Suvendu Adhikari: বিধানসভা নির্বাচনের লক্ষ্য স্থির শুভেন্দুর, ৯০ আসনের লিড ধরে রেখে ২ শতাংশ ভোট বৃদ্ধিতে জোর
Lok Sabha Election Results 2024: জওহরলাল নেহরুর পর টানা তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন নরেন্দ্র মোদী। ঐতিহাসিক দিনে দিল্লিতে থাকার পরিকল্পনা রয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর।
যদিও সব কিছুই নির্ভর করছে ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের ঘটনার উপর। প্রচারবিমুখ থেকে ফল ঘোষণার পর থেকেই কর্মীদের পাশে রয়েছেন শুভেন্দু। সেটিকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন আপাতত।

নন্দীগ্রামের সোনাচূড়ায় লোকসভা ভোটের আগেই তৃণমূলের হামলায় মৃত্যু হয় বিজেপি কর্মী রথীবালা আড়ির। আজ সেই বাড়িতে গিয়েছিলেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু। তাঁর কাছে গ্রামে সন্ত্রাসের কথা তুলে ধরেন গ্রামবাসীরা।
শুভেন্দুর দাবি, এই গ্রামে মহিলাদের উপর অত্যাচার চলছে। গ্রাম পুরুষশূন্য। অথচ খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করছে না পুলিশ। তৃণমূলের শীর্ষস্তরের সঙ্গে শলাপরামর্শ করে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া ১ জনের নাম এফআইআরেও নেই। ভবানীপুর থানায় এসিতে রাখা হয়েছে।
শুভেন্দুর কথায়, গড়চক্রবেড়িয়া থেকে যারা এসে খুন করল ভোটের দিন তাদের জামাই আদর করে প্রোটেকশন দিয়ে অবাধে ঘুরতে সাহায্য করেছে পুলিশ। রথীবালা আড়ির হত্যার ঘটনা নিয়ে আদালতে গিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে তদন্তের আর্জি জানানো হবে, বললেন শুভেন্দু। দলের তরফে আর্থিক সহযোগিতা করার পাশাপাশি এই পরিবারের ভার নেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ বলেন, পূর্ব মেদিনীপুরে জেলাশাসক, ওসি-আইসিদের সরিয়ে ভোট লুঠ করা হয়েছে। শুভেন্দুর পাল্টা, প্রচুর আইপিএস পাঠিয়েও উনি কিছু করতে পারেননি। প্রচুর সন্ত্রাস হয়েছে। পোলিং এজেন্টদের হেনস্থা, কার্যকর্তাদের বিরুদ্ধে ৫৭টি এফআইআর হয়েছে। আদালত থেকে প্রোটেকশন এনে কাউন্টিং এজেন্টদের পাঠাতে হয়েছে। পুলিশি অত্যাচার না হলে এই লিড ২০ হাজারের বেশি হতো। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় তো সাফ হয়ে গিয়েছে।
নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে শুভেন্দু বলেন, ২০২১ সালের তুলনায় এবারের লোকসভা ভোটে ৭ লক্ষ বেশি ভোট পেয়েছে বিজেপি। তৃণমূলের সঙ্গে ব্যবধান ৪০ লক্ষের মতো। তার মধ্যে ডায়মন্ড হারবারে ১০ লক্ষ ও কেশপুরে ১ লক্ষ ৩০ হাজার ছাপ্পা ভোট হয়েছে।
শুভেন্দু আরও বলেন, লোকসভা নির্বাচনের ফল অনুযায়ী বিজেপি ৯০টি বিধানসভা আসনে এগিয়ে। ১৪৬টি বিধানসভায় ৪০ শতাংশ ভোট পেয়েছি। সংখ্যার নিরিখে আমরা প্রত্যাশায় পৌঁছতে পারিনি। বারো একুশ হলে ভালো হতো। সেটা হবে ভেবেছিলাম। কিন্তু যা পেয়েছি তা মোটেই কম নয়। ২ শতাংশ ভোট বাড়লেই অঙ্ক বদলে যাওয়ার ইঙ্গিত দেন শুভেন্দু।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ২০১৯ সালে আইপ্যাক ছিল না, লক্ষ্মীর ভান্ডার ছিল না। এনআরসি, সিএএ-র নামে সংখ্যালঘুদের ভয় দেখানো হয়নি। পুলিশ পার্টি ক্যাডারের মতো দাঁত-নখ বের করে এমন আচরণ করেনি। যাঁরা বড় বড় পোস্ট করছেন তাঁরা অতীত জানেন না। ২০০৪ সালে মমতা ৯ থেকে ১-এ নেমে গিয়েছিলেন। ফলে এই লড়াই থামার নয়, চলবেই।
তৃণমূলের আসন বৃদ্ধিতে বড় ফ্যাক্টর মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক অটুট রাখা। শুভেন্দুর কথায়, আমাদের ভোটের শতকরা হার ১ শতাংশের কাছাকাছি বেড়েছে। আমরা তো ৩০ শতাংশ বাইরে রেখে শুরু করি। সেই ৭০ শতাংশের মধ্যেই আমরা যা পেয়েছি।
শুভেন্দু বলেন, সংখ্যালঘুদের ভাবতে হবে তাঁরা শিল্প, চাকরি, ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল চান কিনা। সংখ্যালঘুরা অবহেলিত। সে কারণে শিক্ষিত সংখ্যালঘু ভাইদের পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে অন্য রাজ্যে গিয়ে ফ্লাইওভারের নীচে থাকতে হচ্ছে। ইমামের কথা শুনে তাঁরা ভোট দিচ্ছেন। তাঁরা কি নিজেদের বাড়িতে ফিরে ভালোভাবে থাকতে চান না?
তৃণমূল সংখ্যালঘু মুসলিমদের গুন্ডামির কাজে ব্যবহার করছে বলে দাবি করে শুভেন্দু বলেন, রথীবালা আড়ির মৃত্যুর ঘটনাতেও দেখা যাবে সংখ্যালঘুদের নাম যুক্ত। দেবব্রত মাইতির হত্যাকারীদের ১১ জন সংখ্যালঘু পালিয়ে রয়েছেন। তাঁদের খোঁজও নেন না মমতা বা তাঁর ভাইপো। মোদী সরকার বেশিদিন চলবে না, মমতার এই মন্তব্যকে গুরুত্বই দেননি শুভেন্দু। তিনি বলেন, উনিই তো বলেছিলেন সরকার ওঁরা গড়বেন। ২ ঘণ্টায় পরিস্থিতি বদলাবে। তা তো হয়নি।












Click it and Unblock the Notifications