বাজপেয়ী, রাধাকৃষ্ণণ, কালামের সঙ্গে মমতার তুলনা করে ভূয়সী প্রশংসা রাজ্যপাল বোসের
গত বছরের ঘটনা। রাজ্যপাল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে ব্যাপক সংঘাত দেখেছিল বাংলার মানুষ। একাধিক ইস্যুতে প্রশাসনিক কাজ নিয়ে তুলেছিলেন প্রশ্ন। তা যে অতীত আজ তা ফের একবার প্রমাণ হল।
রাজভবন নবান্ন সংঘাত আজ অতীত! বরং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার বার্তা শোনা গিয়েছে মন্ত্রীদের মুখে। এমনকি খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা রাজ্যপালের প্রশংসা করে বলেছেন আশা করি আর কোনও সমস্যা হবে না। উনি খুবই ভালো মানুষ। আর এর মধ্যেই বারবার মমতার সঙ্গে দেখা গিয়েছে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে।
এবার প্রশাসনিক প্রধানের ভূয়সী প্রশংসা করতে শোনা গেল রাজ্যের সংবিধানিক প্রধানকে। আজ সোমবার ডি.লিট সম্মানে সম্মানিত হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেন্ট জেভিয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে এই সম্মান দেওয়া হয়।

প্রশংসা শোনা যায় রাজ্যপালের মুখে
আর এরপরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা শোনা যায় রাজ্যপালের মুখে। শুধু তাই নয়, উইনস্টন চার্চিল, মিল্টনদের সঙ্গে এক আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বসান তিনি। শুধু তাই নয়, বাজেপেয়ী, সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন, এপিজে আব্দুল কালামের সঙ্গেও মমতার তুলনা সিভি আনন্দ বোস টানেন এদিন। তিনি বলেন, এতবড় সম্মান পাওয়ার জন্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যোগ্য মহিলা নেত্রী। শুধু রাজনীতিই নয়, মানুষদের কাছ এই সম্মান পেয়েছেন বলেও এদিন মন্তব্য করেছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তাঁর আরও মতে, 'যেসব রাজনীতিবিদ সাহিত্যেও অনন্য নজির রেখেছেন, মমতা তাঁদের মধ্যে অন্যতম'। রাজ্যপালের এহেন মন্তব্যের পাশাপাশি প্রশংসায় একটি গুরুত্বপূর্ণ স্লোক তুলে ধরেন।

শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা
তবে রাজ্যপালের এহেন মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। একজগে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বক্তব্যকে তুলোধনা করেছে বিজেপি এবং সিপিএম। এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, এক মঞ্চে সৌজন্যের খাতিরে যে কেউ বলতে পারে। উনি হাতেখড়ি নিয়েছেন, শিখছেন। আরও শিখবেন। দেখা যাক কী হয়। তবে রাজ্যপালের মন্তব্য মানুষ কতটা শুনবে তা সময়ের উপরেই ছেড়ে দিতে চান বিজেপি নেতা। তবে গত ১১ বছরে রাজ্যের মানুষ যে শিক্ষা নিয়েছে রাজ্যপাল যদি তা শুনতে কিংবা দেখতে পান তাতে আমাদের কিছু করার নেই বলে মন্তব্য শমীক ভট্টাচার্যের।

কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন সিপিএম নেতা
অন্যদিকে রাজ্যপালের মন্তব্যকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, দিল্লির চাপেই হয়তো মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের মধ্যে মনোভাব বদলেছে। একে অন্যের প্রশংসা করছে বলে মত বাম নেতার। শুধু তাই নয়, তবে রাজ্যপালকে আমার এতটুকুই বলার, ডিলিট পেয়েছেন ভাল কথা। উনি কিন্তু পিএইচডিও পেয়েছেন নিজের যোগ্যতায়। যদিও পরে দেখা যায় সেটা ভুয়ো। এমনকি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে যার প্রস্তাবে মুখ্যমন্ত্রীকে ডিলিট দেওয়া হয়েছিল সে এখন জেলে রয়েছে বলে দাবি সুজন চক্রবর্তীর।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাম্মানিক ডি-লিট প্রদান
বলে রাখা প্রয়োজন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাম্মানিক ডি-লিট প্রদান করল সেন্ট জেভিয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয়। রবিবার তাঁর হাতে সাম্মানিক ডি-লিট তুলে দিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। সেন্ট জেভিয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্মানিক ডি-লিট প্রদানের পর এই সম্মানের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। আর সেই অনুষ্ঠানেই উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল আনন্দ বোস












Click it and Unblock the Notifications