WB Assembly Ruckus: বিজেপির ২ বিধায়ককে মার্শাল ডেকে বের করে দিলেন স্পিকার, তর্কাতর্কির 'বেনজির' শাস্তি!
West Bengal Assembly Ruckus: সোমবার সপ্তাহের প্রথম দিনেই বিজেপির বিক্ষোভে ধুন্ধুমার বিধানসভায়। মার্শাল ডেকে বিজেপির ২ বিধায়ককে বিধানসভার কক্ষ থেকে বের করে দিলেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। বেনজির ঘটনার সাক্ষী থাকল বিধানসভা। বিজেপির মনোজ ওঁরাও ও শঙ্কর ঘোষকে বিধানসভা থেকে মার্শাল ডেকে বের করে দিলেন স্পিকার। একইসঙ্গে সাসপেন্ড করে দেওয়া হল বিজেপি বিধায়ক দীপক বর্মনকেও।
ঠিক কী হয়েছিল বিধানসভায়?
জানা গিয়েছে, বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়েরর সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েছিলেন অধ্যক্ষ। তুমুল তর্কাতর্কি হয় দুই পক্ষের। সূত্রের খবর, হিরণ অভিযোগ করেন রাজ্য সরকারের গঠিত পাবলিক সার্ভিস কমিশন কোনও কাজই করে না। শেষ ১০ বছরে ওই কমিশন কোনও কাজ করছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। এরপরই হিরণ প্রশ্ন করেন, এত টাকা খরচ করে তৈরি কমিশনকে কেন কাজ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।

অধ্যক্ষ পাল্টা বলেন, হিরণের বলায় কোনও লাভ নেই। হিরণকে এক্তিয়ার স্মরণ করিয়ে দেন বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই হিরণ পাল্টা বলেন, এই মন্তব্যের অধিকার স্পিকারের নেই। তিনিও বিধায়ক, স্পিকারও বিধায়ক, কাজেই স্পিকারেরও নির্দিষ্ট ক্ষমতা রয়েছে বলে জানান হিরণ। অভিযোগ, হিরণের ওই মন্তব্যের পরই তাঁর মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রতিবাদে বিধানসভার ভেতরে স্লোগানে মুখরিত হন বিজেপি বিধায়করা।
সরাসরি অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন বিজেপি বিধায়করা। এর মাঝেই তৃণমূলের এক বিধায়ককে বলার নির্দেশ দেন স্পিকার। ওদিকে বিজেপি বিধায়কদের স্লোগান চলতেই থাকে। স্লোগানের নেতৃত্বে ধাকা বিজেপি বিধায়ক মনোজ ওঁরাও ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন স্পিকার। চার জন মার্শালকে ডেকে বিরোধী শিবিরের দুই বিধায়ককে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন স্পিকার।
প্রতিবাদে তাঁদের সঙ্গে বাকি বিজেপি বিধায়করাও বেরিয়ে যান। এমনকী বিধানসভার কার্যবিবরণী-সহ সমস্ত কাগজ উড়িয়ে দেন বিজেপি বিধায়করা। তখন রেগে গিয়ে বিজেপি বিধায়ক দীপক বর্মনকে সাসপেন্ড করার কথা ঘোষণা করেন স্পিকার। চলতি অধিবেশনের জন্য দীপক বর্মনকে সাসপেন্ড করেন তিনি।
এপ্রসঙ্গে বিজেপির বিধানসভার মুখ্য সচেতক তথা শিলিগুলির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী বলেন খেলা হবে, কিন্তু ফাঁকা মাঠে খেলতে পছন্দ করছেন মুখ্যমন্ত্রী। জনগণের হয়ে বলতে গিয়েছিলাম, সেটারই শাস্তি দিয়েছে। দুষ্কৃতী দিয়ে রাজ্য চলছে, তারই প্রতিচ্ছবি দেখা যাচ্ছে বিধানসভার ভেতরেও।"
এদিকে ১৮ তারিখ পর্যন্ত বিধানসভায় সাসপেন্ডেড বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তবে সোমাবর বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠকে যোগ দেন শুভেন্দু। সেখানে বৈঠকের পরই পরবর্তী পদক্ষেপের কথা জানাবে বিজেপি। সূত্রের খবর, স্পিকারের বিরুদ্ধে ১৮ তারিখের পর বারুইপুর অভিযানের ডাক দেন শুভেন্দু।
এদিন বৈঠকের আগে শুভেন্দু বলেন, "দীপক বর্মনকে সাসপেন্ডের অর্থ রাজবংশীদের উপর আক্রমণ। রাজবংশী সমাজ এর জবাব দেবে। হিন্দুদের উপর আক্রমণ হয়েছে। স্পিকার সম্পূর্ণরূপেই মমতার ক্যাডার। পক্ষপাতদুষ্ট স্পিকার।"












Click it and Unblock the Notifications