আম্ফান-ইয়াসের পর ধেয়ে আসছে মোখাও! এর পরের ঘূর্ণিঝড় কী? নাম দিয়েছে বাংলা
ঘূর্ণিঝড় মোখা বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে এগিয়ে আসছে উপকূলের দিকে। মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী এবার বাংলা রক্ষা পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় মোখা মায়ানমার-বাংলাদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে চলেছে। বুধবার রাতেই গভীর নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেবে মোখা।
মোখার পরই অপেক্ষায় রয়েছে ২০২০-র তালিকা দ্বিতীয় স্তম্ভের ঝড়। মোখা ছিল নতুন তালিকায় প্রথম স্তম্ভের শেষ ঝড়। তারপর শুরু হবে দ্বিতীয় স্তম্ভের ঝড়গুলির আনাগোনা। সেই তালিকায় প্রথমেই নাম রয়েছে বিপর্যয়ের। অর্খাৎ মোখার পর ধেয়ে আসবে ঘূর্ণিঝড় বিপর্যয়।

এই ঘূর্ণিঝড়ের নামকর করেছে বাংলাদেশ। নামেই লুকিয়ে রয়েছে আতঙ্ক। মোখার নাম দিয়েছিল ইয়েমেন। এটি একটি ইয়েমেনের বন্দরের নাম। আবার কফির নামও বটে। বাংলাদেশের দেওয়া পরবর্তী নাম বিপর্যয় কিন্তু এখন থেকেই অনেকে আতঙ্কিত। এই ঝড় সত্যিকারের বিপর্যয় ডেকে আনবে না তো!
২০২২-এ মাত্র তিনটি ঘূর্ণিঝড় বয়ে গিয়েছে ভারতীয় উপকূল সন্নিকটস্থ অঞ্চলে। তার মধ্যে কোনোটিই আম্ফান বা ইয়াসের মতো সাংঘাতিক রূপ নেয়নি। ২০২২-এ ভারতের উপকূলে আঘাত করেছে ঘূর্ণিঝড় অশনি, সিতরাং ও ম্যান্ডোস। এবার যে ঝড় আসছে তা হল মোখা। তারপরই আসবে বিপর্যয়!
উত্তর ভারত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলে ঝড়ের যে তালিকা রয়েছে, তা থেকেই এই নাম বরাদ্দ হয়েছে। এই অঞ্চলের ১৩টি দেশ ১৩টি করে নাম দিয়েছে ঝড়ের। সেইমতো ১৬৯টি নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে ২০২০ সালে। সেই নামের তালিকার শেষ ঝড় ছিল মোখা।

এর ফলে প্রথম সারির ১৩টি ঝড়ই হয়ে গিয়েছে। প্রথম সারির শেষ ঝড় হিসেবে বইছে মোখা। ১৩টি দেশকে সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে এই নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশ রয়েছে সবার আগে আর শেষ দেশ ইয়েমেন। ফলে চক্রাকারে ইয়েমের পরেই ফের বাংলাদেশের নামকরণের পালা।
বাংলাদেশ থেকে শুরু করে ভারত, ইরান, মালদ্বীপ মায়ানমার, ওমান পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড ও আরব আমীরশাহী ও ইয়েমেন ঝড়ের নামকরণ করেছে। বাংলাদেশের দেওয়ার পরের ঝড়টির নাম বিপর্যয়। মোখা চলে যাওয়ার পর বিপর্যয়ের অপেক্ষা সাগরের।

নিয়ম নেনে ঝড়ের নাম দেয় নির্দিষ্ট ১৩টি দেশ। উত্তর ভারত মহাসাগরের ৪৫ ডিগ্রি পূর্ব থেকে ১০০ ডিগ্রি পূর্ব পর্যন্ত এলাকায় তৈরি হওয়া গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়গুলির নামকরণ করে এই ১৩ দেশ। যে সমস্ত ঘূর্ণিঝড় কমপক্ষে তিন মিনিট বাতাসে স্থায়ী হয় এবং গতিবেগ সর্বনিম্ন ঘন্টায় ৬৩ কিলোমিটার হয়, সেই ঝড়েরই নামকরণ করা হয়।
এখানে উল্লেখ্য, ভারত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের মরশুম শুরু হয় মার্চ মাস থেকে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের মোক্ষম সময় এপ্রিল ও মে মাস। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্ত ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা থাকে। এবার মার্চ ও এপ্রিল কেটে যাওয়ার পর মে মাসে বঙ্গোপসাগরে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় মোখা।












Click it and Unblock the Notifications