মোবাইল ফোন চাই, খাটে ঘুমাবেন, জেলের মধ্যেই বায়না জুড়েছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক
প্রেসিডেন্সি জেলে রয়েছেন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। কিন্তু কিছুতেই জেলের জীবন মানতে পারছেন না। শুরু হয়ে গিয়েছে তার আবদার। নাছোরবান্দা হয়ে উঠেছেন তিনি। রেশন বণ্টন দুর্নীতি কাণ্ডে গ্রেফতার হয়েছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। কিন্তু তার বায়না, আবদার জেল কর্তৃপক্ষ মেনে নিতে নারাজ।
১৬ তারিখ পর্যন্ত জেল হেফাজতে তাকে রাখা হবে। এরপর আদালতে তোলা হবে মন্ত্রীকে। জেল জীবন দীর্ঘ হতে চলেছে। এমনই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এদিকে চার দেওয়ালের নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে কিছুতেই নিজেকে শান্ত রাখতে পারছেন না মন্ত্রী। প্রথমে বলেছিলেন৷ তিনি জেলে মোটেও থাকতে চাইছেন না। তাকে হাসপাতালে পাঠানো হোক।

যদিও সেই কথায় যে চিঁড়ে ভিজবে না। তাও তিনি ভালো করে জানতেন। এবার আরও একাধিক বায়না মন্ত্রী শুরু করেছেন। মন্ত্রীর মোবাইল ফোন কার্যত নিত্য সঙ্গী। তিনি সেই মোবাইল ফোন চেয়েছেন জেলের মধ্যে। জেল কর্তৃপক্ষের কাছে কার্যত আবদার করছেন মন্ত্রী। কিন্তু কোনও কয়েদি, বিচারাধীন বন্দি মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারেন না। জেলের মধ্যে তাই সেই দাবি মানা হয়নি।
প্রথম দিন কম্বল বিছিয়ে মাটিতে শুয়েছিলেন। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মাটিতে শোওয়ার অভ্যাস নেই। পরদিন থেকেই মাটিতে না শোয়ার কথা বলছেন তিনি। তার খাট বিছানা প্রয়োজন। তিনি পহেলা ২২ ওয়ার্ডে সাত নম্বর সেলে রয়েছেন। সেখানে খাট ও বিছানা বালিশ রাখতে হবে। তা না হলে মন্ত্রী ঘুমাতে পারছেন না। এই কথাও সূত্র মারফত বাইরে এসেছে।
বাড়ির খাবার বন্ধ মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের। প্রেসিডেন্সি জেল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছে, জেলে ডায়েট চার্ট অনুযায়ী খাবার করা সম্ভব। সেই মতো জেলের খাবার দেওয়া শুরু হয়েছে মন্ত্রীকে। কিন্তু সেই খাবার কতটা তার মুখে রুচেছে? সেই প্রশ্ন রয়েছে। মন্ত্রী বাড়ির খাবার ছাড়া খুব একটা কিছু খেতে চাইছেন না। জল ছাড়াই ওষুধ খাবেন বলে জেদও ধরেছিলেন। প্রেসিডেন্সি জেলে পৌঁছানোর পর থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে তার একাধিক বায়না।
আরেক প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ২ নম্বর সেলে রয়েছেন। তিনিও শুরুর দিকে এইরকম একাধিক বায়না আবদার করেছিলেন। তার চপ মুড়ি খাওয়ার আবদারে কার্যত নাজেহাল হয়ে উঠেছিল জেল কর্তৃপক্ষ। আদালতে বিচারকের সামনেও তিনি একাধিক আবেদন করেছিলেন। যদিও পরবর্তীকালে জেলের জীবন প্রায় মানিয়ে গুছিয়ে নিয়েছেন তৃণমূলের প্রাক্তন মহাসচিব।
তাহলে মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক কি একইভাবে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পথগামী হবেন? ওয়াকিবহাল মহল সে কথাই মনে করছে। জেলের জীবন প্রথমদিকে মানতে যথেষ্ট সমস্যা হয়। যদিও সেই জীবনে মেনে নিতে হয়। মন্ত্রীও হয়তো ধীরে ধীরে সেই জীবনে অভ্যস্ত হয়ে উঠবেন।












Click it and Unblock the Notifications