অনিন্দ্য চৌধুরী গ্রেফতার, কুৎসা-প্রতারণার অভিযোগ! মুখ্যমন্ত্রীর নাম জড়িয়ে তোলাবাজিতেও 'নির্ভীক' কীর্তিমান
চাকরির আশ্বাস দিয়ে প্রতারণা, তোলাবাজির পাশাপাশি 'নির্ভীক' ভাবমূর্তি দেখিয়ে কুৎসা ছড়ানো! ইউটিউবার অনিন্দ্য চৌধুরীর বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক অভিযোগ। রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ থেকে অনিন্দ্যর কুৎসার টার্গেট হয় জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যমও। অবশেষে পুলিশের জালে সেই কীর্তিমান!
তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুণগান করে থাকেন। এতে শাসক দলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টাও চালাতে থাকেন আপ্রাণ। আর সেটাই হাতিয়ার হয়ে উঠছিল অনিন্দ্যর অপকর্মের।

বাঁশদ্রোণী থানার পুলিশ সোমবার রাতে অনিন্দ্যকে বেলঘড়িয়া থেকে গ্রেফতার করেছে। আজ আদালতে তোলা হবে। রবীন্দ্র জয়ন্তীর সকালে নিজের ফেসবুক লাইভেও বিজেপিকে নিশানা করেছিলেন অনিন্দ্য। অভিযোগ, নিজের সংবাদমাধ্যমকে ব্যবহার করতেন অপকর্মের খেলার পিচ হিসেবে।
শুভেন্দু অধিকারী থেকে সজল ঘোষ, ফুয়াদ হালিম থেকে সোনালী গুহ- সকলকেই আক্রমণ করতেন তৃণমূল কংগ্রেসের সুরেই। তবে সেই আক্রমণে শালীনতাও ছাড়াতেন। শুভেন্দু অধিকারী-সহ বিজেপি নেতাদের নামে মামলা করার কথাও নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় ফলাও করে জানাতেন অনিন্দ্য।

রক্তদান শিবির থেকে একুশে জুলাইয়ের সভা, তৃণমূলের নানা কর্মসূচিতে তাঁকে দেখা গিয়েছে। বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে সরব হওয়ায় তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেতেও শুরু করেছিলেন। তবে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব অনিন্দ্যর এই কার্যকলাপকে কখনও সমর্থন করেননি। নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য নিজেকে বড় তৃণমূলী হিসেবে প্রতিষ্ঠার তাগিদ ছিল অনিন্দ্যরই।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেপরোয়া অনিন্দ্য যেভাবে শালীনতার মাত্রা ছাড়িয়ে, কোনও প্রমাণ বা নথি জনসমক্ষে না এনে একটি জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ও সেই সংবাদমাধ্যমের সঞ্চালিকাকে সম্প্রতি আক্রমণ করেন তাতে সব মহলেই অসন্তোষ জন্মায়। দাবি ওঠে, অনিন্দ্যর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের। কিছুটা দেরিতে হলেও অবশেষে পদক্ষেপ করল পুলিশ।
অনিন্দ্যর গ্রেফতারির খবর পেয়েই বিজেপি মুখপাত্র তথা কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর সজল ঘোষ ফেসবুকে লিখেছেন, "অনিন্দ্য চৌধুরী নামে এক বিপ্লবী পুলিশের জালে। তার একমাত্র কাজ সাংবাদিক, রাজনীতিবিদদের ব্যক্তিগত মিথ্যা আক্রমণ করে,নিজের নাম ফাটিয়ে,তোলা তোলা।"

সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে অনিন্দ্যর কিছু চ্যাট। যেখানে দেখা গিয়েছে, তিনি এক ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা চাইছেন। সেই সঙ্গে লিখেছেন, তাঁর এলাকায় মুখ্যমন্ত্রী আসছেন, তাঁর বাড়িতেও মিনিট পাঁচেকের জন্য আসবেন। তখন ওই ব্যক্তি সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর কথা বলিয়ে দেবেন। অর্থের বিনিময়ে কাজ করিয়ে দেবেন বলে আগাম কিছু টাকারও দাবি করেন।
এভাবে নানা সময় কখনও নিজে, কখনও বা তাঁর পরিচিতদের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়েছেন চাকরি করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে। কখনও বা নিজেকে শাসক দলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিয়ে হুমকি দিয়েও অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। মানহানির দায়েও অভিযুক্ত অনিন্দ্য। কাদের নিয়ে অপকর্ম চলত, কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।












Click it and Unblock the Notifications