টালিগঞ্জে হৈমন্তীকে দিয়েই কি কালো টাকা সাদা হয়েছে? রহস্যময়ীকে ঘিরে বাড়ছে আরও রহস্য
নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে হৈমন্তীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে দাবি সিবিআইয়ের
কালীঘাটের কাকুর রেশ কাটতে না কাটতেই এবার একেবারে গোপাল দলপতির স্ত্রী। তাপস মণ্ডলের পর এবার কুন্তল ঘোষ বোমা ফাটিয়েছেন। গতকালই গোপাল দলপতির স্ত্রী হৈমন্তীর নাম করেছেন কুন্তল ঘোষ। তার পর থেকেই এই রহস্যময়ী নারীর একাধিক তথ্য প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। গ্ল্যামার দুনিয়ার সঙ্গে হৈমন্তীর যোগাযোগ ছিল বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। মুম্বইয়ে হৈমন্তীর নামেই কোম্পানি খুলেছিলেন গোপাল দলপতি। সেই কোম্পানিতেই টাকা যেত নিয়োগ দুর্নীতি এমনই দাবি করেছেন তদন্তকারীরা।

হৈমন্তীর সঙ্গে টালিগঞ্জ যোগ
গতকাল কুন্তল ঘোষের দাবির পরেই হৈমন্তীর সন্ধানে হন্যে হয়ে খোঁজ শুরু করেছেন তদন্তকারীরা। এই হৈমন্তীর সঙ্গে আবার গ্ল্যামার দুনিয়ার যোগ পাওয়া গিয়েছে। মডেলিং করতেন হৈমন্তী। সেই সুবাদেই নাকি কুন্তলের সঙ্গে পরিচয় হয় হৈমন্তীর। ২০১৫-১৬ সালে গোপাল দলপতির সঙ্গে আলাপ হয়েছিল হৈমন্তীর। তারপরেই মডেলিংয়ের দুনিয়ায় পা রাখা। অনেকটা ধূমকেতুর মতই টলিউডে উদয় হয়েছিল হৈমন্তীর। তদন্তকারীরা মনে করছেন নিয়োগ দুর্নীতির কালো টাকা সাদা করতেই হৈমন্তীকে টলিউডে কাজে লাগানো হয়েছিল।

তাপসের সঙ্গে গোপালের যোগ
তাপস মণ্ডলের অফিসেই গোপাল দলপতি কর্মী হিসেবে কাজ করতেন বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। তাপস মণ্ডলের অফিসে মূলত টাকা তোলার কাজ করতেন গোপাল দলপতি। সিবিআই সূত্রে খবর গোপাল দল পতির ২৫ একর জমি রয়েছে। হৈমন্তীকে গোপাল দলপতিই প্রথম কাজের জন্য তাপস মণ্ডলের দফতরে গিয়ে গিয়েছিলেন। তারপরেই মুম্বইয়ে হৈমন্তী এবং গোপাল দলপতি হৈমন্তী অ্যাগ্রো প্রাইভেট লিমিটেড নামে শেল কোম্পানি খুলেছিল।

গোপালের আরও পাঁচ সংস্থা
স্ত্রী হৈমন্তী গোপাল দলপতির দ্বিতীয় স্ত্রী বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। হৈমন্তী অ্যাগ্রো প্রাইভেট লিমিটেড ছাড়াও গোপাল দলপতির আরও ৫টি কোম্পানির হদিশ পেয়েছে সিবিআই। সেই শেল কোম্পানি গুলির মাধ্যমেই নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডের কালো টাকা সাদা করা হত বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। কুন্তল ঘোষ এর আগেও জানিয়েছিলেন গোপাল দলপতির স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে ৩৯ লক্ষ টাকা গিয়েছে। এবং উত্তরবঙ্গের এক প্রভাবশালী নেতার অ্যাকাউন্ট থেকে সেই টাকা ট্রান্সফার হয়েছে।

গোপাল দলপতির বাড়ি কোথায়
গোপাল দলপতির নাম বারবার নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে উঠে এলেও এখনও গোপাল দলপতির হদিশ পায়নি তদন্তকারীরা। গোপাল দলপতির বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের ২ নম্বর ব্লকের খরিসবাড়ি গ্রামে। তাঁর মা দাবি করেছেন, গোপাল দলপতি নাকি বলেছেন তাপস মণ্ডল এবং কুন্তল ঘোষ তাঁকে ব্যবহার করছে টাকার লেনদেনে। তিনি এই কাজে কোনও ভাবেই জড়িত নন। এবং তিনি একটি পয়সাও নেননি। তাহলে এই টাকা ৈহমন্তীর অ্যাকাউন্টে গেল কী করে এই নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।












Click it and Unblock the Notifications