নন্দীগ্রামে বিজেপি কর্মী খুনে গ্রেফতার মুখ্যমন্ত্রীর নির্বাচনী এজেন্টের আত্মীয়, সিবিআই-জালে আর কারা
পশ্চিমবঙ্গে ভোট-পরবর্তী হিংসার তদন্তে নেমে সিবিআই-জালে ধরা পড়লেন ১১ জন তৃণমূল কর্মী। তার মধ্যে রয়েছেন মমতা বন্যোরেপাধ্যায়ের নির্বাচনী এজেন্টের জামাই। নন্দীগ্রামে বিজেপি কর্মী খুনে তিনি অভিযুক্তদের তালিকায় ছিলেন।
পশ্চিমবঙ্গে ভোট-পরবর্তী হিংসার তদন্তে নেমে সিবিআই-জালে ধরা পড়লেন ১১ জন তৃণমূল কর্মী। তার মধ্যে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী এজেন্টের জামাই। নন্দীগ্রামে বিজেপি কর্মী খুনে তিনি অভিযুক্তদের তালিকায় ছিলেন। পূর্ব মেদিনীপুর থেকে কয়েকটি ফৌজদারি অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সেপ্টেম্বরে সিবিআই রাজ্যে ভোট-পরবর্তী হিংসায় বেশ কয়েকটি ফৌজদারি অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬ জনকে আটক করেছিল। সিবিআই কর্মকর্তাদের একটি দল হাওড়া জেলা পরিদর্শন করে ডোমজুড় এলাকা থেকে তাদের আটক করে। চলতি বছরের আগস্টের শুরুতে, কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্যে ভোট-পরবর্তী হিংসার ক্ষেত্রে আদালত-তত্ত্বাবধানে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়।
অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর অপরাধের তদন্তের জন্য বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়। নন্দীগ্রামে বিজেপি কর্মী খুনে শুক্রবারই হলদিয়া আদালতে চার্জশিট পেশ করে সিবিআই। চার্জশিটে শেখ ফতেনুর, শেখ মিজানুর ও শেখ ইমদুলাল ইসলামের নাম রয়েছে। তবে নন্দীগ্রামে ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী এজেন্ট শেষ সুফিয়ানের নাম ছিল না চার্জশিটে।
তবে শনিবার এই মামলা আচমকাই অন্যদিকে মোড় নিল। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১১ জনকে ডেকে পাঠিয়ে আচমকাই তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন শেখ সুফিয়ানের জামাই-সহ একঝাঁক তৃণমূল নেতা-কর্মী। বিজেপি কর্মী খুনের ঘটনায় প্রথমে তিনজনের নামে চার্জশিট দেওয়া হল, তারপর গ্রেফতার করা হয় ১১ জনকে।
সিবিআি গ্রেফতার করেছে, শেখ সাহাউদ্দিন, শেখ বাইতুল ইসলাম, শেখ হাবিবুল, শেখ মুখতার রহমান, শেখ মইদুল ইসলাম, হায়াতুল ইসলাম সেখ, সেখ আতুন রহমান, শেখ মুখতাদির, শেখ মুস্তাক রহমান, আবদুল হাই শেখ এবং শেখ নাজিরুল ইসলাম। ধৃতদের মধ্যে অনেকেই গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান বা প্রধানের স্বামী রয়েছেন। আর রয়েছেন শেখ সুফিয়ানের জামাই হাবিবুল। তিনি মহম্মদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান।
২০২১-এর বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পর নন্দীগ্রামের চিল্লোগ্রামে বিজেপি কর্মী দেবব্রত মাইতিকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধরের অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি ঘটে ৩ মে অর্থাৎ ভোটের ফল প্রকশের পরদিন। তাঁকে সঙ্কটজনক অবস্থায় এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। শেখ সুফিয়ান-সহ আরও দুই তৃণমূল নেতার নাম জড়ায়। তারপর সিবিআই চার্জশিটে তাঁর নাম ছিল না। কিন্তু নাটকীয়ভাবে তাঁর জামাই-সহ ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয় এদিন। শেখ সুফিয়ান বলেন, এসবই হচ্ছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে।












Click it and Unblock the Notifications