গঙ্গাসাগর কেন জাতীয় মেলা হবে না? মমতা চিঠি কেন্দ্রকে, বাংলাকে ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা দেওয়ার দাবি
বাংলাকে ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা দেওয়ার দাবি তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠিও পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন নবান্নে সাংবাদিকদের সামনে এই কথা জানালেন তিনি। বাংলা ভাষার বয়স আড়াই হাজার বছর পেরিয়ে গিয়েছে। তাই এবার ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা বাংলার পাওয়া উচিত। এমনই দাবি মুখ্যমন্ত্রীর।
এই বিষয়ে দীর্ঘ গবেষণা করেছে রাজ্য। চারটি খণ্ডে বই তৈরি করা হয়েছে। এছাড়াও প্রচুর গবেষণাপত্র রয়েছে। এই সব কিছুই দিল্লিতে রাজ্যের তরফ থেকে পাঠানো হচ্ছে। এমনই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের নাম বদল নিয়ে একসময় চর্চা শুরু হয়েছিল। কেন্দ্র কিছুতেই 'বাংলা' নামের সঙ্গে সহমত হচ্ছে না। ফের অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী।

পশ্চিমবঙ্গ নয়, 'বাংলা'। রাজ্যের এই নাম করতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রের কাছে দুবার কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। কিন্তু দিল্লি থেকে কোনও সবুজ সংকেত পাওয়া যায়নি। ওয়েস্ট বেঙ্গল নাম থাকলে অনেক সুযোগ-সুবিধা কম পাওয়া যায়। রাজ্য থেকে যাওয়া ছেলেমেয়েরাও অনেক পিছনের সারিতে থাকে। 'বেঙ্গল' লেখা হলে একদম প্রথম দিকে রাজ্যের উপস্থিতি থাকবে।
কোনও বিশেষ কারণে কি এই নাম বদল করা হচ্ছে না? অন্যান্য রাজ্যের নাম তো অনেক আগে থেকেই বদল হয়েছে। বোম্বাই থেকে মুম্বই হয়েছে। মাদ্রাস থেকে চেন্নাই হয়েছে। উড়িষ্যা থেকে ওড়িশা হয়েছে। তাহলে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে কেন এত বাধা আসছে? সেই প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
গঙ্গাসাগর মেলা প্রসঙ্গে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গঙ্গাসাগর মেলা প্রতি বছর হয়। তবুও এই মেলাকে জাতীয় মেলার স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। কেন্দ্রের থেকে আর্থিক সাহায্য আসে না। চার বছর অন্তর কুম্ভ মেলা হয়। কুম্ভকে জাতীয় মেলার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বিশাল পরিমাণ টাকা আর্থিক সাহায্য করা হয়।
গঙ্গাসাগর কেন জাতীয় মেলার স্বীকৃতি পাবে না? আরও একবার এই বিষয় নিয়ে দিল্লিতে চিঠি পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী। এবারও মকর সংক্রান্তির মেলাতে এক কোটি মানুষ উপস্থিত হবেন। এই দাবি মুখ্যমন্ত্রী করেছেন। গত বছর ৮০ লক্ষ মানুষ গঙ্গাসাগরের মেলায় হাজির হয়েছিলেন বলে নবান্নের দাবি। সারা বছর জনসমাগম ধরলে সংখ্যা অনেক বেশি হবে। এমনই দাবি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজ্যের মন্দিরগুলির সংস্কারের জন্য সরকারি তরফে খরচ করা হয়েছে। আরও বহু মন্দির সংস্কার করা হবে। এ কথা নবান্ন থেকে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। ১৬৫ কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে কালীঘাটের জন্য। দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের জন্য ২০৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। এছাড়াও কচুয়া, চাকলা, অনুকুল ঠাকুরের মন্দিরের জন্যও অর্থ সংস্থান হয়েছে।
ইস্কনকে ৭০০ একর জমি দেওয়া হয়েছে রাজ্যের তরফে। জল্পেশ মন্দির সংস্কার হয়েছে। বীরভূমের কঙ্কালীতলা মন্দিরের সংস্কারের কাজ সম্পূর্ণ। তারাপীঠের মন্দির সংস্কার হয়েছে। তারকনাথ মন্দির সহ রাজ্যের একাধিক মন্দির সংস্কারের কাজ হয়ে গিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার নবান্ন থেকে এই কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
করোনা নিয়ে এখনও আতঙ্কের কিছু নেই। তবে সাবধানে থাকতে হবে। যাদের কোমর্বিডিটি আছে, তাদের মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিলেন মমতা। করোনার বিষয় নিয়ে স্বাস্থ্য দফতরকেও সচেতন থাকতে হবে। এই কথাই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।












Click it and Unblock the Notifications