হাওড়া এবং কলকাতাতেই কেন নির্বাচন? পুর মামলাতে রাজ্য-নির্বাচন কমিশনকে যুক্ত করার নির্দেশ হাইকোর্টের
হাওড়া এবং কলকাতাতেই কেন নির্বাচন? পুর মামলাতে রাজ্য-নির্বাচন কমিশনকে যুক্ত করার নির্দেশ হাইকোর্টের
উপনির্বাচন শেষ হতেই অন্যান্য ভোটেরও তো ব্যবস্থা করতে হবে! গত কয়েকদিন আগে পুর-নির্বাচন করার ইঙ্গিত দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এরপরেই পুর নির্বাচনের প্রস্তুতি বাংলাতে। তবে সমস্ত জায়গাতে এই নির্বাচন হবে না। আপাতত কলকাতা এবং হাওড়া পুরসভাতে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। আর এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই মামলা কলকাতা হাইকোর্টে। আজ সোমবার সেই সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব ও বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে। রাজ্যের পুর নির্বাচন নিয়ে দায়ের হওয়া এই মামলায় রাজ্য এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে পক্ষভুক্ত করতে নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

মামলার আবেদনে আইনজীবী কলকাতা হাইকোর্টকে জানান, ২০১৮ সাল থেকে রাজ্যের বহু পৌরসভা বা পৌর নিগমের নির্বাচন বকেয়া পড়ে রয়েছে। নির্বাচন চেয়ে দায়ের হওয়া মামলায় পূর্বে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল হাইকোর্টে জানিয়েছিলেন, সামনেই বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া মিটলে পৌরসভা বা পৌর নিগমের নির্বাচন করা হবে। মামলাকারীর অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচন মিটলেও এখনও পর্যন্ত রাজ্য নির্বাচন কমিশন কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি।
মামলাকারী মৌসুমী রায় তাঁর মামলায় আরও দাবি করেছেন যে, আদালত অবিলম্বে নির্বাচনের নির্দেশিকা জারি করে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করুক। তাঁর আইনজীবী সব্যসাচী চট্টপাধ্যায় আদালতে এই সংক্রান্ত দাবি করেন। তবে এদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ মামলাতে রাজ্য নির্বাচন কমিশন বা রাজ্য সরকারের পক্ষের কোনও আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে পুরো মামলার শুনানি হয়নি। আর তাই রাজ্য ও রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে এই মামলাতে নোটিশ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আগামী ১৭ ই নভেম্বর মামলার পুনরায় শুনানি। সেদিন মামলার শুনানি কোন দিকে যায় সেদিকেই নজর সবপক্ষের।
উল্লেখ্য, ডিসেম্বরেই পুরভোট করাতে চাইছে রাজ্য সরকার। সূত্রের খবর ১৯ ডিসেম্বর কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা কেন্দ্রে ভোট করানোর জন্য নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছে রাজ্য সরকার। ১৯ ডিসেম্বর পুরভোট এবং ২২ ডিসেম্বর ভোট গননার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। এই নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছে নবান্ন। কমিশনের সঙ্গে এই নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনার পরেই পুরভোটের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলে জানা যাচ্ছে। সূত্রের খবর আগামী সপ্তাহেই রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রক পুরসভা ভোটের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে। আর তার আগেই আইনি জটিলতায় পুর নির্বাচন। তবে মামলার শুনানি কোন পথে এগোয় সেদিকেই তাকিয়ে সবপক্ষ।
বলে রাখা দরকার, উল্লেখ্য একুশের ভোটের আগে যে ভোটার তালিকা হয়েছিল সেই অনুযায়ী ভোট করা হবে। এদিকে ১ নভেম্বর থেকে সংশোধিত ভোটার তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই কাজ শেষ হওয়ার কথা ৫ জানুয়ারি। তাই পুরোনো তালিকা মেনেই ভোট করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।












Click it and Unblock the Notifications