শিল্পে সঙ্কট : রাজ্য 'SEZ' এর সুবিধা না দিলে কলকাতায় দ্বিতীয় ক্যাম্পাস করবে না উইপ্রো
কলকাতা, ৬ জুলাই : তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের অন্যতম বড় নাম উইপ্রো-ও এবার বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বা স্পেশাল ইকোনমিক জোন (SEZ) এর দাবি আরও জোরাল করল। যদি সেজ দেওয়া না হয় তাহলে কলকাতায় নিজেদের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস তৈরির কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে উইপ্রো।
এমন হলে শিল্পক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল সরকারের কাছে তা অন্যতম বড় ধাক্কা হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজ্যে শিল্পায়নের জোয়ার আনার যে শপথ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়েছেন তা বড়সড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়বে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

এক উচ্চপদস্থ উইপ্রো আধিকারিক জানিয়েছেন, সেজ না দেওয়া হলে এক পা-ও এগোবে না সংস্থা। উইপ্রোর দ্বিতীয় ক্যাম্পাসটি হলে সেখানে অন্ততপক্ষে ১৮ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতো। সেই প্রক্রিয়া ধাক্কা খাবে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।
বর্তমানে সেক্টর ফাইভে উইপ্রোর ক্যাম্পাসে ৭ হাজার ৫০০ জনের মতো কর্মী কাজ করছেন। দ্বিতীয় ক্যাম্পাসটির কাজ না এগোলে বর্তমান কর্মীদের চাকরিতে কোনও ক্ষতি হবে কিনা সেই সংশয়ও তৈরি হতে পারে।
সংস্থার পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, দেশের নানা প্রান্তে বিভিন্ন প্রোজেক্টে কাজ চলছে। একমাত্র সেখানেই কাজ হচ্ছে যেখানে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল-এর সুবিধা দেওয়া হয়েছে। যেখানে তা পাওয়া যাবে না সেখানে প্রোজেক্টের কাজ আর এগোনো সম্ভব হবে না।
রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ব্রাত্য বসু গত সপ্তাহেই বিধানসভায় জানিয়েছেন, রাজ্যে বিনিয়োগে আগ্রহী সংস্থাগুলির সঙ্গে রাজ্য সরকার অবশ্যই আলোচনায় বসবে। তবে সংস্থাকে রাজ্যের জমি নীতির শর্ত মানতে হবে।
আর সমস্যাটা এখানেই। কারণ, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দেওয়া নিয়ে মমতার সরকারের বিরূপ অবস্থানের কারণে ইতিমধ্যেই ইনফোসিসের মতো সংস্থা রাজ্য থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে ফেলেছে। এরপর উইপ্রোর মতো সংস্থাও যদি নিজেদের গুটিয়ে নিতে থাকে তাহলে শিল্পের দৈন্যদশা আরও প্রকট হয়ে উঠবে।
দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পরে সেজ নিয়ে মমতা সরকার কিছুটা সুর নরম করেছে। কিছুক্ষেত্রে লালফিতের ফাঁস আলগা করার কথা বলা হয়েছে। সেজন্য নিজেদের দাবি জানিয়ে উইপ্রো আবেদন করেছে, তা অনুমোদন পেতে আপাতত সরকারে ঘরে গিয়েছে। এখন শেষ সিদ্ধান্ত নেবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ইতিমধ্যে সরকারের সঙ্গে উইপ্রো আধিকারিকদের কয়েকদফা আলোচনাও হয়েছে। তাতে কিছুটা আশাবাদী এই তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ফের সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে। এখন দেখার সরকার কি অবস্থান নেয়।
প্রসঙ্গত সেজ বা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সুবিধা পেলে বিভিন্ন ধরনের কর যেমন কর্পোরেট কর, পরিষেবা কর ও রপ্তানি করের মতো বেশ কয়েকটি কর মুকুব করা হয়। এছাড়া নিরাপত্তা সহ আরও বেশ কিছু সুবিধা পায় কোম্পানিগুলি। সেজন্যই সেজ না হলে এখনকারদিনে বড় সংস্থা বিনিয়োগে রাজি হয় না।












Click it and Unblock the Notifications