লোকায়ুক্ত নিয়ে ফের নিশানায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এবার রাজ্যের লোকায়ুক্ত বিচারপতির তোপ
লোকায়ুক্ত নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা। বিরোধী রাজনৈতিক দল নয় রাজ্যের লোকায়ুক্ত বিচারপতি সমরেশ বন্দ্যোপাধ্যায় এই সমালোচনা করেছেন।
লোকায়ুক্ত নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা। বিরোধী রাজনৈতিক দল নয় রাজ্যের লোকায়ুক্ত বিচারপতি সমরেশ বন্দ্যোপাধ্যায় এই সমালোচনা করেছেন। এক ইংরাজি সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুখ্যমন্ত্রীর সরকারের পদক্ষেপে হতাশা ব্যক্ত করেছেন বিচারপতি সমরেশ বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজ্যের লোকায়ুক্ত বিচারপতি হিসাবে ২০০৬ সালে নিয়োগ করা হয়েছিল সমরেশ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনি ছাড়া আর কেউ এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় কোনও বিচারপতিকে লোকায়ুক্ত হিসাবে নিয়োগ করেনি পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ২০০০৯ সালেই সমরেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যকাল শেষ হয়েছে। কিন্তু, লোকায়ুক্ত নিয়ে এখনও তাঁর কাছে সমানে নানা অভিযোগ আসছে।
বিচারপতি সমরেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় মুখ্যমন্ত্রী পদকে লোকায়ুক্ত বিলের বাইরে রেখে এই আইনকেই শক্তিশালী করার বদলে দূর্বল করে দিয়েছেন।' ২০০৩ সালে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মুখ্যমন্ত্রীত্বে 'পশ্চিমবঙ্গ লোকায়ুক্ত বিল'-এর যাত্রা শুরু। এর পনের বছর পর ২৪ জুলাই রাজ্য বিধানসভায় 'পশ্চিমবঙ্গ লোকায়ুক্ত (সংশোধন) বিল, ২০১৮' পাস করানো হয়। এই বিলেই মুখ্যমন্ত্রীকে লোকায়ুক্তের যে কোনও ধরনের তদন্ত ও নজরদারির বাইরে রাখা হয়েছে। বিচারপতি সমরেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, 'লোকায়ুক্তের শক্তিকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে।'
তিনি আরও জানিয়েছেন, 'একদিকে সরকার আপনাকে আওয়াজ তোলার ক্ষমতা দিচ্ছে, যে কোনো উচ্চপদস্থ সরকারি কর্তা বা এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর ক্ষমতা দিচ্ছে। অথচ, অন্যদিকে আপনার সেই ক্ষমতাকে খর্বও করে দেওয়া হচ্ছে। যতক্ষণ না পর্যন্ত শক্তিশালী লোকায়ুক্ত হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত শক্তিশালী গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখার কোনও মানে হয় না।'
যে সাত বিচারপতি ইউপিএ জামানায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-এর সামনে লোকপাল বিল নিয়ে প্রেজেন্টেশন দিয়েছিলেন, সমরেশ বন্দ্যোপাধ্য়ায় তাঁদের মধ্যে একজন। সমরেশ বন্দ্যোপাধ্যায় সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, 'মনমোহন সিং-এর সঙ্গে দেখা করার পর আমরা আর্জি জানিয়েছিলাম যে প্রধানমন্ত্রীর পদকে লোকায়ুক্ত-এর তদন্তের অধিনে রাখা উচিত। মনমোহন প্রত্যুত্তরে জানিয়েছিলেন, এই নিয়ে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু, প্রধানমন্ত্রীর পদকে লোকপাল-এ আর রাখা যায়নি। কারণ, কেন্দ্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এতে আপত্তি ছিল।'
পশ্চিমবঙ্গে লোকায়ুক্ত হিসাবে নিয়োগের দেড় বছর পরেও দফতর পাননি সমরেস বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এই সময়ে অন্তত ২০০-রও বেশি অভিযোগ তাঁর কাছে জমা পড়েছিল বলে জানিয়েছেন। কিন্তু, লোকপালের পুরমাত্রা প্রযোগ সম্পূর্ণভাবে যে রাজনৈতিক দল এবং শাসক দলের ইচ্ছার উপরে দাঁড়িয়ে রয়েছে বলে মনে করছেন তিনি। আর এটা প্রমাণ করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।












Click it and Unblock the Notifications