মা হতে চেয়েছিলেন মহিলা, নয় বছর পর স্বামীর সঙ্গে মিলিয়ে দিল হাইকোর্ট

মা হতে চেয়েছিলেন মহিলা, নয় বছর পর স্বামীর সঙ্গে মিলিয়ে দিল হাইকোর্ট

পৃথিবীতে এমন কোন মহিলা নেই যিনি মা ডাক শুনতে চান না। বলাবাহুল্য সেই সুযোগ থাকা সত্ত্বেও স্কুল শিক্ষা দপ্তরের বাধায় তা হয়ে উঠছিল না ভরা এজলাসে এমনটাই জানালেন গার্গী দেবী।

মা হতে চেয়েছিলেন মহিলা, নয় বছর পর স্বামীর সঙ্গে মিলিয়ে দিল হাইকোর্ট

মুর্শিদাবাদ বেলডাঙ্গা মাদ্রাসা স্কুলে সহ শিক্ষিকা হিসেবে ২০০৩ সালে চাকুরীতে যোগদান করেন। এবং ২০১১ সালে কোচবিহারের বাসিন্দা এক স্কুল শিক্ষকের সাথে গার্গী রায় বিয়ে হয়। সে বছরই রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দপ্তরের কাছে বদলি চেয়ে আবেদন করেন। কোচবিহার থেকে মুর্শিদাবাদ এর দূরত্ব ৬৫০ কিলোমিটার। তাই স্কুল করে বাড়ি ফেরা সম্ভবত না গার্গী দেবীর।

এই ভাবেই বিয়ের পর থেকেই দীর্ঘ নয় বছর গার্গী দেবীর সাথে তার স্বামীর সেই অর্থে একসাথে থাকা হতো না। গার্গী দেবীর স্বামী আলিপুরদুয়ারের একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন।

তিনিও ছুটির অভাবে মুর্শিদাবাদে স্ত্রীর কাছে এসে থাকতে পারতেন না বলে আদালতে জানান।

স্বাভাবিকভাবেই দুজনের সাথে দুজনের যোগাযোগ একেবারেই প্রায় বিচ্ছিন্নই হয়ে গিয়েছিল।

স্কুল শিক্ষিকা নিজের জেলায় বদলি চেয়ে গত পাঁচ বছর ধরে লাগাতার একের পর এক আবেদন জানায় রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দপ্তরের।

কিন্তু গার্গী দেবীর আহবানে একেবারেই সাড়া দেয়নি রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দপ্তর তার আবেদন খারিজ করে দেন স্কুল শিক্ষা দপ্তর। স্বামী স্ত্রী দুজনেই ভিন্ন জেলায় থাকেন এবং সেই কারণেই তাদের কোনো রকম সন্তান হয়নি।

গার্গী দেবী একাধিক স্ত্রী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে পরামর্শ করেছেন যাতে করে তিনি মা হতে পারেন। কিন্তু চিকিৎসকরা জানিয়েছেন স্বামী স্ত্রীকে একসাথে থাকতে হবে এবং তাদের দুজনকে একসাথে চিকিৎসা করাতে হবে। চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে বেশ কয়েকবার স্কুল শিক্ষা দপ্তরের কাছে আবেদন জানান গার্গী দেবী কিন্তু সেই আবেদনে সাড়া দেইনি। দিনের-পর-দিন এভাবেই স্বামীর সাথে আলাদা থাকা এবং সন্তান না হয় মানসিক অবসাদে চলে যান গার্গী দেবী। নিরুপায় ২০১৯ সালে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন গার্গী দেবী।

মামলার শুনানি চলাকালীন আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী আশীষ কুমার চৌধুরী আদালতে জানান একজন মহিলা মা হতে না পারা কি যন্ত্রনা তার অনুভব একমাত্র একজন মহিলা বোধ করতে পারেন। বিবাহের ন বছর স্বামী থাকা সত্ত্বেও তিনি স্বামীর সাথে থাকতে পারছেন না। আইন অনুযায়ী একজন শিক্ষক বা শিক্ষিকা তিনি যদি কোন স্কুলে টানা পাঁচ বছর চাকরি করেন সে ক্ষেত্রে তিনি স্পেশাল গ্রাউন্ডে বদলির আবেদন করতেই পারেন এবং মেডিকেল গ্রাউন্ডে শিক্ষক বা শিক্ষিকা বদলির আবেদন করেন তাহলে আইন অনুযায়ী স্কুল শিক্ষা দপ্তর সেই নির্দেশ দিতে পারেন যা গার্গী দেবীর ক্ষেত্রে রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দপ্তর নিশ্চুপ ছিলেন।

হাইকোর্টের বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের নির্দেশে গার্গী দেবীকে মাদ্রাসা স্কুলের বদলে তুফানগঞ্জ এর ইলা দেবী গার্লস হাই স্কুল বদলির অনুমোদন দেন স্কুল শিক্ষা দপ্তর।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+