প্যাশন পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে চান।
দেশের হয়ে নিজের সেরাটা দেওয়ার পর এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে গেলে তাঁর কন্যার কোনও খেদ নেই বলে দাবি গিরীশের। ৮ বারের জাতীয় চ্যাম্পিয়ন তথা টেবল টেনিস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার সচিব কমলেশ মেহতা অবশ্য টিটি-তে আর্থিক নিরাপত্তার কারণে অর্চনার এই সিদ্ধান্তে কিছুটা অবাক।
কমলেশ বলেছেন, টেবল টেনিস আগের চেয়ে অনেক বেশি কর্পোরেট সংস্থার সহযোগিতা পাচ্ছে। আল্টিমেট টেবল টেনিসের দলগুলি কর্পোরেটদের। প্লেয়ারদের নানাভাবে সহযোগিতা করছে বিভিন্ন পেশাদার স্পোর্টস এজেন্সি। টিটিএফআইয়ের সঙ্গে সরকারও নানাভাবে চেষ্টা করছে যাতে সকলে এই খেলার সঙ্গে যুক্ত থাকেন। সে কারণে অনেক পেশাদার আকাদেমিও গড়ে উঠেছে। যুব টুর্নামেন্ট থেকে শুরু করে সিনিয়র পর্যায়- আমাদের প্লেয়ারদের পারফরম্যান্স প্রমাণ করছে সঠিক দিশাতেই এগিয়ে চলেছে টিটি।
ক্রীড়া সরঞ্জাম বা ট্রেনিংয়ের ক্ষেত্রে সহায়তা মিললেও কোনও প্লেয়ারের রোজগার, সংসার চালানোর বিষয়ে আর্থিক নিরাপত্তা এখনও সুনিশ্চিত নয় বলেই মনে করেন অর্চনার কোচ। তিনি অর্চনার সিদ্ধান্তকে তাই সমর্থন করেছেন। একইভাবে উঠতি প্লেয়ারদের জন্য সুষ্পষ্ট রূপরেখা তৈরির পক্ষেও সওয়াল করেছেন, যাতে অল্প বয়সেই কাউকে এভাবে খেলা ছেড়ে দিতে না হয়।












Click it and Unblock the Notifications