ধর্মের ভিত্তিতে নয়, কর্মের ভিত্তিতে ভোট হবে, সংহতি মিছিলের মঞ্চ থেকে ডাক অভিষেকের
পার্ক সার্কাসের মঞ্চ থেকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে বিঁধলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মুখে উঠে এল কেন্দ্রের বঞ্চনার কথা। ধর্মের রাজনীতিতে দেশ শাসনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুললেন অভিষেক।
ধর্মের ভিত্তিতে নয়। কাজের ভিত্তিতে ভোট হবে। এমনই বার্তা দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। বাংলা গত পাঁচ বছর ধরে বঞ্চনার শিকার। কারণ, কেন্দ্রীয় সরকার বঞ্চনা করেছে এই রাজ্যের সঙ্গে। একশো দিনের কাজের টাকা থেকে অন্যান্য প্রকল্পের টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্র।

সংহতি মিছিলের শেষে পার্ক সার্কাসে সভার আয়োজন করা হয়। মিছিল শেষে তৃণমূল নেত্রী পৌঁছন সভামঞ্চে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখতে পাওয়া যায় সভামঞ্চে উঠতে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে তিনি আসন গ্রহণ করেন। অন্যান্য ধর্মের প্রতিনিধিরা তাঁদের বক্তব্য রেখেছেন। এরপর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তব্য পেশ করেন।
রাম মন্দির আজ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাই নিয়ে দেশজুড়ে উৎসবের মেজাজ রয়েছে। রাম মন্দির ইস্যুতে একটি কথাও বলেননি অভিষেক। তবে তাঁর বক্তব্যের আগাগোড়া বিজেপিকে আক্রমণ করতে দেখতে পাওয়া গিয়েছে।
অভিষেক বলেন, একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে ঘিরে ভেদাভেদ দেশে চলছে। এদিকে বাংলায় ধর্মীয় সংহতি যাত্রা হচ্ছে। এই ঘটনা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অত্যন্ত গর্বের। গরিবদের বঞ্চিত করে ধর্ম নিয়ে বিভাজন করা হচ্ছে। এমনই অভিযোগ করেছেন অভিষেক।
এদিন সামান্য সময় তিনি বক্তব্য রাখবেন। আগেই এই কথা জানিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বক্তব্যের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিজেপির প্রতি ক্ষোভ ধরা পড়েছে। তিনি বাড়িতে ধর্মীয় চর্চা করবেন। ২০১৯ সালের থেকে বাংলা নিপীড়িত লাঞ্ছিত শোষিত হয়ে রয়েছে। কারণ, এটি রাজনৈতিক দল বাংলায় জিততে পারেনি। নাম না করে এদিন কটাক্ষ করলেন অভিষেক।
বাংলা থেকে গত পাঁচ বছরে ৪ লক্ষ ৬৪ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ে গিয়েছে। এদিকে রাজ্যের পাওনা টাকা দিচ্ছে না বিজেপি সরকার। ১০০ দিনের কাজের টাকা, আবাসের টাকা, রাস্তার টাকা বন্ধ করে রেখেছে মোদী সরকার।
তিনি নিজে একজন হিন্দু। তাঁর ধর্মীয় চর্চা বাড়িতে হবে। তাঁর পরিচয় তিনি মানুষের দ্বারা নির্বাচিত জন প্রতিনিধি। কাজেই মানুষদের সেবা করাই এখন অন্যতম প্রধান ধর্ম। মঞ্চ থেকে এমনই দাবি করেছেন অভিষেক। ধর্মীয় উস্কানি দিয়ে মানুষকে ভুল বোঝানো হচ্ছে। আগামী দিনে ভোট ধর্মের ভিত্তিতে নয়, কর্মের ভিত্তিতে দিতে হবে। এই বার্তা দিলেন অভিষেক।
গণতন্ত্রে শেষ কথা বলে মানুষ। কোনও রাজনৈতিক নেতা প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপাল, রাষ্ট্রপতি নন। মানুষই সর্বশেষ কথা বলে আসবে গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোতে। সেই কথাই আরও জোর দিয়ে বললেন অভিষেক।












Click it and Unblock the Notifications