Panchayat Poll 2023: শুভেন্দুর পর রাজীবকে নিয়ে সংশয়ী অধীরও, মমতার মন্ত্রীর পোস্ট ঘিরে অস্বস্তি
রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহার একটি ছবি ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক। যদিও ছবিটি অনেক পুরানো। জানা যাচ্ছে ২০১৩ সালের। রাজ্য সরকারের প্রাক্তন মুখ্য সচিব রাজীব সিনহা রাজ্য নির্বাচন কমিশনার হওয়ার পর বিস্ফোরক টুইট করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
আজ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরীও তোলেন সেই ছবির প্রসঙ্গ। বিজেপি ও কংগ্রেস রাজ্য নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। মজার ব্যাপার হলো, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের এক মন্ত্রীও এই ছবি নিয়েই সরব হয়েছিলেন।

অধীররঞ্জন চৌধুরী আজ বলেন, ছবিতে দেখা যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর কাছের মানুষ, তাঁর ভাই রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে মদ্যপানের আসরে! সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে নির্বাচন কমিশনার বলছেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করব। নির্বাচন কমিশনই নির্বাচনের দায়িত্বে থাকে। ফলে এই কমিশনার কীভাবে নির্বাচন করবেন সেটাই সন্দেহ।
গতকালই নির্বাচনের দিনক্ষণ রাজ্য নির্বাচন কমিশন ঘোষণার আগে শুভেন্দু অধিকারী ওই ছবি পোস্ট করে লিখেছিলেন, মনে হচ্ছে, পঞ্চায়েত ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার পূর্বের প্রস্তুতি বৈঠক। ছবির সত্যতা ওয়ানইন্ডিয়া বাংলা যাচাই করেনি। অধীর বা শুভেন্দুর বক্তব্যের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতেও ছবিটিতে কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি নিয়ে চর্চা চলছে।
এই ব্যাপারে নিশ্চিত হতে আমরা দুপুর থেকে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। কিন্তু তাঁর ফোন স্যুইচড অফ! যদি ছবির ব্যক্তিটি কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় হন তাহলে বিরোধীদের দাবি জোরালো হবে। কেন না, কার্তিক দক্ষিণ কলকাতার দাপুটে নেতা, তাঁর স্ত্রী কাউন্সিলর, কার্তিকও দলের শাখা সংগঠনের মাথা।

বিরোধীরা সংশয় প্রকাশ করছেন রাজীব সিনহার রাজনীতি নিরপেক্ষতা নিয়ে। মুখ্য সচিব হওয়ার আগে রাজীব সিনহা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। অবসরের পরও তাঁকে শিল্প সংক্রান্ত নিগমের চেয়ারম্যান করে রাজ্য সরকার। রাজ্য নির্বাচন কমিশনার হওয়ার আগে তিনি শিল্প ও পরিকাঠামো উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান ছিলেন।
মনে হচ্ছে, পঞ্চায়েত ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার পূর্বের প্রস্তুতি বৈঠক ! pic.twitter.com/QCFQpljhwt
— Suvendu Adhikari • শুভেন্দু অধিকারী (@SuvenduWB) June 8, 2023
সেই রাজীব সিনহার সঙ্গে কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মদ্যপানের আসরে থাকা নিয়ে ঝড় উঠেছে রাজনীতিতে। তিন মহিলা সেখানে উপস্থিত। রাজীব সিনহার সামনে গ্লাস ও মদের বোতল রাখা। গ্লাসেও পানীয় রয়েছে। যদি ওই ছবির ব্যক্তি কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় হন তাহলে তাঁর হাতেও রয়েছে প্লেট।

বাবুল সুপ্রিয় বিজেপি থেকে তৃণমূল কংগ্রেসে এসে এখন মন্ত্রী। মজার ব্যাপার হলো বাবুল বিজেপিতে থাকাকালীন ২০২০ সালের ৮ মে এই ছবি পোস্ট করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, সুপার ভাইরাল ছবিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব আর মুখ্যমন্ত্রীর ভাইকে একসাথে দেখা যাচ্ছে!...বিজেপি কোনও গোপন ক্যামেরাতে এ ছবিটি তোলেনি! সকাল থেকেই এই ছবিটি ভাইরাল।
বাবুল আরও লিখেছিলেন, প্রত্যেকেরই মদ্যপানের অধিকার রয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর ভাই কার্তিক ব্যানার্জী চিফ সেক্রেটারির সঙ্গে ড্রিংক করছেন কেন এই প্রশ্ন উঠবে না? তৃণমূল-দিদি- CS বলতেই পারেন এটা ভুয়ো
ছবি ! আর কিছু বলছি না। হুইস্কির সাথে কোনও ছবি থাকা কিন্তু অপরাধ নয়। তাই ওই নিয়ে যাঁরা মুখ্য সচিবকে কুকথা বলছেন তার সাথে আমি একমত নই।
তৃণমূলের সাথে ওঁর (রাজীব সিনহা)-র কোনও অশুভ আঁতাত রয়েছে কিনা প্রশ্ন সেটাই, এ পর্যন্ত লিখে ছবি পোস্ট করেন বাবুল। এরপরই ১০ মে ডিসিপি সাউথ কলকাতার টুইটার অ্যাকাউন্টে বাবুলের পোস্টটিকে ফেক বা ভুয়ো বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়। মামলা রুজু করে আইনি ব্যবস্থা শুরুর কথাও জানানো হয়।
This post circulating on social media is #Fake.The information shared in the message is false. A case has been started over this and legal action being taken.@KolkataPolice pic.twitter.com/Zh1Ea0W4gR
— DCP South Kolkata (@KPSouthDiv) May 10, 2020
বাবুলের বিরুদ্ধে কলকাতা পুলিশের মামলাটি এখন কোন পর্যায়ে রয়েছে তা জানা যায়নি। তবে বাবুল মন্ত্রী হওয়ায় তা ধামাচাপা পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। ওই ছবি যাঁরা শেয়ার করবেন তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি ছিল। প্রশ্ন হলো, শুভেন্দুর টুইট, তারপর ছবি ফের ভাইরাল হওয়ার পরও কেন নীরব কলকাতা পুলিশ?
এটি ফেক ছবি হলে ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর কলকাতা বা রাজ্য পুলিশ কেন বার্তা দিল না? স্বাভাবিকভাবেই পুলিশের দ্বিচারিতা জোরালো করছে বিরোধীদেরই দাবি, মত রাজনৈতিক মহলের।












Click it and Unblock the Notifications