সাধারণ কাশ্মীরিদের সমর্থনে পোস্ট, কলকাতায় প্রকাশ্যে মহিলাকে ধর্ষণের হুমকি
পুলওয়ামার শহিদ এবং কাশ্মীরি নিয়ে প্রশ্নে ফের কালির ছিটে লাগল কলকাতার ভাবমূর্তিতে। এবার এক মহিলার অভিযোগ, সাধারণ কাশ্মীরিদের নিরাপত্তার জন্য সওয়াল করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টের জন্য তাঁকে ধর্ষণের হুমকি
পুলওয়ামার শহিদ এবং কাশ্মীরি নিয়ে প্রশ্নে ফের কালির ছিটে লাগল কলকাতার ভাবমূর্তিতে। এবার এক মহিলার অভিযোগ, সাধারণ কাশ্মীরিদের নিরাপত্তার জন্য সওয়াল করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টের জন্য তাঁকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এক্কেবারে মেসেঞ্জারে এই হুমকি পাঠানো হয়েছে।

পুলওয়ামায় শহিদ জওয়ানদের শ্রদ্ধা জানানো নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন তুলকালাম পরিস্থিতি। কেউ এই উন্মাদনায় প্রশ্ন তুললে বা সাধারণ কাশ্মীরিদের হয়ে সওয়াল করলেই নিগ্রহের শিকার হতে হচ্ছে। কখনও ফেসবুকেই কমেন্ট বক্সে ছুটে আসছে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ, হুমকি। কখনও আবার বাড়ি বয়ে গিয়ে নিগ্রহ করা হচ্ছে। গত কয়েক দিনে রাজ্য জুড়ে এমন একাধিক ঘটনার খবর মিলেছে। দিন দুয়েক আগেই বাড়়িতে ঢুকে এক তরুণকে খালি গায়ে হাফ-প্য়ান্ট পরিয়ে রাস্তায় বের করে আনা হয়। তাঁর অপরাধ সে হোয়াটসঅ্য়াপ গ্রুপে পুলওয়ামা নিয়ে তর্কের মধ্যে বলেছিল দেশকে সে ভালোবাসে না। সেই তরুণকে রাস্তার মোড়ে চড়-থাপড় মেরে দেশপ্রেমের স্লোগান আওড়ানো হয়েছিল। এখানেই শেষ নয় পরে সেই তরুণের হাতে জাতীয় পতাকা ধরিয়ে দিয়ে স্লোগান দিতে দিতে মিছিলও করা হয়েছিল।
এছাড়াও কলকাতার বুকেও এক কাশ্মীরি কার্ডিওলজিস্ট-কে সন্ধ্যায় বাড়িতে ঢুকে হুমকি দেওয়া হয়। ২২ বছরের কলকাতার বাস তুলে রাজ্য ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়। গেরুয়া পোশাক পরে এই দুষ্কৃতী দল সেই চিকিৎসকের ঘরে জোর করে ঢুকেছিল বলে অভিযোগ। এমনকী, কথা না শুনলে চিকিৎসকের দুই মেয়ের প্রাণনাশেরও হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

এত সব ঘটনার মধ্য়ে এবার কলকাতাতেই মহিলাকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়াটা নবতম সংয়োজন বলা যেতে পারে। অভিযোগকারিনী মহিলার দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ায় যারা তাঁকে হুমকি দিচ্ছে তারা নিজেদের বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বা আরএসএস-এর কর্মী বলে দাবি করছেন। ওই মহিলা জানিয়েছেন, ১৫ তারিখে তিনি সাধারণ কাশ্মীরিদের জন্য সওয়াল করে এই পোস্টটি লিখেছিলেন। যাতে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, 'যারা সেনা জওয়ানদের জন্য কাঁদছেন তাঁরা কি একবার সাধারণ কাশ্মীরিদের দুঃখদুর্দশার কথা ভেবে কেঁদেছেন? তাঁদের কি চলে যাওয়া উচিত? কারণ শুধুমাত্র তাঁরা কাশ্মীরি? কাশ্মীরি শাল, কাশ্মীরি কার্পেট-এদের চাহিদা আকাশছোঁয়া।'
অভিযোগকারিনী বছর সাতেকের একটি সন্তানও রয়েছে। কিন্তু গোটা ঘটনায় তিনি এখন আতঙ্কে। তিনি জানিয়েছেন, কাশ্মীরিদের পক্ষে সওয়াল করে পোস্টটা আপলোড করার পর থেকেই তাঁকে উদ্দেশ্য করে চলে আসছে একের পর এক অশ্লীল কমেন্ট। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্য়কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই মহিলা জানিয়েছেন, 'সমানে ধর্ষণের হুমকি এসে যাচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হিন্দুত্ববাদী ভিএইচপি, আরএসএস-এর লোকজনই এই হুমকি দিচ্ছে। এমনকী বিভিন্ন গ্রুপে আমার ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে আমাকে সমানে হুমকি দেওয়া হয়। এমনকী আমাকে খুঁজে বের করার চেষ্টাও চলছে। সুযোগ পেলে আমাকে হয়তে মেরেই ফেলবে। আমি পুলিশে এফআইআর করেছি। কিছু প্রোফাইলের হদিশ পুলিশকে দিয়েছি। কিন্তু, আমি সত্যিকারেই আতঙ্কিত।'
দিন কয়েক আগেই কলকাতায় আরও তরুণীকে এমন হুমকি দেওয়া হয়েছিল। বারো ক্লাসের ছাত্রী ওই তরুণী জানিয়েছিলেন যে তিনি পুলওয়ামার শহিদ জওয়ানদের মৃত্যুতে যেমন দুঃখ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে হামলার নিন্দা করেছিলেন, তেমনি কাশ্মীরিদের দুঃখ-দুর্দশার কথাও বলেছিলেন। এরপর থেকেই ফেসবুকে ওই তরুণীকে সমানে হুমকি দেওয়া হতে থাকে। এমনকী, কয়েকজন ছবির প্রিন্ট-আউট নিয়ে বাড়ির কাছে চলে এসেছিল। একটি মুদি খানার দোকানে তরুণীর ছবিটিো দেখায় ওই ছেলেরা। কিন্তু, মুদিখানার মালিক কিছু একটা আঁচ করে বলে দিয়েছিলেন এমন কেউ থাকে না। এই ঘটনার পর দু'দিন ধরে এই তরুণী স্কুলে না গিয়ে বাড়িতে বসেছিলেন।












Click it and Unblock the Notifications